Logo

১ ভাদ্র ১৪৩৩

×

Follow Us

ঐ অসহায় কিশোরীর মুখই বাংলাদেশ

মত-দ্বিমত

ঐ অসহায় কিশোরীর মুখই বাংলাদেশ

আলতাফ পারভেজ

Icon

আলতাফ পারভেজ

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

একটি ভিডিও ঘুরছে তীব্র গতিতে। মজা নিচ্ছে অনেকে। কেউ কেউ থুথু ছিটাচ্ছে। কেউ কেউ ক্রুব্ধ। কেউ কেউ গোপন নথি ফাঁসে হতবিহ্বল। গোপণীয়তার অধিকার নিয়ে তত্ত্বকথাও চলছে। 

এর মাঝে ঐ হতবিহ্বল কিশোরীর কথা তেমন কেউ বলছে না। এত জান্তব উন্মোচনের পরও ওর মতো কোটি কোটি অসহায় মুখের কথা মনে পড়ছে না বাংলাদেশের! 

একবারও কি ভাবলাম, কত অযুত আকাশ ভেঙ্গে পড়ছিল কিশোরীটির মনোজগতে তখন। 

কোটি কোটি বিত্তহীন-নিম্নবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত মেয়েশিশুদের যুদ্ধাবস্থাটা নিত্যদিন কমবেশি এরকমই। তারা পরিবারে অসহায়, রাস্তায় অসহায়, প্রশাসনের দরবারে অসহায়, জনপ্রতিনিধিদের কাছেও অসহায়। 

তার নিরাপত্তা নেই। তার স্বাভাবিক শৈশব-কৈশোর নেই। অন্য সকল শিশু-কিশোর-তরুণের সঙ্গে স্বাভাবিক ভঙ্গীতে বেড়ে ওঠার সুযোগ নেই। সে পরিবারের কাছে বোঝা, সমাজে ভোগ্যবস্তু। তার দিকে এগিয়ে আসা প্রতিটি চোখ অস্বাভাবিক। তার অসহায়ত্ব হাস্যরসের উপাদান। তার অসহায়ত্ব যত বেশি—তত বেশি ভাইরাল সে। 

তার অধিকারের বিরুদ্ধে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা হয়। সেখানে সকল ‘পক্ষ’ থাকে।  যত পর্দা তার জন্য। যত গোপন কুঠরি সেও তার জন্যই। রাত ও দিন কোনটিই তার নয়। 

আনন্দ তার জন্য নয়, হাসাহাসি তার জন্য নয়, ভ্রমণ তার জন্য নয়, গান তার জন্য নয়, নাচ তার জন্য নয়, সিনেমা তার জন্য নয়, খেলাধুলা তার জন্য নয়, নির্বাচন তার জন্য নয়, গীটার-তবলা-বেহালা তার জন্য নয়। সমাজ-রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী কোন স্টিয়ারিং তার জন্য নয়। তাকে পছন্দের অধিকার দেয়া হয় না। ‘দেয়া যায় না’!! 

তার জন্য শুধু রান্নাঘর আর জামা-কাপড় খুলে প্রস্তুত হওয়া।

তার জন্য সব সিদ্ধান্ত নিবে একদল পুরুষ। তাদের আইন। তাদের বয়ান। তাদের ব্যাখ্যা। তাদের কোড। তারাই বাবা, তারা ভাই, তারা জামাই, তারা মুরুব্বি, তারা বয়ফ্রেন্ড, তারা সুপারিশকারী, তারা জনপ্রতিনিধি। 

যুদ্ধক্ষেত্রটি এভাবেই সাজানো। বহুদিন হলো। ঐ মেয়েশিশুটির মুখ, ঐ কিশোরীর চাহনি একটি পুরানো যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন তাতে পরাজয়ের, কোনঠাসার, অপমানের পরিসর বাড়ানো চলছে।

এটাই বাংলাদেশ। ঐ অসহায়, হতবিহ্বল, দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া মুখছবিটির ভেতর একটি সামাজিক যুদ্ধের বিস্তারিত রয়েছে। 

দৃশ্যাবলী থেকে মজা নিতে পারি আমরা। কপট ক্ষোভও ছুঁড়ে দিতে পারি। চাইলে চোখ বন্ধ করে এই যুদ্ধের সমীকরণ বদলের কথাও একটু ভাবতে পারি। 

সিসি ক্যামেরা আমাদেরও উন্মোচন করছে। সকলে আমরা ঐ যুদ্ধক্ষেত্রের কোন-না-কোন পক্ষে আছি।

মন্তব্য করুন

Logo