নড়াই সেতুর উচ্চতা বাড়িয়ে নৌরুট সচলের দাবি
কাভার স্টোরি প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
নড়াই নদীতে নৌযান চলাচল সচল রাখতে নির্মাণাধীন নড়াই সেতুর উচ্চতা বাড়ানোসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ’। গতকাল এক মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশকর্মীরা এসব দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীপথে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী ওয়াটার বাস চালুর সরকারি পরিকল্পনার পথে নির্মাণাধীন নড়াই সেতু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুটির খিলানের উচ্চতা ১১ মিটারের কম হওয়ায় এর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস, স্কাভেটরসহ বড় নৌযান চলাচল করতে পারবে না।
নোঙর বাংলাদেশের সভাপতি সুমন শামস বলেন, নড়াই নদী কোনো খাল নয়, এটি একটি জীবন্ত নদী। হাতিরঝিল ও বালু নদীর সংযোগকারী প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌপথ রক্ষা করা জরুরি। সেতুর উচ্চতা কম হলে বর্ষাকালে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদী খননও বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, নড়াই নদীর পরিচয় মুছে ফেলার অংশ হিসেবে রামপুরা ব্রিজের পাশে স্থাপন করা ‘নড়াই নদী’ নামফলকটি গত ২৬ জুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—বর্ষায় নৌপথ সচল রাখতে নড়াই সেতুর উচ্চতা বাড়িয়ে হাতিরঝিল/রামপুরা ব্রিজ থেকে বালু নদী পর্যন্ত ওয়াটার বাস ও অন্যান্য নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা; উধাও হয়ে যাওয়া ‘নড়াই নদী’ নামফলক পুনঃস্থাপন, নদীর দূষণ বন্ধ এবং দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ; এবং বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর ওপর মাস্টারপ্ল্যানে চিহ্নিত কম উচ্চতার ১৩টি সেতু ভেঙে উচ্চতা বাড়িয়ে পুনর্নির্মাণ করা।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, সেতুর নকশা সংশোধন করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌ চলাচল নিশ্চিত করা না হলে রামপুরা-আফতাবনগর এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মানববন্ধনে নদী গবেষক আলিউদ্দিন আহমেদ, নোঙর বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে রাব্বি সানি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জামিলুর রহমান নয়নসহ পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন

