Logo

১১ ভাদ্র ১৪৩৩

×

Follow Us

যে মানুষের রাজনীতি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন বহন করেছে

ছবি : জহুরুল ইসলাম বাবু

ফিচার

জহুরুল ইসলাম বাবু

যে মানুষের রাজনীতি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন বহন করেছে

দীপু মাহমুদ

দীপু মাহমুদ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

বাবু ভাই আর আমি ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে শহরে যাচ্ছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বাবু ভাই আমাদের অনেক সিনিয়র। জহুরুল ইসলাম বাবু। ছাত্র মৈত্রীর নেতা। আমি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী। বাবু ভাইয়ের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তার সাথে সিনিয়র জুনিয়র আর সব ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

আমরা শহরে যাব ভার্সিটির বাসে উঠে। মহিউদ্দিনের দোকান ভার্সিটির বাসস্ট্যান্ডের বটগাছের নিচে। বাবু ভাই সেখান থেকে পান নিয়ে খেলেন। মহিউদ্দিন জানিয়েছে প্রশাসন তাকে সেখান থেকে দোকান সরিয়ে নিতে বলেছে। বাবু ভাই সিনেট সদস্য। বাবু ভাই পানের দাম দিয়ে বললেন, "ফেরার সময় কথা বলব। বাস ছাড়ার সময় হয়ে গেছে।"কেন জানি আমার মনে হলো বাবু ভাই কথার কথা বললেন। নেতারা এরকম কথার কথা হরহামেশাই বলে। বাবু ভাইয়ের সাথে শহর থেকে ভার্সিটিতে ফিরলাম। হলে যাওয়ার আগে আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে বাবু ভাই বললেন, "চলো মহিউদ্দিনের সাথে কথা বলে যাই। দোকান নিয়ে তার কী সমস্যা হয়েছে শুনি।"

বাবু ভাই আমার কাছে বৃহৎ হতে হতে মানুষ হিসেবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন। ২৫ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার রাত আটটায় বাবু ভাই পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনন্তলোকে চলে গেলেন। ভাই বেশ কিছু দিন লিভার ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। আল্লাহ্ বাবু ভাইকে বেহেশতে রাখুন। অনন্তলোকে বাবু ভাই ভালো থাকুন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিয়ুন।

জহুরুল ইসলাম বাবুকে শুধু একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে স্মরণ করলে তাঁর প্রতি সুবিচার করা হবে না। তাঁকে বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে সেই সময়ে, যখন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছিল ছাত্ররাজনীতির একেকটি উন্মুক্ত পাঠশালা; যেখানে একজন তরুণের রাজনৈতিক পরিচয় শুধু তার সংগঠনের পদ দিয়ে নির্ধারিত হতো না, নির্ধারিত হতো সে কোন বাংলাদেশ দেখতে চায়, কোন রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং কোন সমাজের পক্ষে লড়তে চায়- সেই প্রশ্নে।

জহুরুল ইসলাম বাবু, আমরা ডাকতাম জ ই বাবু- সেই সময়ের মানুষ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৈত্রীর নেতা হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা আশির দশকের এক অস্থির বাংলাদেশে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে নতুন অন্ধকার নেমে আসে, তার সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি তৈরি হয়েছিল শিক্ষাঙ্গনে। ছাত্রসমাজ খুব দ্রুত বুঝে গিয়েছিল, সামরিক শাসন কেবল রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন নয়; এটা শিক্ষাঙ্গন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার ওপরও আঘাত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সেই প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন, সামরিক শাসনবিরোধী কর্মসূচি, মিছিল, ধর্মঘট, ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়া- আশির দশকের শুরুতেই এসব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে যায়। ১৯৮২ সালের শিক্ষানীতি-বিরোধী ও সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্রআন্দোলন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ার ধারায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও ছিল গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। 

এই ইতিহাসের ভেতরেই ছাত্রমৈত্রীর মতো সংগঠনের রাজনৈতিক ভূমিকা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী ছিল কেবল আরেকটি ছাত্রসংগঠন নয়। এর রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল সামরিক শাসনের বিরোধিতা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার দাবি এবং সমাজের শোষিত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা। এই রাজনীতি যে প্রজন্মের হাতে গড়ে উঠেছিল, তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল কেবল ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার জায়গাও। জ ই বাবু সেই রাজনৈতিক শিক্ষারই একজন উত্তরাধিকারী। তাঁদের সময়ের ছাত্ররাজনীতিকে আজকের রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে সবচেয়ে বড় যে পার্থক্যটি চোখে পড়ে, তা হলো আদর্শের প্রশ্নটি তখনো রাজনীতির কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি।

রাজনীতি ছিল ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি- এমন ধারণা তখনো এতটা সর্বগ্রাসী হয়ে ওঠেনি। ছাত্রনেতার সামনে ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ যেমন ছিল, তেমনি ছিল রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন। এরশাদের সামরিক শাসনকে মেনে নেওয়া হবে কিনা, বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসনের অধিকার রক্ষা করা হবে কিনা, শিক্ষা হবে বিজ্ঞানভিত্তিক ও গণমুখী কিনা, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা হবে কিনা—এসব প্রশ্ন তখন ছাত্ররাজনীতিরই প্রশ্ন।

আর সেই রাজনীতির সঙ্গে ছিল ঝুঁকি। কারণ এরশাদবিরোধী আন্দোলন কোনো নিরাপদ রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। মিছিল মানে পুলিশি বাধার আশঙ্কা, গ্রেপ্তারের ভয়, হামলা মামলার আতঙ্ক। সারাদেশে সেই আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। সেই সময়ে এরশাদের পেটোয়া বাহিনীর হাতে ধারাবাহিক প্রাণহানি সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মূল্যকে স্পষ্ট করে তোলে। 

এই রাজনৈতিক আবহে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা হয়ে ওঠা মানে শুধু মিছিলের সামনে হাঁটা নয়। মানে ছিল একটি সময়ের ঝুঁকি নিজের শরীরে বহন করা। কিন্তু এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে আরেকটি লড়াই ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠেছিল- ক্যাম্পাসের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র রক্ষার লড়াই। ছাত্রশিবিরের উত্থান এবং প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে তাদের সংঘাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর একটি। মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, আশির দশকে তার শক্তিশালী প্রকাশ ঘটে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে সেই সংঘাতের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।

জ ই বাবুর রাজনৈতিক প্রজন্ম এই বাস্তবতা এড়িয়ে রাজনীতি করেনি। তখন শিবিরবিরোধিতা কেবল একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে আরেকটি সংগঠনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। সেটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে লড়াই। বাংলাদেশ কোন মূল্যবোধের ওপর দাঁড়াবে- মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, নাকি ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক আধিপত্যের হাতিয়ার করা হবে- এই বৃহত্তর প্রশ্নেরও অংশ ছিল সেই উত্তপ্ত সময়।

এখানে এসে জ ই বাবুর রাজনৈতিক জীবনকে বাংলাদেশের আশির দশকের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে আলাদা করা যায় না। তিনি জাতীয় রাজনীতির প্রথম সারির নেতা হয়ে ওঠেননি। তাঁর নাম ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে জায়গা পায়নি। কিন্তু ইতিহাস কেবল জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের দিয়ে তৈরি হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিলের সামনে থাকা, হলের দেয়ালে পোস্টার লাগানো, রাজনৈতিক বিতর্কে রাত কাটানো, পুলিশের বাধার মুখে দাঁড়ানো, প্রতিপক্ষের হামলার ঝুঁকি নেওয়া- এসব কাজের মধ্য দিয়েও একটি সময়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়। জ ই বাবু ছিলেন সেই সংস্কৃতির একজন নির্মাতা। তাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত টানও এখানেই। আমি ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী। তিনি ছাত্রমৈত্রীর নেতা। আমাদের সংগঠন এক নয়। আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানের ভেতরেও পার্থক্য ছিল। কিন্তু সেই পার্থক্য আমাদের সম্পর্কের মধ্যে দেয়াল তৈরি করেনি।

এটা আজ শুনতে খুব সাধারণ একটি কথা মনে হতে পারে। কিন্তু আশির দশকের তীব্র ছাত্ররাজনীতির ভেতর এর একটি বিশেষ অর্থ ছিল। তখন মতাদর্শের বিরোধ ছিল, সংগঠনের প্রতিযোগিতা ছিল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু একজন অন্য সংগঠনের কর্মী মানেই শত্রু- এই সংস্কৃতি ছিল না। রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা ছিল। তর্ক ছিল, আড্ডা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। একজন ছাত্রমৈত্রীর নেতা একজন ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীর ‘বাবু ভাই’ হয়ে উঠতে পারতেন। জ ই সম্পর্কের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাজনীতির বড় সম্পদ। কারণ গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনের ব্যবস্থা নয়; ভিন্নমতকে মানুষ হিসেবে স্বীকার করার সংস্কৃতিও গণতন্ত্রের অংশ।

জ ই বাবুর প্রজন্ম এই শিক্ষাটি ধারণ করেছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হন। ছাত্ররাজনীতির যে ক্যাম্পাসে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল, জীবনের অন্য পর্বে তিনি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোরও অংশ হয়েছিলেন। আশির দশকের ছাত্ররাজনীতির বড় বৈশিষ্ট্য ছিল- সেই রাজনীতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক। ছাত্রনেতারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো এলিট ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শ্রমজীবী মানুষ, সাধারণ নাগরিক, দোকানি, রিকশাচালক, নিম্নবিত্ত পরিবার- তাঁদের জীবনও ছাত্ররাজনীতির আলোচনার অংশ ছিল। রাজনীতি ছিল সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত। বাবু ভাইয়ের মধ্যে সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার জীবনের শেষ পর্ব পর্যন্ত ছিল বলেই হয়তো তাঁকে এত মানুষ নিজেদের মানুষ বলে মনে করেছে।

তাঁর মৃত্যুসংবাদে শুধু একজন মানুষ হারালেন তাঁর পরিবার নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রাজনৈতিক প্রজন্মেরও একজন প্রতিনিধি চলে গেলেন। সেই প্রজন্মের অনেকেই আজ বিখ্যাত, অনেকে বিস্মৃত। তাঁদের নাম সংবাদপত্রের পুরোনো পাতায় ছড়িয়ে আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের স্মৃতিতে আছে, সহযোদ্ধাদের মুখে আছে। কেউ জাতীয় রাজনীতিতে উঠে এসেছেন, কেউ পেশাজীবনে হারিয়ে গেছেন, কেউ রাজনীতি ছেড়েছেন। কিন্তু তাঁদের তারুণ্যের যে সময়টি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য লড়েছিল, সেটা বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে যায়নি।

জ ই বাবু ভাইয়ের মৃত্যু সেই ইতিহাসকে আবার মনে করিয়ে দিলো। আজকের তরুণেরা যে বাংলাদেশে রাজনীতি করে, সেটা অনেক অর্থেই তাঁদের পূর্বসূরিদের সংগ্রামের ফল। গণতন্ত্রের দাবি, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষাঙ্গনের দাবি- এসব কোনো বিমূর্ত শব্দ নয়। এগুলোর পেছনে আছে একেকটি প্রজন্মের তারুণ্য, সাহস, কারাবরণ, নির্যাতন, রক্ত এবং স্বপ্ন।

জহুরুল ইসলাম বাবু সেই স্বপ্নের একজন লড়াকু যোদ্ধা ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় মূল্য এই যে তিনি রাজনীতিকে কেবল নিজের পরিচয় বানাননি; একটি সময়ের আদর্শের সঙ্গে নিজের জীবনকে যুক্ত করেছেন। সময়ের সঙ্গে সেই আদর্শের ভাষা বদলেছে। রাজনৈতিক সংগঠন বদলেছে। ক্ষমতার সমীকরণ বদলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসও বদলে গেছে। কিন্তু মানুষের জন্য রাজনীতি- এই মৌলিক প্রশ্নটি বদলায়নি।

বাবু ভাইয়ের জীবন সেই প্রশ্নের উত্তর হয়ে থাকবে। আজ তিনি নেই। পিজি হাসপাতালের একটি কক্ষে লিভার আর কিডনির জটিলতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে তাঁর জীবন থেমে গেছে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে শেষ হয়ে যায়নি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই রাজনৈতিক সময়ের স্মৃতি- যে সময়ে একজন ছাত্রনেতা নিজের ভবিষ্যতের চেয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি উত্তেজিত হতে পারতেন; যে সময়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ছিল তারুণ্যের স্বাভাবিক কর্তব্য; যে সময়ে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ছিল রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; যে সময়ে ভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কর্মীর সঙ্গেও ভাইয়ের সম্পর্ক রাখা সম্ভব ছিল।

জ ই বাবু সেই সময়ের মানুষ। তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন মানুষকে স্মরণ করা নয়; একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেও স্মরণ করা- যেখানে ছাত্ররাজনীতি ছিল স্বপ্ন দেখার জায়গা, প্রতিবাদের জায়গা, মতাদর্শের জায়গা এবং সবচেয়ে বড় কথা, মানুষকে বদলে দেওয়ার জায়গা। আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত এখানেই- রাজনীতি আছে, কিন্তু সেই রাজনীতির ভেতর স্বপ্ন নেই! জ ই বাবুর প্রজন্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ছাত্ররাজনীতি একদিন সত্যিই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখত। সেই স্বপ্নের একজন মানুষ আজ চলে গেলেন। বাবু ভাই, সালাম।

আপনার সময় শেষ হয়েছে। কিন্তু যে সময়ের স্বপ্ন আপনি বহন করেছিলেন, তার ইতিহাস এখনো শেষ হয়নি।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আপনি বেহেশতে ভালো থাকুন।


মন্তব্য করুন

Logo