‘শিক্ষা’ আন্দোলন থেকে ‘মোদী হটাও’ বিক্ষোভ: আন্দোলন কোন পথে
শরীফুল ইসলাম
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
ভারতের রাজনীতিতে বহু আন্দোলনের জন্ম হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে। এই উপমহাদেশে আন্দোলনের প্রধানতম ধারাই এটা। ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ছাত্রসমাজ ছিল রাজনৈতিক জাগরণের অন্যতম চালিকাশক্তি। স্বাধীনতার পর জরুরি অবস্থা, দুর্নীতি, সংরক্ষণনীতি, নাগরিকত্ব আইন কিংবা কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলনেও তরুণদের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। কিন্তু সাম্প্রতিক ‘ককরোচ’ আন্দোলনের চরিত্র কিছুটা ভিন্ন। এর জন্ম কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থেকে নয়, কোনো দীর্ঘদিনের সংগঠিত ছাত্রআন্দোলন থেকেও নয়। এর সূচনা হয়েছে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়নব্যবস্থার অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির অভাব নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ থেকে।
প্রশ্নফাঁসের ক্ষোভ থেকে রাজপথের বিস্ফোরণ
ভারতের চলমান ক্ষোভকে নতুন রাজনৈতিক ভাষা দিয়েছে একটি অপমানসূচক উপমা। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যে বেকার ও ক্ষুব্ধ তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মন্তব্যটি অনেক তরুণের কাছে শুধু একটি ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন বক্তব্য হিসেবে ধরা পড়েনি; তারা এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সেই মনোভাব দেখতে পেয়েছে, যেখানে শিক্ষিত বেকার, পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের হতাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে তুচ্ছ করা হয়।
এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া অভিজিৎ দিপকের একটি প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে—যদি দেশের সব ‘ককরোচ’ একত্র হয়, তাহলে কী হবে?
ব্যঙ্গ থেকে জন্ম নেওয়া সেই প্রশ্ন খুব অল্প সময়ের মধ্যে সামজিক মাধ্যমে ব্যপক চর্চিত হয়। কয়েক দিনের মধ্যে বিপুলসংখ্যক তরুণ এই প্রতীকের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেন। পরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘সিজেপি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলে। শুরুতে অনেকে এটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষণস্থায়ী প্রবণতা বলে মনে করলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেটি অনলাইন থেকে রাজপথে নেমে আসে।
ঠিক তখনই সবার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দেয়—এটি কি শুধুই শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আন্দোলন, নাকি ভারতের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক হতাশার বিষ্ফোরণ? আন্দোলনের বিস্তার এবং এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি কিন্তু পরের প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে।
ক্ষোভের উৎস
‘ককরোচ’ আন্দোলনের প্রতীক যতই ব্যঙ্গাত্মক হোক, এর পেছনের সংকট অত্যন্ত বাস্তব। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার গুরুত্ব বিপুল। চিকিৎসাশাস্ত্র, প্রকৌশল, সরকারি চাকরি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেকাংশেই নির্ভর করে জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার ওপর। কোটি কোটি তরুণ বছরের পর বছর কোচিং, প্রস্তুতি ও পারিবারিক বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে এসব পরীক্ষার জন্য নিজেদের তৈরি করেন। একটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে বা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শুধু পরীক্ষার ফল অনিশ্চিত হয় না; অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় লাখো পরিবারের ভবিষ্যৎ।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টিচিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ তৈরি করে। পরীক্ষার নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বারবার একই ধরনের অনিয়ম ঘটলেও দায় নির্ধারণ করা হয় না এবং ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদেরই বহন করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থা কেবল প্রতিযোগিতামূলক নয়, ক্রমেই অনিশ্চিত ও অবিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।
ভারতে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা এমনিতেই অত্যন্ত কঠিন। লাখ লাখ শিক্ষার্থী সীমিতসংখ্যক আসন ও চাকরির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অনেক পরিবার তাদের সঞ্চয়ের বড় অংশ সন্তানের পড়াশোনা ও কোচিংয়ে ব্যয় করে। পরীক্ষার অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হলে শিক্ষার্থীদের আবার প্রস্তুতি নিতে হয়। সময়, অর্থ এবং মানসিক শক্তির ওপর এর গভীর প্রভাব পড়ে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। এটি এমন এক ব্যবস্থাগত সংকট, যেখানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর, যেগুলো বারবার নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এই কারণেই আন্দোলনের প্রথম দিকের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
একটি মন্তব্য এবং অপমানের রাজনৈতিক রূপান্তর
প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ভারতের তরুণদের একটি অংশ মনে করেছিল, দেশের শিক্ষিত বেকার ও হতাশ যুবকদের প্রতি রাষ্ট্র ও ক্ষমতাব্যবস্থার যে অবজ্ঞা দীর্ঘদিন ধরে জমা হচ্ছিল, ওই মন্তব্য যেন তার প্রতীকী প্রকাশ। ‘ককরোচ’ শব্দটি তাই অপমানের সীমায় থাকেনি। তরুণরা শব্দটিকে নিজেদের পরিচয়ের অংশ করে নেয়।
এটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের পুরোনো কৌশল। ক্ষমতাবানরা কোনো জনগোষ্ঠীকে অবমাননাকর নামে চিহ্নিত করলে অনেক সময় সেই জনগোষ্ঠী সেই নামকেই নতুন অর্থ দেয়। অপমানকে প্রতীকে এবং প্রতীককে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে। ‘ককরোচ’ আন্দোলনেও একই ঘটনা ঘটেছে।
তেলাপোকা এমন একটি প্রাণী, যাকে ধ্বংস করা কঠিন বলে মনে করা হয়। এটি প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। তরুণদের কাছে ‘ককরোচ’ তাই দুর্বলতার নয়, টিকে থাকার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তারা বলতে চেয়েছে—রাষ্ট্র যদি তাদের অপ্রয়োজনীয় বা তুচ্ছ মনে করে, তাহলে সেই উপেক্ষিত মানুষই একদিন সংগঠিত শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
এই প্রতীকটি আন্দোলনকে সহজে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে। রাজনৈতিক তত্ত্ব বা দীর্ঘ ইশতেহারের পরিবর্তে একটি সাধারণ প্রতীক তরুণদের দ্রুত যুক্ত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, ব্যঙ্গচিত্র, ভিডিও এবং সংক্ষিপ্ত বার্তার মাধ্যমে আন্দোলনের ভাষা তৈরি হয়েছে। রাজনীতির প্রচলিত ভাষা যেখানে প্রায়ই জটিল, আনুষ্ঠানিক এবং দলীয়, সেখানে ‘ককরোচ’ একটি সহজবোধ্য সাংস্কৃতিক প্রতীক। এটি একই সঙ্গে প্রতিবাদ, ব্যঙ্গ এবং আত্মপরিচয়ের ভাষা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ডিজিটাল ভিত্তি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর সভা, মিছিল এবং সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে তারা নিজেদের মত প্রকাশ করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। ‘ককরোচ’ আন্দোলন এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়েছে।
প্রথমে অনলাইন পোস্ট ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের মাধ্যমে আন্দোলনের পরিচিতি তৈরি হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিবাদের সময়, স্থান ও দাবি প্রচার করা হয়। অনলাইন সমর্থন দ্রুত বাস্তব জনসমাগমে রূপ নেয়। আন্দোলনের সংগঠকেরা দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, নাগপুরসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির বাইরে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজসহ আরও কয়েকটি স্থানে সংহতি কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। এই বিস্তার দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু মত প্রকাশের জায়গা নয়; এটি রাজনৈতিক সংগঠনের একটি কার্যকর মাধ্যমও।
সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনে নতুন নৈতিক শক্তি
আন্দোলনের বিস্তারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
ভারতের লাদাখ অঞ্চলের শিক্ষা ও পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ওয়াংচুক তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেন। তাঁর অনশন আন্দোলনকে শুধু রাজনৈতিক নয়, নৈতিক গুরুত্বও বাড়িয়েছে। কয়েকটি কারণে ওয়াংচুকের উপস্থিতি আন্দোলনের চরিত্র বদলে দেয়।
প্রথমত, তিনি প্রচলিত অর্থে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নন। তাঁর পরিচয় একজন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী হিসেবে। ফলে তাঁর সমর্থন আন্দোলনকে দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি বৃহত্তর নৈতিক বৈধতা দিয়েছে।
শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুকের টানা অনশন এই আন্দোলনের গতি বাড়িয়েছেদ্বিতীয়ত, তাঁর অনশন ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী প্রতীক। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণআন্দোলনে অনশন নৈতিক চাপ তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একজন প্রবীণ ও পরিচিত শিক্ষাবিদ যখন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনশনে বসেন, তখন বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে আবেগ ও উদ্বেগ তৈরি করে।
তৃতীয়ত, ওয়াংচুকের অনশন শিক্ষার সংকটকে শুধু পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। তিনি এটিকে তরুণদের ভবিষ্যৎ, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে নিয়ে গেছেন।
অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানায়। তবু তিনি আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সরকারের কার্যকর সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাঁকে জোর করে যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে তুলে নিয়ে যায়।
ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে সরকার শুধু শিক্ষাবিষয়ক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ছাত্রসংগঠন থেকে সাংস্কৃতিক পরিসর
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এই আন্দোলনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশনের মতো সংগঠনগুলো আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে বা সংহতি জানিয়েছে। এতে আন্দোলনের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত ছাত্রসংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের রয়েছে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি পরিচালনার সক্ষমতা।
অন্যদিকে শিল্পী, অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করেছে। মুম্বাইয়ে আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অভিনেত্রী আয়েশা খানকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে।
আন্দোলনে বলিউড ও সংগীত অঙ্গনের বহু পরিচিত ব্যক্তিত্ব সংহতি প্রকাশ করেছেন। সালমান খান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, নাসিরউদ্দিন শাহ, প্রকাশ রাজ এবং সোনাক্ষী সিনহাসহ ভারতের অনেক শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন। আন্দোলন স্থালে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমী। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি এই আন্দোলনের শক্তি বহুগুণে বাড়িয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ থেকে ‘মোদী হটাও’
আন্দোলনের প্রথম দিকের প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়। কিন্তু আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে দাবির ভাষাও বদলেছে।
প্রতিবাদকারীরা এখন শুধু একজন মন্ত্রীর জবাবদিহি নয়, পুরো সরকারের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের যুক্তি হলো, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট কোনো একক মন্ত্রণালয়ের বিচ্ছিন্ন ব্যর্থতা নয়। এটি সরকারের নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির সংকটের অংশ।
এই পর্যায়ে আন্দোলনের বিভিন্ন অংশে ‘মোদী হটাও’ স্লোগান সামনে এসেছে। এটি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তর। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ছিল নির্দিষ্ট প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্ন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সরকার পরিবর্তনের দাবি সরাসরি ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে।
আন্দোলনকারীরা মনে করছে, পরীক্ষার অনিয়ম, শিক্ষিত বেকারত্ব, চাকরির সংকট এবং তরুণদের হতাশার দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ওপর বর্তায়। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর সমাধান না হওয়ায় সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাইতো, মোদী সরকারের পরিবর্তনের দাবি আন্দোলনে শক্তিশালী রূপ নিয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা
এই পর্যায়ে এসে সরকার বিরোধী দলগুলোও আন্দোলনে সমর্থন জানাতে শুরু করেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিরোধী দলগুলোর অনেকেই আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলনের সমর্থনে সংসদেও বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদ দেখা গেছে।
আন্দোলনে অংশ নেয়ায় আটক হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীবিরোধী দলগুলোর এই অংশগ্রহণের দুটি দিক রয়েছে। একদিকে, এটি আন্দোলনের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ায়। সংসদে কোনো আন্দোলনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে সেটি জাতীয় রাজনীতির অংশ হয়ে যায়। সরকারকে তখন শুধু রাজপথে নয়, সংসদেও জবাব দিতে হয়।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর সম্পৃক্ততা আন্দোলনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নও তৈরি করতে পারে। ক্ষমতাসীন দল বা সরকারের সমর্থকেরা আন্দোলনকে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির পরিকল্পিত কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। এতে আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।
তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিরোধী দলগুলোর সমর্থন গ্রহণ করা আর কোনো দলের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া এক বিষয় নয়। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি সমর্থন জানাতে পারে; কিন্তু আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই থাকবে। এই অবস্থান ধরে রাখাও আন্দোলনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
পুলিশি দমন এবং ক্ষোভের বিস্তার
আন্দোলনের সাম্প্রতিক পর্যায়ে পুলিশি ব্যবস্থা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। দিল্লিতে সংসদমুখী কর্মসূচির সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার এবং আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য ও সরকারের অবস্থান হলো, জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বড় ধরনের জমায়েত বা সংসদমুখী মিছিল নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এক নারী বিক্ষোভকারীকে চড় মারার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়। আন্দোলনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদ দমনে শক্তি প্রয়োগ অনেক সময় সরকারের জন্য উল্টো ফল তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলংকার অভিজ্ঞতা সেই কথাই বলাছে। কোনো আন্দোলন সীমিত পরিসরে থাকলেও পুলিশি দমন বা গ্রেপ্তারের ঘটনা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি বাড়াতে পারে। ‘ককরোচ’ আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এমন আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে, পুলিশি দমন-পীড়নের অভিযোগের পর সেটি এখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের প্রশ্নও তুলছে।
জেন-জি কেন এই আন্দোলনের কেন্দ্রে
ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ এমন একটি বাস্তবতায় বেড়ে উঠেছে, যেখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বেড়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে এবং বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে চাকরির অনিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতার চাপ এবং সামাজিক বৈষম্যও বেড়েছে। তাঁরা শিক্ষিত, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। কিন্তু অনেকের সামনে স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত।
এই প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো একদিকে তারা উচ্চশিক্ষা ও উন্নত জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে বেড়ে উঠেছে; অন্যদিকে তারা এমন এক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, যেখানে ডিগ্রি থাকলেও চাকরির নিশ্চয়তা নেই।
এই হতাশা শুধু ভারতের নয়। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তরুণদের আন্দোলনে একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সংকট তরুণদের রাজপথে নামিয়েছে।
ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলন সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক বাস্তবতার অংশ।
আন্দোলনের তরুণেরা শুধু চাকরি চান না; তাঁরা স্বচ্ছতা, মর্যাদা এবং জবাবদিহিও চান। তাঁদের প্রশ্ন—পরীক্ষার জন্য বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পর যদি প্রশ্নফাঁস হয়, তাহলে দায় কার? পরীক্ষার অনিয়মের কারণে কোনো শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে রাষ্ট্রের দায়িত্ব কী? শিক্ষিত তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকলে উন্নয়নের প্রচলিত দাবির অর্থ কী? এই প্রশ্নগুলোর সহজ কোনো উত্তর সরকারে কাছে নেই।
মোদীর সামনে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা
মোদী সরকার এখন একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। সরকার যদি আন্দোলনকে শুধু বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ক্ষোভকে উপেক্ষা করার ঝুঁকি রয়েছে। আবার আন্দোলনের সব রাজনৈতিক দাবি মেনে নেওয়াকে সরকারের পরাজয় হিসেবেই গণ্য হবে।
সরকারের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংলাপ। আন্দোলনের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা না করে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তরুণদের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা শোনার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া তৈরি করা প্রয়োজন।
ভারতের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের বার্তা
‘ককরোচ’ আন্দোলন এখনই ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দেবে কি না, তা বলা সম্ভব নয়। তবে এটি ইতিমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ভারতের তরুণ প্রজন্মকে শুধু নির্বাচনের সময় ভোটার হিসেবে দেখলে চলবে না। তারা নীতি, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত হতে পারে, নতুন প্রতীক তৈরি করতে পারে এবং প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে।
এই প্রজন্মের রাজনৈতিক ভাষা ভিন্ন। তারা দীর্ঘ বক্তৃতার বদলে সংক্ষিপ্ত ভিডিও ব্যবহার করে। প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতীকের বদলে ব্যঙ্গ ও মিম ব্যবহার করে। দলীয় পরিচয়ের বদলে নির্দিষ্ট ইস্যুকে সামনে আনে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তারা রাজনীতিবিমুখ। বরং তারা নতুন ধরনের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ তৈরি করছে।
শিক্ষা আন্দোলন কি সত্যিই সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে পরিণত হবে
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটি। আন্দোলন ইতিমধ্যে শিক্ষাবিষয়ক দাবির বাইরে গিয়ে সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা এবং ‘মোদী হটাও’ স্লোগানের বিস্তার এর রাজনৈতিক চরিত্রকে স্পষ্ট করেছে। তবে এটিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ সরকারবিরোধী গণআন্দোলন বলা হয়তো সময়ের আগে হবে। একটি গণআন্দোলনের জন্য প্রয়োজন ব্যাপক ভৌগোলিক বিস্তার, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, দীর্ঘস্থায়ী সংগঠন এবং একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য।
‘ককরোচ’ আন্দোলনের মধ্যে এসবের কিছু উপাদান দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সবগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি হয়নি।
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। সরকার কি শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে? পরীক্ষার অনিয়মের দায় নির্ধারণ হবে কি? আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপ হবে কি? পুলিশি দমন-পীড়নের অভিযোগের তদন্ত হবে কি? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তরুণদের ক্ষোভ কি শুধু শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কর্মসংস্থান ও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নে বিস্তৃত হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আন্দোলনের পরবর্তী পথ নির্ধারণ করবে।
তেলাপোকার প্রতীক থেকে গণতন্ত্রের প্রশ্ন
ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলনের গল্প শেষ পর্যন্ত একটি তেলাপোকার গল্প নয়। এটি এমন এক প্রজন্মের গল্প, যারা দীর্ঘ প্রতিযোগিতা, পরীক্ষার চাপ, প্রশ্নফাঁস, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক উপেক্ষার মধ্যে বড় হয়েছে।
তাদের বলা হয়েছিল ‘ককরোচ’। তারা সেই শব্দকে নিজেদের প্রতীকে পরিণত করেছে।
শিক্ষার প্রশ্ন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন রাষ্ট্রের জবাবদিহি, নাগরিকের মর্যাদা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রশ্ন তুলছে। আন্দোলনের দাবিগুলোর সবই যে একই মাত্রায় বাস্তবসম্মত বা সর্বসম্মত, তা নয়। এর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। কিন্তু যে সংকট থেকে আন্দোলনের জন্ম, তা বাস্তব এবং গভীর। মোদী সরকার যদি এটিকে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষণস্থায়ী প্রবণতা বা বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখার চেষ্টা করে, তাহলে হয়তো বড় একটি সামাজিক বার্তা উপেক্ষিত থাকবে। কারণ আন্দোলনের মূল প্রশ্নটি এখন আর শুধু কে প্রশ্নপত্র ফাঁস করল, তা নয়। প্রশ্নটি হলো—দেশের লাখো তরুণ যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগে, তখন রাষ্ট্র তাদের কথা শোনে কি না। আর সেই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো নির্ধারণ করবে, ‘ককরোচ’ আন্দোলন মোদী সরকারের জন্য একটা ধাক্কা হয়ে থাকবে, নাকি ভারতের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের দীর্ঘস্থায়ী অধ্যায়ের সূচনা করবে।
মন্তব্য করুন

