Logo

৯ ভাদ্র ১৪৩৩

×

Follow Us

মক্কা চুক্তি'র প্রেক্ষিতে আরও বিকশিত হবে ইন্ডিয়া-ইসরাইল সম্পর্ক

দশদিগন্ত

মক্কা চুক্তি'র প্রেক্ষিতে আরও বিকশিত হবে ইন্ডিয়া-ইসরাইল সম্পর্ক

জেরুজালেম পোস্টে প্রকাশিত হার্ব কেইনন -এর বিশ্লেষণ

সাঈদ হাসান

সাঈদ হাসান

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

গত ৬ আগস্ট, আচমকাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বার্তা পোস্ট করে জানান যে, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একটি ফোন পেয়েছেন এবং তাঁরা "পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতামত বিনিময় করেছেন।" তিনি আরও লেখেন, "আমরা ইন্ডিয়া-ইসরাইল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছি, যা ক্রমাগত শক্তিশালী থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।"

মোদী বার্তাটি ইংরেজি এবং হিব্রু দুই ভাষাতেই পোস্ট করেন এবং নেতানিয়াহু তা রিপোস্ট করেন। এর পেছনের মূল প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয় পরের দিন, শুক্রবার। সেদিন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি ব্যাপক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যাকে চুক্তি সম্পাদনের স্থান অনুযায়ী 'মক্কা চুক্তি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু ও মোদীর মধ্যকার ফোনালাপে এই আসন্ন চুক্তিটি যে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল না, তা ভাবা কঠিন। শুক্রবার চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসলেও, জেরুজালেম এবং নয়া দিল্লি নিশ্চিতভাবেই আগে থেকে জানত যে, একটি বড় ধরনের নিরাপত্তাগত পুনর্গঠন ঘটতে যাচ্ছে। নেতানিয়াহু ও মোদী যখন "পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী" নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তাঁরা বস্তুত এই অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি তুলে ধরছিলেন।

বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন একটি মার্কিন-নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর স্বপ্ন দেখিয়ে আসছিল, যা ইসরাইলকে সৌদি আরব এবং অন্যান্য বাস্তববাদী আরব দেশগুলোর সাথে একত্রিত করবে। কিন্তু মক্কায় যা ঘটেছে তা সেই ছকের বাইরে। ফলে মোদী ও নেতানিয়াহু নিশ্চিতভাবেই একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ত্রিপক্ষীয় মেরুকরণের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মোদী তাঁর বার্তায় যে ইঙ্গিতটি দিয়েছিলেন তা হলো, "ইন্ডিয়া-ইসরাইল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি।" মক্কা চুক্তির এই ঘোষণাটি সেই অংশীদারিত্বকে পূর্ণ গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ব এভাবেই চলে-একটি পদক্ষেপ আরেকটি প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, যা আবার নতুন জোট বা ব্যবস্থার সৃষ্টি করে।

শুক্রবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে এতে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো একটি ধারা রয়েছে, যার অর্থ যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এটির চমৎকার সারসংক্ষেপ তৈরি করে বলেছে: "যখন কোনো পরাশক্তি বিশৃঙ্খল বা সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়ে, তখন আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের মতো ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।" এখানে পরাশক্তি বলতে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানো হয়েছে এবং তাদের এই ব্যর্থতা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা গেছে ইরানের সাথে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে। কেবল মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের ওপর ভরসা রেখে কাঙিক্ষত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়-এমন উপলব্ধি থেকে সৌদি আরব এখন অন্য বিকল্পের দিকে তাকাচ্ছে।

নিজের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও এবং অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন ঘাঁটির কারণেই ইরানের এবং তাদের প্রক্সিগুলোর তৈরি তান্ডব সহ্য করার পর, আর তার জবাবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তহীনতা দেখার পর-রিয়াদের এই হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। তবে ইসরাইলের দৃষ্টিকোণ থেকে যা গভীরভাবে হতাশাজনক, তা হলো রিয়াদ তাদের নতুন সঙ্গী হিসেবে কাদের বেছে নিয়েছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে হাত মিলিয়ে সৌদি আরব এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো বেছে নিয়েছে, যা জেরুজালেমের দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক কৌশলকে মৌলিকভাবে জটিল করে তোলে।

নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আগেই সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ছিল। পাকিস্তানের সাথে সৌদিদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। দুই দেশের মধ্যে বহু দশক ধরে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং গত বছরও তারা আরেকটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে ইরান কিংবা হুতিদের আক্রমণের মুখে রিয়াদকে রক্ষা করতে সেই চুক্তিগুলো খুব একটা কাজে আসেনি।

সৌদিদের একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির জন্য সুন্নি দেশগুলোকে বেছে নেওয়ার পেছনে নিজস্ব একটি অভ্যন্তরীণ যুক্তি অবশ্যই কাজ করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও বাস্তববাদী সুন্নি দেশগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট জোটের জন্ম দেবে-জেরুজালেমের এই আশাকে পুরোপুরি চুরমার করে দিয়েছে। সৌদিদের চিন্তাভাবনা ছিল ভিন্ন। তারা একটি জোট চেয়েছিল, তবে তা ইসরাইলের সাথে নয়। আর সেখান থেকেই ইসরাইলের এই হতাশা। কিন্তু কেবল হতাশা দিয়ে তো আর নীতি নির্ধারণ হয় না-আর ঠিক এখানেই নেতানিয়াহু-মোদীর ফোনালাপের প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করা যায়।

এই নতুন ত্রিপক্ষীয় জোট আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি রক্ষাকবচ বলে মনে হলেও, ইসরাইলের মতো ইন্ডিয়ার জন্যও-যেটি পাকিস্তানের চরম শত্রু-এটি সমান উদ্বেগের বিষয়। সৌদি অর্থ, তুর্কি প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের এই মেলবন্ধন জেরুজালেমের মতো নয়াদিল্লিতেও সমান শঙ্কা তৈরি করেছে। মোদী-নেতানিয়াহুর ফোনালাপে যে এই চুক্তিটিই প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে এর ঠিক পরপরই ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীতে।

৭ আগস্ট, তুর্কি ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয় যে, ইন্ডিয়া নাকি নতুন সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক অক্ষ মোকাবিলায় ইসরাইলের সাথে একটি পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য জরুরিভিত্তিতে যোগাযোগ করেছে। এই গুঞ্জন এতটাই জোরদার হয়ে ওঠে যে, ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফ্যাক্ট চেক ইউনিট তাৎক্ষণিক বিবৃতি দিয়ে নতুন আনুষ্ঠানিক চুক্তির এই প্রতিবেদনগুলোকে "ভুয়া খবর" বলে খারিজ করে দেয়। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন দিল্লি তুরস্ক-পাকিস্তান-সৌদি চুক্তির "ঘটনাবলী খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।"

এটি একটি সংযত বক্তব্য মাত্র। পাকিস্তানের সামরিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে এমন যেকোনো কাঠামো নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ ইন্ডিয়ার রয়েছে বিশেষ করে ড্রোন এবং অন্যান্য আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ইসলামাবাদকে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে তুরস্কের যে ভূমিকা রয়েছে তা বিবেচনা করলে। তদুপরি, ইসরাইল ও ইন্ডিয়ার জন্য এই উদ্বেগ কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি অর্থনৈতিকও।

সৌদি আরব ভৌগোলিকভাবে ইন্ডিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরের (আইএমইসি) কেন্দ্রে অবস্থান করছে-যা ইন্ডিয়া, পারস্য উপসাগর এবং হাইফা বন্দরকে ইউরোপের সাথে যুক্ত করার জন্য প্রস্তাবিত কোটি কোটি ডলারের এক বিশাল ট্রানজিট নেটওয়ার্ক। তুরস্ককে মূল আইএমইসি রুট থেকে স্পষ্টভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সক্রিয়ভাবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রানজিট প্রকল্পের প্রসার ঘটিয়ে আসছিল।

সৌদি আরবকে কৌশলগতভাবে নিজেদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার মাধ্যমে আঙ্কারা সম্ভবত এমন একটি দেশের ওপর নতুন প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে, যে দেশটি ইন্ডিয়া ও ইসরাইল বছরের পর বছর ধরে গড়ে তুলতে চাওয়া অর্থনৈতিক করিডোরের জন্য অত্যন্ত কেন্দ্রীয়। মক্কা চুক্তি সৌদি-ইসরাইল সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের ইতিমধ্যেই কঠিন পথটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের মতো জেরুজালেমের প্রতি তীব্র শত্রুভাবাপন্ন দুই রাজধানীর সাথে নিজেদের শক্তভাবে বেঁধে ফেলার মাধ্যমে রিয়াদ এমন একটি কৌশলগত কাঠামোতে প্রবেশ করছে, যার অন্য দুই সদস্য আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা ইসরাইলের সাথে যেকোনো সৌদি সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করবে। এর মানে এই নয় যে তুরস্ক বা পাকিস্তানের কাছে সৌদি নীতির ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক ভেটো ক্ষমতা রয়েছে তবে এটি ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে রিয়াদকে যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য দিতে হবে তা অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে সৌদিদের নমনীয় হওয়ার সম্ভাবনাকে এটি আরও কমিয়ে দেয়। এখানে একটি তীব্র আইরনি বা বিদ্রূপ রয়েছে।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেছিলেন যে ইরানের দুর্বল হয়ে পড়া স্বাভাবিকভাবেই ইসরাইলের সাথে বাস্তববাদী আরব দেশগুলোর সম্পর্ককে জোরদার করবে। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ইরানের দুর্বলতা এবং ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার সরাসরি প্রদর্শনী-কিছু আরব দেশকে এখন ইসরাইলি আধিপত্যের আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছে এবং এই জোটটি মূলত সেই আধিপত্যকে প্রতিহত করারই একটি মাধ্যম। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যেমনটা উল্লেখ করেছে, যখন পরাশক্তি ব্যর্থ হয়, তখন আঞ্চলিক শক্তিগুলো বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলে। কেবল তুর্কি, পাকিস্তানি এবং সৌদিরাই চতুর নয়; ইসরাইলও নিজস্ব বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করবে। আমরা এর আগেও এমন চিত্রনাট্য ঘটতে দেখেছি।

২০০৩ সালে রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান ক্ষমতায় আসার পর আঙ্কারার সাথে ইসরাইলের কৌশলগত সম্পর্কের যখন পতন ঘটে, তখন জেরুজালেম নিজেদের নী তি পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য হয়েছিল। এবং তারা সত্যিই তা করেছিল-তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিস ও সাইপ্রাসের সাথে, এবং কিছুটা হলেও বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও জ্বালানি সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। গ্রিস ও সাইপ্রাসের সাথে সেই সম্পর্কগুলোও এখন মক্কা চুক্তির কারণে নতুন গতি পেতে যাচ্ছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুর্কি প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে অ্যাথেন্স ও নিকোশিয়া জেরুজালেমের মতোই সমান চিন্তিত।

আর অন্যদিকে ইন্ডিয়া, তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পাকিস্তানকে দীর্ঘকাল সমর্থন দেওয়া তুরস্ককে আঞ্চলিক বড় ভূমিকা এনে দেওয়ার মতো একটি নতুন কাঠামোর মুখোমুখি হয়ে, ইসরাইলের আরও কাছাকাছি আসার নিজস্ব জোরালো কারণ খুঁজে পেয়েছে।

এটি আমাদের আবার গত বৃহস্পতিবারের নেতানিয়াহু-মোদীর সেই আচমকা ফোনালাপের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সে সময় এটিকে দুটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সাধারণ একটি কূটনৈতিক ফোনালাপ বলে মনে হলেও, ফিরে দেখলে স্পষ্ট হয় যে এটি মক্কা চুক্তির জবাবে তৈরি হতে যাওয়া নতুন কাউন্টার-অ্যালাইনমেন্ট বা পাল্টা-জোটের প্রথম ঝলক মাত্র।

মন্তব্য করুন

Logo