ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সংহতি
কাভার স্টোরি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং পরিবেশবাদী উদ্ভাবক ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন ও বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং এর জেরে পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ২০ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় ভারতের তরুণ সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এ আন্দোলনে পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, শিক্ষাবিদ, শিল্পী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সংহতি জানান। আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অনশন শুরু করেন পরিবেশবাদী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক। এক পর্যায়ে দিল্লি পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলেও তিনি অনশন অব্যাহত রাখেন।
সংগঠনটির দাবি, ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচিতে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিপুল জনসমাগম হয়। দিল্লিতে সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয় এবং পরে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। পরে আন্দোলনকারীরা পুনরায় যন্তর-মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যন্তর-মন্তরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বলপ্রয়োগ, গণগ্রেপ্তার এবং অবস্থানস্থল ভেঙে দেওয়ার ঘটনা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহারের সমালোচনা করা হয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ভাষ্য, কোনো রাষ্ট্র যদি শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় এবং ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের ওপর দমন-পীড়ন চালায়, তবে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আঞ্চলিক জনগণের নৈতিক দায়িত্ব বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি অবিলম্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের বলপ্রয়োগ ও আইনি হয়রানি বন্ধ, আটক শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের মুক্তি এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানায়। পাশাপাশি অনশনরত সোনম ওয়াংচুক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতির শেষে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, তরুণ ও অধিকারকর্মীদের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
মন্তব্য করুন

