Logo

১১ ভাদ্র ১৪৩৩

×

Follow Us

হারিয়ে যাওয়া শৈশবের খোঁজে

কাভার স্টোরি

হারিয়ে যাওয়া শৈশবের খোঁজে

যে শিশুদের হিসাব রাষ্ট্র রাখে না

Icon

দীপু মাহমুদ

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

রাত তখন প্রায় সাড়ে নয়টা। নয় বছরের একজন শিশু বাড়ির সামনের দোকানে বিস্কুট কিনতে গিয়েছিল। পাঁচ মিনিটের পথ। দশ মিনিট পার হলো, তারপর ত্রিশ মিনিট। এক ঘণ্টা পর বাবা-মা তাকে খুঁজতে বের হলেন। রাতভর মাইকিং, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ, থানায় সাধারণ ডায়েরি। পরদিন শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল- “এই শিশুকে কেউ দেখে থাকলে যোগাযোগ করুন।” কয়েক দিন পর ছবিটি মানুষের নিউজফিড থেকে হারিয়ে গেল। কিন্তু শিশু ফিরল কি!

বাংলাদেশে এমন প্রশ্নের উত্তর আমরা প্রায়ই জানতে পারি না। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো- রাষ্ট্রও অনেক ক্ষেত্রে জানে না।

প্রতি বছর বাংলাদেশে কত শিশু নিখোঁজ হয়? কতজন ফিরে আসে? কতজন মানবপাচারের শিকার হয়? কতজন চিরতরে হারিয়ে যায়? এই প্রশ্নগুলোর নির্ভরযোগ্য জাতীয় উত্তর নেই। পুলিশের কাছে জিডি হয়, বিভিন্ন থানায় মামলা হয়, আদালতে বিচার চলে, বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে তথ্য রাখে; কিন্তু সব তথ্য একত্র করে প্রকাশ করার মতো কোনো উন্মুক্ত জাতীয় ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ছিল না। সম্প্রতি সিআইডি Missing Urgent Notification (MUN Alert) চালু করেছে। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, কিন্তু এটাও তখনই কার্যকর হবে, যখন নিখোঁজ শিশুদের নিয়ে নিয়মিত জাতীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে।

একটি রাষ্ট্রের জন্য এটা কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়; এটা নীতিনির্ধারণেরও সংকট। কারণ যে সমস্যার আকার জানা যায় না, সেই সমস্যার সমাধানও পরিকল্পিতভাবে করা যায় না।

বাংলাদেশে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ। অর্থাৎ দেশের প্রতি তিনজন মানুষের একজনই শিশু। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিশুদের একটি অংশ এমন ঝুঁকির মধ্যে বড় হচ্ছে, যা তাদের পরিবার, শিক্ষা এবং নিরাপত্তা- সবকিছু থেকেই বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।

ইউনিসেফের ২০২৪ সালের গবেষণা Children Living in Street Situations in Bangladesh আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার মতো তথ্য তুলে ধরেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ শিশু এমন পরিস্থিতিতে আছে, যাদের জীবন রাস্তাকেন্দ্রিক- কেউ রাস্তায় থাকে, কেউ রাস্তায় কাজ করে, কেউ দিনের বেশির ভাগ সময় রাস্তায় কাটায়। তারা সবাই নিখোঁজ নয়, কিন্তু তাদের বড় অংশ কোনো না কোনো সময়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, বাড়ি ছেড়েছে অথবা নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ হারিয়েছে।

প্রশ্ন হলো, শিশু কেন নিজের বাড়ি ছেড়ে চলে যায়?

প্রথম উত্তরটি আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত- দারিদ্র্য।
বাংলাদেশ গত দুই দশকে দারিদ্র্য কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু এখনো লক্ষ লক্ষ পরিবার প্রতিদিনের খাবার, বাসস্থান এবং চিকিৎসার নিশ্চয়তা পায় না। অনেক শিশুই অল্প বয়সে বুঝে যায়, তার পড়াশোনার চেয়ে পরিবারের আয় বেশি জরুরি। কেউ ইটভাটায় যায়, কেউ গ্যারেজে, কেউ হোটেলে, কেউ বাসে হেলপারের কাজ করে। অনেকেই গ্রাম থেকে শহরে আসে কাজের আশায়। এই যাত্রাই অনেক শিশুর জন্য নিরাপত্তাহীনতার শুরু।

দ্বিতীয় কারণ পারিবারিক সহিংসতা।
শিশুরা সাধারণত আনন্দের জন্য বাড়ি ছাড়ে না। তারা পালিয়ে যায় তখনই, যখন বাড়ি তাদের কাছে আর নিরাপদ মনে হয় না। নিয়মিত মারধর, মানসিক নির্যাতন, সৎ বাবা বা সৎ মায়ের অত্যাচার, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, মাদকাসক্ত অভিভাবক- এসব কারণ বহু শিশুকে ঘরছাড়া করে। ইউনিসেফ বহুবার উল্লেখ করেছে, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুধু তাদের শারীরিক নয়, মানসিক নিরাপত্তাকেও ধ্বংস করে।

তৃতীয় কারণ শিশুশ্রম।
যে শিশুর হাতে বই থাকার কথা, তার হাতে যখন রেঞ্চ, ইট, চায়ের কেটলি বা সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়, তখন সে কেবল শিক্ষার অধিকার হারায় না; হারায় নিরাপত্তার অধিকারও। কর্মস্থলে নির্যাতন, কম মজুরি, পালিয়ে যাওয়া, নতুন শহরে আশ্রয়হীন হয়ে পড়া- এসবই তাকে নিখোঁজ হওয়ার ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।

চতুর্থ কারণ মানবপাচার।
বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মানবপাচারের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সীমান্তবর্তী অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং বড় শহরগুলোতে শিশুদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই সংবাদে আসে। কখনো চাকরির প্রলোভন, কখনো বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি, কখনো আবার ভিক্ষাবৃত্তি বা যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে শিশুদের ব্যবহার করা হয়। ইউনিসেফের Stopping the Traffic প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং দুর্বল সামাজিক সুরক্ষা শিশুদের পাচারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

পঞ্চম কারণ প্রযুক্তি।
আজকের শিশুরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সময় অনলাইনে কাটায়। কিন্তু অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সীমিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম, মেসেজিং অ্যাপ- এসবের মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিরা শিশুদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে, বিশ্বাস অর্জন করে এবং পরে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। আন্তর্জাতিকভাবে একে অনলাইন গ্রুমিং বলা হয়। বাংলাদেশেও এই ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, যদিও এ বিষয়ে সমন্বিত জাতীয় গবেষণা এখনও সীমিত।

আরেকটি নীরব কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন।
নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার পরিবার স্থানচ্যুত হয়। গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে অনেক পরিবার বস্তিতে আশ্রয় নেয়। স্কুল ছুটে যায়, আয় কমে যায়, সামাজিক বন্ধন ভেঙে পড়ে। এই অবস্থায় শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। তারা কাজের সন্ধানে বের হয়, নতুন পরিবেশে হারিয়ে যায় অথবা শোষণের শিকার হয়।

দুঃখের বিষয়, আমরা এসব কারণ নিয়ে আলোচনা করি, কিন্তু নিখোঁজ শিশুদের জাতীয় চিত্র নিয়ে খুব কমই কথা বলি। কোনো শিশু ফিরে এলে খবর হয়; কিন্তু যে শিশু আর ফেরে না, সে ধীরে ধীরে জনস্মৃতি থেকেও হারিয়ে যায়।

একটি সভ্য রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নিখোঁজ শিশু জরুরি ঘটনা হওয়ার কথা। কারণ একজন শিশুর নিখোঁজ হওয়া কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিপর্যয় নয়; এটা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিশু অধিকার ব্যবস্থারও পরীক্ষা।

বাংলাদেশে এখন সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সময় এসেছে। কিন্তু তার আগে আমাদের জানতে হবে- আমাদের কত শিশু হারিয়ে যাচ্ছে, কেন হারিয়ে যাচ্ছে, এবং তাদের ফিরিয়ে আনতে আমরা আসলে কতটা প্রস্তুত।

বিশ্বের অনেক দেশ অনেক আগেই বুঝেছে- নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা শুধু আইন করেনি; প্রযুক্তি, তথ্যভান্ডার, গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের সমন্বয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের AMBER Alert তার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। কোনো শিশুকে অপহরণের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যে মোবাইল ফোন, মহাসড়কের ডিজিটাল সাইনবোর্ড, টেলিভিশন, রেডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যে Missing People নামের জাতীয় দাতব্য সংস্থা পুলিশকে সহায়তা করে, আর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সীমান্ত পেরিয়েও তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই- শিশুর জীবন বাঁচাতে সময় যেন নষ্ট না হয়।

বাংলাদেশও এখন সেই পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। সিআইডির Missing Urgent Notification (MUN Alert) উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু একটি প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম একা সমস্যার সমাধান করতে পারে না। যদি থানায় করা প্রত্যেক নিখোঁজ শিশুর জিডি কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে না পৌঁছায়, যদি বিভিন্ন জেলার তথ্য পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত না হয়, যদি উদ্ধার হওয়া শিশুর তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ না হয়, তবে এই উদ্যোগের কার্যকারিতা সীমিত থেকে যাবে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই- আমরা কি জানি, কতজন শিশু শেষ পর্যন্ত ফিরে আসে? আর কতজন আর কখনো ফিরে আসে না?

একটি উন্নত শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় এই প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেক বছর প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশেও সেটাই হওয়া উচিত। কারণ পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়; নীতিনির্ধারণের ভিত্তি। কোন জেলায় বেশি শিশু নিখোঁজ হচ্ছে, কোন বয়সের শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে, ছেলে না মেয়ে- কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, কী কারণে তারা হারিয়ে যাচ্ছে- এসব তথ্য ছাড়া কার্যকর প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

নিখোঁজ শিশুদের আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনলাইন নিরাপত্তা। আজ অনেক শিশু স্মার্টফোন ব্যবহার করে, কিন্তু সবাই জানে না কীভাবে অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে নিরাপদ আচরণ করতে হয়। আন্তর্জাতিকভাবে অনলাইন গ্রুমিং এখন শিশু নিখোঁজ ও যৌন শোষণের অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশেও ডিজিটাল ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও স্কুলভিত্তিক ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা এখনো খুব সীমিত। প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধও বেড়েছে। তাই শিশু সুরক্ষার আলোচনায় সাইবার নিরাপত্তাকে আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক নিখোঁজ শিশু অপহরণের শিকার নয়। অনেক শিশু নির্যাতন, দারিদ্র্য, পারিবারিক অশান্তি বা কাজের সন্ধানে বাড়ি ছেড়ে যায়। তাই প্রতিরোধের কৌশলও বহুমাত্রিক হতে হবে। শুধু পুলিশের ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম এবং তথ্যপ্রযুক্তি- সব খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
প্রথমত, জাতীয় নিখোঁজ শিশু ডেটাবেস। দেশের সব থানার তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে এবং নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রতি বছর জাতীয় নিখোঁজ শিশু প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। সেখানে কতজন নিখোঁজ হয়েছে, কতজন উদ্ধার হয়েছে, কতজনের মামলা বিচারাধীন এবং কতজনের সন্ধান এখনো মেলেনি- এসব তথ্য থাকতে হবে।

তৃতীয়ত, স্কুলভিত্তিক শিশু নিরাপত্তা শিক্ষা চালু করা জরুরি। শিশুদের শেখাতে হবে- অপরিচিত মানুষের প্রলোভন, অনলাইন প্রতারণা, জরুরি সহায়তা নম্বর এবং বিপদে কী করতে হবে।

চতুর্থত, পরিবারকে শক্তিশালী করা। পারিবারিক সহিংসতা, শিশুশ্রম এবং চরম দারিদ্র্য কমাতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিস্তার ঘটাতে হবে। কারণ যে পরিবার নিরাপদ, সেই পরিবার থেকেই শিশু কম হারিয়ে যায়।

পঞ্চমত, উদ্ধার-পরবর্তী পুনর্বাসন। একজন শিশুকে খুঁজে পাওয়াই শেষ নয়। তার মানসিক আঘাত, শিক্ষায় ফিরে আসা এবং পরিবারে নিরাপদ পুনঃএকীভূত হওয়া নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের সংবাদমাধ্যমেরও বড় ভূমিকা আছে। নিখোঁজের খবর প্রকাশের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া শিশুদের কাহিনি, মানবপাচার চক্রের বিচার এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিয়েও ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দরকার। কারণ জনমতই অনেক সময় নীতির পরিবর্তন ঘটায়।

যে দেশে একজন শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার মাসের পর মাস থানার বারান্দায় ঘুরে বেড়ায়, যেখানে জাতীয়ভাবে জানা যায় না বছরে কত শিশু হারিয়ে যায়, সেখানে দেশের উন্নয়নের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

প্রত্যেক নিখোঁজ শিশুর নাম আছে, পরিবার আছে, অসমাপ্ত শৈশব আছে। রাষ্ট্রের কাছে তারা শুধু একটি জিডি নম্বর হতে পারে না।

আমাদের এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে কোনো শিশু হারিয়ে গেলে পুরো রাষ্ট্র তাকে খুঁজে ফেরে; যেখানে একজন শিশুর ছবি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে পৌঁছে যায়; যেখানে তথ্য লুকিয়ে থাকে না, প্রকাশিত হয়; যেখানে প্রত্যেক নিখোঁজ শিশুর খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান থেমে থাকে না।

দীপু মাহমুদ: চাইল্ড কেয়ার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন কনসালট্যান্ট, ইউনিসেফ

মন্তব্য করুন

Logo