Logo

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

×

Follow Us

ব্রাজিল ফুটবল দল বিশ্বজুড়ে এতো আলোচিত ও জনপ্রিয় কেন?

বিশ্বকাপ বিবিধ

ব্রাজিল ফুটবল দল বিশ্বজুড়ে এতো আলোচিত ও জনপ্রিয় কেন?

Icon

সাজিদ ফাতেমি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল একটি নাম নয়, একটি আবেগ ও সংস্কৃতির প্রতীক। ‘সেলেসাও’ নামে পরিচিত এই দলটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিন্তু কেন ব্রাজিল ফুটবল দল বিশ্বজুড়ে এতো আলোচিত ও জনপ্রিয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের খেলার ধরন, গৌরবময় ইতিহাস এবং একের পর এক বিশ্বমানের ফুটবলার উপহার দেওয়ার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার মধ্যে। 

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মূল আকর্ষণ হলো তাদের 'জোগো বোনিতো' বা 'সুন্দর খেলা'। মাঠে তাদের ছন্দময় পাসিং, ড্রিবলিং এবং নান্দনিক ফুটবল বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মোহিত করে। এছাড়া, ব্রাজিল একমাত্র দেশ যারা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৫ বার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২) বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিটি প্রজন্মে তারা এমন কিছু অতিমানবীয় ফুটবলারের জন্ম দিয়েছে, যারা ফুটবল খেলাটিকে স্রেফ একটি খেলা থেকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

নিচে ফুটবলার পেলে থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের নেইমার পর্যন্ত ব্রাজিল ফুটবল দলের এমন ২০ জন সুপারস্টারের নাম উল্লেখ করা হলো, যাঁরা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখেছেন:

১. পেলে (Pelé): ফুটবল সম্রাট, যিনি ব্রাজিলের হয়ে ৩টি বিশ্বকাপ জিতেছেন এবং ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত। ২. গারিঞ্চা (Garrincha): তাঁর অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং দক্ষতার জন্য পরিচিত, যিনি পেলে আহত থাকার সময় ১৯৬২ বিশ্বকাপ জয়ে মূল ভূমিকা রাখেন। ৩. জিকো (Zico): যাকে 'সাদা পেলে' বলা হতো, ফ্রি-কিক এবং পাসিংয়ের এক অনন্য জাদুকর। ৪. সক্রেটিস (Socrates): একজন শিক্ষিত মিডফিল্ডার ও ডাক্তার, মাঠে যাঁর স্টাইলিশ খেলা ও ব্যাকহিল পাস বিখ্যাত ছিল। জিকো ও সক্রেটিস ১৯৮৬ এর বিশ্বকাপ মাতিয়েছেন । ৫. রোমারিও (Romário): ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক, পেনাল্টি বক্সের ভেতরে যাঁর ফিনিশিং ছিল নিখুঁত। ৬. রোনালদো নাজারিও (Ronaldo Nazário): 'দ্য ফেনোমেনন' নামে পরিচিত, ২০০২ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। ৭. রিভালদো (Rivaldo): ১৯৯৯ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী এবং ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম মূল কারিগর। ৮. রোনালদিনহো (Ronaldinho): ফুটবলের জাদুকর, যাঁর মুখের হাসি এবং অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং কোটি ভক্তের মন জয় করেছিল। ৯. কাকা (Kaká): ২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী, যাঁর গতি ও মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। ১০. নেইমার জুনিয়র (Neymar Jr): আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা তারকা এবং ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ১১. কাফু (Cafu): ব্রাজিলের কিংবদন্তি রাইট-ব্যাক, যিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন এবং দুটিতে জয়ী হয়েছেন। ১২. রবার্তো কার্লোস (Roberto Carlos): ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক, যাঁর বুলেট গতির ফ্রি-কিক ও দূরপাল্লার শট এখনো মানুষের মনে গেঁথে আছে। ১৩. দিনো জফ / দিদি (Didi): ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপ জয়ের মূল কারিগর এবং 'ফোলহা সেকা' (শুকনো পাতা) ফ্রি-কিক স্টাইলের জনক। ১৪. ভাভা (Vavá): ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান স্ট্রাইকার, যিনি ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছিলেন। ১৫. কার্লোস আলবার্তো (Carlos Alberto): ১৯৭০ বিশ্বকাপের কিংবদন্তি অধিনায়ক, যাঁর ফাইনালে করা গোলটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলীয় গোল। ১৬. জাইরজিনহো (Jairzinho): ১৯৭০ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। ১৭. বেবেতো (Bebeto): ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী স্ট্রাইকার, যাঁর গোল উদযাপনের ভঙ্গি (রকিং দ্য বেবি) ফুটবল ইতিহাসে আইকনিক হয়ে আছে। ১৮. তাফুরেল (Taffarel): ব্রাজিলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক, ১৯৯৪ বিশ্বকাপ টাইব্রেকারে যাঁর বীরত্ব ভোলার নয়। ১৯. দানিয়েল আলভেস (Dani Alves): ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও সবচেয়ে বেশি ট্রফি জয়ী রাইট-ব্যাক। ২০. থিয়াগো সিলভা (Thiago Silva): আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ও নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার, যিনি দীর্ঘদিন ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সামলেছেন।

ব্রাজিল ফুটবল মানেই কেবল জয়-পরাজয় নয়, এটি হলো মাঠের ভেতরের আনন্দ ও সৃষ্টিশীলতার বহিঃপ্রকাশ। এই ২০ জন সুপারস্টার ছাড়াও আরও অসংখ্য তারকা হলুদ জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেছেন। রিও ডি জেনিরোর বস্তি থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় স্টেডিয়াম—সবখানেই ব্রাজিলের ফুটবল শৈলী মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আর ঠিক এই কারণেই যুগ যুগ ধরে ব্রাজিল ফুটবল দল বিশ্বজুড়ে এতো বেশি আলোচিত এবং ফুটবল প্রেমীদের প্রথম পছন্দ।

মন্তব্য করুন

Logo