ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত
নিরাপদ হোক সকলের বিশ্বাস
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫১ এএম
কোনো মানুষ সন্ধ্যায় ঘর থেকে বের হওয়ার আগে যদি নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের কথা ভেবে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হন, কোনো পরিবার উৎসবের রাতে উপাসনালয়ের সামনে পুলিশ থাকবে কি না জেনে নিতে চায়, কোনো মা যদি সন্তানের গলায় থাকা ধর্মীয় চিহ্নটি পোশাকের নিচে লুকিয়ে দিতে চান, তখন বিষয়টি শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার মধ্যে আটকে থাকে না। সামনে আসে নাগরিক হিসেবে সমান মর্যাদা, জীবনের নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার এবং রাষ্ট্রের ওপর আস্থার প্রসঙ্গ। ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা। সেই বিশ্বাসের কারণে কারও জীবন অনিরাপদ হয়ে উঠলে আঘাত শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সমান নাগরিকত্বের ধারণাকেই দুর্বল করে।
আজ ২২ আগস্ট, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে সহিংসতার শিকার মানুষদের স্মরণে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস। ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ দিনটিকে ‘International Day Commemorating the Victims of Acts of Violence Based on Religion or Belief’ হিসেবে ঘোষণা করে। দিবসটির উদ্দেশ্য নিহত ও নির্যাতিত মানুষকে স্মরণ করার পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ব্যক্তি, পরিবার, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও উপাসনালয়ের ওপর আক্রমণ ঠেকাতে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব সামনে আনা। ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টিও জাতিসংঘ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দিনটির তাৎপর্য আরও বেড়েছে। ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংগঠনটির হিসাবে, ৪০টি ঘটনায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৬২টি; বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৪৭টি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি দখল, জোরপূর্বক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল এবং কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনাও তাদের প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।
পরিসংখ্যানগুলো একটি অধিকার সংগঠনের পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ মাধ্যম থেকে সংগৃহীত তথ্যনির্ভর। ফলে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃতি আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। কোথাও ধর্মীয় বিদ্বেষ হামলার প্রধান কারণ হতে পারে, কোথাও জমি দখল, রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, চাঁদাবাজি ও স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় যুক্ত থাকতে পারে। অপরাধের পেছনে অন্য স্বার্থ থাকলেও সংখ্যালঘু পরিচয় কাউকে যদি সহজ লক্ষ্য করে তোলে, মানবাধিকারের আলোচনায় সেই বাস্তবতা উপেক্ষিত থাকতে পারে না।
বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন, গুজব, কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু মানুষের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা হয়েছে। অনেক ঘটনায় একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর তার দায় পুরো সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজনের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আক্রান্ত হয়েছে একটি পাড়া, একজনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো অভিযোগের পর ভাঙচুর হয়েছে বহু পরিবারের ঘর। আইনের পরিবর্তে জনতা যখন শাস্তিদাতার ভূমিকা নেয়, তখন রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
সহিংসতার পেছনে কয়েকটি প্রবণতা বিশেষভাবে উদ্বেগের। প্রথমত, বিচারহীনতার ধারণা। হামলাকারীরা যদি ধরে নেয় কয়েক দিন আলোচনা চলবে, এরপর ঘটনা মানুষের মন থেকে মুছে যাবে, তাহলে পরবর্তী অপরাধের সাহস বাড়ে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ। সংখ্যালঘু পরিবারের জমি, ব্যবসা ও বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় উত্তেজনা ব্যবহারের অভিযোগ বহু বছর ধরেই সামনে আসছে। তৃতীয়ত, গুজবের দ্রুত বিস্তার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি সম্পাদিত ছবি, পুরোনো ভিডিও, ভুয়া স্ক্রিনশট কিংবা মিথ্যা পোস্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে পারে। চতুর্থত, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। নাগরিকের রাজনৈতিক পছন্দ তার ব্যক্তিগত অধিকার। ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে দলীয় পরিচয় জুড়ে পুরো জনগোষ্ঠীকে বিচার করা বৈষম্য ও প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি করে।
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ক্ষতি নিহত, আহত কিংবা ধ্বংস হওয়া স্থাপনার সংখ্যায় পুরোপুরি ধরা পড়ে না। একটি মন্দির, গির্জা, বৌদ্ধবিহার, আহমদিয়া উপাসনাস্থল কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার পর আশপাশের বহু মানুষ নিজেদের অনিরাপদ ভাবতে শুরু করেন। একটি বাড়ি পুড়লে পাশের বাড়ির শিশুটিও ভয় পায়। একটি পরিবারের জমি দখল হলে একই সম্প্রদায়ের অন্য পরিবার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়। সেই ভয় মানুষের চলাফেরা, শিক্ষা, ব্যবসা, সামাজিক সম্পর্ক ও উৎসব পালনের স্বাধীনতাকে ধীরে ধীরে সংকুচিত করে।
নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে প্রভাব আরও গভীর। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময় যৌন সহিংসতা নারীকে অপমান করার পাশাপাশি একটি সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। শিশুর মনে দীর্ঘদিন ভয় থেকে যায়। কোনো পরিবার এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়, ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে, জমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যায়। ফলে এক দিনের হামলার ক্ষত বহু বছর ধরে পরিবার, সমাজ ও পরবর্তী প্রজন্ম বহন করে।
বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিক সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে। অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। অনুচ্ছেদ ২৮ ধর্মের কারণে নাগরিকের প্রতি বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। অনুচ্ছেদ ৪১ প্রত্যেক নাগরিককে নিজ ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচারের অধিকার দিয়েছে এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার অধিকার দিয়েছে। ফলে সংখ্যালঘু নিরাপত্তাকে কোনো সরকারের দয়া, রাজনৈতিক সদিচ্ছা কিংবা উৎসবের সময় বাড়তি পুলিশ মোতায়েনের মধ্যে সীমিত রাখার সুযোগ নেই। বিষয়টি সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমদিয়া, বাহাই, আদিবাসী ধর্মবিশ্বাসী, ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ, এমনকি কোনো ধর্মে বিশ্বাস না করা নাগরিকও রাষ্ট্রের সমান সুরক্ষার অধিকারী। সংখ্যায় কম হওয়া কারও নাগরিক মর্যাদা কমিয়ে দেয় না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোও ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দিয়েছে। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৮ অনুচ্ছেদ চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, ICCPR-এর ১৮ অনুচ্ছেদ ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা রক্ষা করে। একই চুক্তির ২৭ অনুচ্ছেদ ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নিজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে ধর্ম পালন ও চর্চার অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর দেয়।
কাগজে অধিকার লিখিত থাকা যথেষ্ট হয় না, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার কার্যকর উপস্থিতি প্রয়োজন। পুলিশের দায়িত্ব হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর মধ্যে শেষ হতে পারে না। আগাম ঝুঁকি শনাক্ত করা, গুজব ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রকাশ, ঝুঁকিপূর্ণ উপাসনালয় ও জনপদে সুরক্ষা জোরদার, মামলা গ্রহণে ভুক্তভোগীকে সহায়তা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগীর আস্থা নষ্ট করে। দ্রুত তদন্ত বলতে তাড়াহুড়া বোঝায় না। পেশাদার তদন্ত, সাক্ষীর নিরাপত্তা, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আইনি সহায়তা এবং নির্ধারিত সময়ে বিচার সম্পন্ন করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার নামে হয়রানির হাত থেকেও সুরক্ষা দিতে হবে। মানবাধিকার রক্ষায় অপরাধীর জবাবদিহির পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের অধিকার সমান গুরুত্ব পায়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শুধু উৎসবের দিনে ফুল নিয়ে উপাসনালয়ে যাওয়া, আন্তধর্মীয় সভা আয়োজন কিংবা সৌহার্দ্যের বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে টিকে থাকে না। তার আসল পরীক্ষা ঘটে উত্তেজনার সময়ে। গুজব ছড়ালে স্থানীয় জন প্রতিনিধি কী ভূমিকা নেন, জনতা জড়ো হলে পুলিশ কত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, রাজনৈতিক দল নিজের কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কী পদক্ষেপ নেয়, ধর্মীয় নেতা মানুষের সামনে কী বক্তব্য দেন, প্রতিবেশী আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান কি না, এসব আচরণের মধ্যেই সমাজের নাগরিক চরিত্র প্রকাশ পায়।
সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য জাতীয় পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা দরকার। প্রতিটি ঘটনার ধরন, মামলা, তদন্ত, অভিযোগপত্র ও বিচারের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসন, পুলিশ, জন প্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, নারী প্রতিনিধি ও তরুণদের নিয়ে দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো ডিজিটাল কনটেন্ট যাচাইয়ে পুলিশের বিশেষ সক্ষমতা বাড়াতে হবে, একই সঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। উপাসনালয়ে হামলা ও ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রসূত অপরাধের তদন্তে বিশেষ নির্দেশিকা, ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত উপাসনালয় ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ, সাক্ষী সুরক্ষা এবং বিনা খরচে আইনি সহায়তার কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের কর্মীদের সাম্প্রদায়িক উসকানি ও হামলার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। স্কুলের পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় বৈচিত্র্য, নাগরিক সমতা ও মানবাধিকারের বিষয় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা দরকার। সংবাদ মাধ্যমকে যাচাইহীন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে একটি অভিযোগকে ঘিরে পরিবার কিংবা সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের পরিবেশ তৈরি না হয়।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দরকার আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। সংখ্যালঘু মানুষকে প্রথমে নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলা কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের পক্ষ নেওয়ার বিষয় না, সমান নাগরিকত্বের পক্ষে অবস্থান। একটি মন্দিরে আগুন, একটি গির্জায় হামলা, একটি বৌদ্ধবিহার ভাঙচুর কিংবা কোনো পরিবারের ঘর পুড়িয়ে দেওয়া পুরো রাষ্ট্রের সমতার অঙ্গীকারকে আহত করে।
২২ আগস্ট তাই শুধু স্মরণের দিন হয়ে থাকলে তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না। নিহত মানুষের নাম স্মরণ করার পাশাপাশি জীবিত মানুষের ভয় দূর করার দায়িত্বও নিতে হবে রাষ্ট্রকে। এমন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে নিজের ঘর, জমি, ব্যবসা, উপাসনালয় কিংবা জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হবে না; উপাসনালয়ের সামনে নিরাপত্তা বেষ্টনীর চেয়ে প্রতিবেশীর উপস্থিতিই হয়ে উঠবে মানুষের সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা।
মানুষের প্রার্থনার ধরন আলাদা হতে পারে, ঈশ্বরের নাম আলাদা হতে পারে, বিশ্বাসের পথও পৃথক হতে পারে। তার জীবন, ঘর, সন্তান, মর্যাদা ও নিরাপত্তার মূল্য অন্য নাগরিকের চেয়ে এক বিন্দুও কম না। ধর্মীয় সহিংসতার শিকার মানুষদের স্মরণ করতে হবে। তবে শুধু শোক প্রকাশ যথেষ্ট নয়। এমন রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আক্রান্ত হবে না। আগামী ২২ আগস্ট স্মরণের তালিকায় যেন আর কোনো নতুন নাম যুক্ত না হয়।
মন্তব্য করুন

