Logo

১০ ভাদ্র ১৪৩৩

×

Follow Us

জো ফেলজের মৃত্যু নিয়ে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি

খোঁজ-খবর

জো ফেলজের মৃত্যু নিয়ে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি

Icon

সাঈদ হাসান

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২০ পিএম

জো ফেলজ সম্পর্কে আগে খুব বেশি জানতাম না। কিন্তু তার অকাল মৃত্যুর পর থেকে যত বেশি জানতে পারছি, ততই আমার কাছে স্পষ্ট হচ্ছে যে তার কাজ কিছু ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি তাই গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

জো প্রাচীন যুগের গুরুত্বপূর্ণ বহু গ্রন্থের একটি বিশাল ডিজিটাল আর্কাইভ অপরিবর্তিত অবস্থায় উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যাতে বিশ্বের মানুষ সেগুলো দেখতে ও সংরক্ষণ করতে পারে। এর মধ্যে ছিল বাইবেলের পুরোনো ও হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন সংস্করণ, বিশেষ করে অ্যাপোক্রিফা-সংবলিত পাণ্ডুলিপি, ফ্রিম্যাসনরি-সংক্রান্ত বই এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন রচনা। পাশাপাশি ফ্রি এনার্জি বা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ কীভাবে সম্ভব—এ-সংক্রান্ত বইও ওই আর্কাইভে থাকার কথা ছিল।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত ৩ আগস্ট—অর্থাৎ তার মৃত্যুর মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগেও—তিনি এই আর্কাইভ প্রকাশের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। অথচ তিনি ঠিক কীভাবে মারা গেলেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এর আগে জো নিজেই বলেছিলেন, তার যদি ‘হঠাৎ কিছু হয়ে যায়’, তাহলে যেন অনুসন্ধান থেমে না থাকে। অর্থাৎ তিনি নিজেই বুঝতে পারছিলেন, তিনি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে হাত দিয়েছেন। সৌভাগ্যবশত, তিনি জানিয়েছিলেন যে তার কিছু হয়ে গেলেও তথ্যগুলো যাতে জনসমক্ষে আসে, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

জো ফেলজকে হঠাৎ মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে ‘ফাউল প্লে’র সন্দেহ করছেন অনেকে। সেই সন্দেহের পেছনেও কিছু কারণ রয়েছে। বিভিন্ন ভিডিওতে তিনি দাবি করেছিলেন, বাইবেলের প্রাচীন সংস্করণগুলোতে আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্রের কোনো উল্লেখ নেই; বরং সেখানে ফিলিস্তিনের উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ‘ইসরায়েল’ শব্দটি কোনো রাষ্ট্রকে নয়, বরং একটি জনগোষ্ঠী বা বনি ইসরাইলকে নির্দেশ করে। তার এই ব্যাখ্যাগুলো যদি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে প্রচলিত অনেক বয়ানের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে—এমনটাই মনে করেন তার অনুসারীরা।

জো ফ্রি এনার্জি বা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও সরব ছিলেন। এ ক্ষেত্রেও তিনি প্রচলিত শিল্পব্যবস্থা ও স্বার্থগোষ্ঠী নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার সমর্থকদের দাবি, এ ধরনের বিষয় নিয়ে গভীর অনুসন্ধানে যারা নামেন, তাদের অনেকের পরিণতিই রহস্যে ঘেরা হয়ে থাকে।

আমার কাছে এটাও কাকতালীয় বলে মনে হয় না যে, জো ফেলজ যেসব বিরল ও দুর্লভ গ্রন্থের মুক্ত ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন, ঠিক একই সময়ে বিভিন্ন এআই কোম্পানি বিপুল পরিমাণে সেই ধরনের বই সংগ্রহ করছে, সেগুলোর ডিজিটাল কপি তৈরি করছে, বাঁধাই খুলে ফেলছে এবং পরে মূল কপিগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে—এমন অভিযোগও বিভিন্ন মহলে রয়েছে।

আমার আশঙ্কা, ইতিহাসকে নতুনভাবে লিখতে বা পুরোনো ইতিহাস মুছে ফেলার একটি প্রবণতা কাজ করছে। আর যে কেউ এই প্রক্রিয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, সে স্বাভাবিকভাবেই বড় একটি টার্গেটে পরিণত হতে পারে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক মিলিয়ে জো ফেলজের অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখেরও বেশি।

অনেকের ধারণা, অত্যন্ত প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠী জোকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তার বহু অনুসারী তার বান্ধবীকেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন। জোর ভিডিওগুলোর মন্তব্যে দেখা যাচ্ছে, অনেকে তাকে সম্ভাব্য ‘এরিকা কার্ক’ ধরনের একজনের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের দাবি, তিনি নাকি জোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এবং বলছেন, জো নিজেই নাকি তিনি যা বলতেন, তা পুরোপুরি বুঝতেন না। আমি এসব বিষয়ে কোনো নিশ্চিত দাবি করছি না; কেবল তার অনুসারীদের মধ্যে প্রচলিত আলোচনার কথাই উল্লেখ করছি।

এ ছাড়া আরেকটি বিষয় অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পেরেজ হিলটনের আলোচিত সেলফ-হার্ম ভিডিও প্রকাশের আগে তার সর্বশেষ পোস্টটি ছিল জো ফেলজকে নিয়ে। ঘটনাগুলোর এই ধারাবাহিকতা অনেকের কাছেই কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

আমি চাই, জো ফেলজের রেখে যাওয়া বিকল্প পরিকল্পনা কার্যকর হোক এবং তিনি যে দুর্লভ গ্রন্থগুলোর মুক্ত ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তা সবার সামনে আসুক। প্রাচীন, অবিকৃত গ্রন্থ মানবজাতির সম্মিলিত ঐতিহ্য। সেগুলোতে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত।
জো ফেলজের আত্মার শান্তি কামনা করি।

মন্তব্য করুন

Logo