Logo

১ ভাদ্র ১৪৩৩

×

Follow Us

আমরা জানি, এই লড়াইয়ে কারা জিতবে

দশদিগন্ত

আমরা জানি, এই লড়াইয়ে কারা জিতবে

Icon

আশীফ এন্তাজ রবি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

দিল্লির বাতাস যে ঠান্ডা হবে- এমন লক্ষণ আপাতত নেই। পুরো আলাপে পরে আসছি। বরং এই চান্সে চলুন ছাত্রছাত্রীর ক্রিয়িটিভির কিছু নমুনা দেখি—

এক. এক তরুণী স্যানিটারি প্যাড নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। তার বক্তব্য অতি পরিষ্কার। প্রশ্নপত্র লিক হয়, কিন্তু আমার স্যানিটারি প্যাড লিক হয় না। শিক্ষাব্যবস্থার চেয়ে স্যানিটারি প্যাড ভালো।

দুই. পুলিশ কাঁটাতারের বেড়া বসিয়েছে। এই কাঁটাতারের বেড়াকে পোলাপান বানিয়েছে ব্যাডমিন্টন খেলার মধ্যবর্তী নেট। তরুণরা দুইভাগে ভাগ হয়ে কাঁটাতারের দুই সাইডে গিয়ে ব্যাডমিন্টনের আসর বসিয়েছে। 

তিন. একটা বড়ো জমায়েতকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ এসেছে জলকামান নিয়ে। পোলাপান গিয়ে বলছে, পুলিশ আংকেল খুব গরম লাগছে, পানি ছাড়েন। পুলিশ জলকামান নিয়ে পানি ছুড়েছে। পোলাপান সেই পানিতে বর্ষানৃত্য করছে।

চার. একজন পুলিশ বসে আছে। তার বুকে কোনো নেমপ্লেট নেই। একজন ইউটিউবার গিয়ে জিজ্ঞেস, স্যার, ডিউটির সময় তো আপনার নাম লেখা নেমপ্লেট বুকে ঝোলার কথা। ওটা কই? 
পুলিশ ভ্যাবাচেকা খেয়ে উত্তর দিলো, এই ধস্তাধস্তিতে নেমপ্লেট তোড় গিয়া। 
এরপর সেই ইউটিউবারের পাল্টা প্রশ্ন, আপনাদের সবার নেমপ্লেট ছিড়ে গেছে?
তখনই দেখা গেলো, শত শত পুলিশ। তাদের কারো বুকেই নেমপ্লেট নেই। বাংলাদেশ স্টাইলে এরা নেমপ্লেট খুলে আন্দোলন দমন করতে নেমেছে। পোলাপান এগুলো ভিডিও করে, সোশাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিচ্ছে।

পাঁচ. বিক্ষোভ দিল্লি ছেড়ে বিহারেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে পুলিশ ব্যারিকেডের নিচে আবার চাকা লাগানো আছে। যাতে খুব সহজে ব্যারিকেড সরানো যায়। একদল পোলাপান সেইসব চাকাওয়ালা ব্যারিকেডের উপর চড়ে বসেছে। আরেক দল সেগুলো ঠেলছে। রাস্তাজুড়ে এখন চলমান ব্যারিকেডের দৃশ্য। এরা এর নাম দিয়েছে কাঁটাতারের সাইকেল। 

ছয়. ভারতীয় পুলিশ এইসব কাঁটাতারের ব্যারিকেড নিয়ে আসলেই বিপদের মধ্যে আছে। রাস্তা বন্ধ করার জন্য সারি সারি লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পোলাপান ঝালাই মেশিন নিয়ে ওইসব ব্যারিকেড ঝালাই করে দিয়েছে। ফলে সব ব্যারিকেড বিশ্রিভাবে জোড়া লেগে গেছে। এগুলো সরাতে গেলে পুলিশকে ঝালাই মেশিন দিয়ে এগুলো খুলতে হবে।

সাত. এক মেয়ে বিয়ের শাড়ি পড়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। বলছে, এই দেশে বৈষম্যহীন চাকরির সুযোগ তো নাই। তাই বিয়ের পাত্র খুঁজতে বের হয়েছি।

আট. অনেক আলোচিত স্লোগানের মধ্যে একটা স্লোগান হচ্ছে: জব চাইছি, ব্লো জব তো চাই নাই।

নয়. পুলিশ বেশি মারমুখো হওয়া মাত্র পোলাপান জায়গায় দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া শুরু করে। জাতীয় সঙ্গীত চলার সময় সরকারি কর্মচারি হিসেবে পুলিশের পক্ষে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন ছাড়া, অন্য কিছুর করার নেই। এই চান্সে পোলাপান দৌড়ে পালাচ্ছে।

দশ. পুলিশ লাঠিপেটা করতে আসায় পোলাপান খুবই আন্তরিক গলায় বলছে, আংকেল টিয়ার গ্যাস নাই? ওইটা ছাড়ো।  লাঠি নিয়ে বেহুদা দৌড়াদৌড়ি কেন?

এগার. মহারাষ্ট্রে পুলিশ ব্যারিকেডের উপর পোলাপান জাঙ্গিয়া শুকাতে দিয়েছে। বলছে, পুলিশ ব্যারিকেড খুবই উপকারি জিনিস।

বারো. স্পাইডার ম্যানের ড্রেস পরে একদল নেমেছে। কোথাও পুলিশ বেশি উত্তেজিত হলে, সেই স্পাইডার ম্যান পুলিশের দিকে ছুটে যাচ্ছে, অবিকল আসল স্পাইডারম্যানের ভঙ্গিতে। পুলিশ পর্যন্ত বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।
তের. একদল ছেলে পাঞ্জাবি পায়জামা পড়ে নেমেছে। একটু পর পর পাঞ্জাবি উঠিয়ে পাছা দেখাচ্ছে। এক পাছায় লেখা MO,  আরেক পাছায় DI।

চৌদ্দ. বিক্ষোভ কলকাতায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। একটা প্ল্যাকার্ডে চোখ আটকে গেলো। সেখানে লেখা, মোদি একদা চা বেচেছে, এখন দেশ বেচছে।

গোটা পৃথিবীর একমাত্র সমস্যা এখন তরুণ। ঘুনে ধরা সমাজ যাদেরকে তেলাপোকা জ্ঞান করে। আগামীর পৃথিবীর লড়াই তেলাপোকাদের সাথে বুড়োদের। পুরনো সিস্টেমের সাথে নতুন চিন্তার।
আমরা জানি, এই লড়াইয়ে কারা জিতবে। শুধু এটা জানি না, সেই জয় আসতে কতদিন লাগবে। 

মন্তব্য করুন

Logo