Logo

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

×

Follow Us

ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ের কুৎসিত ফুটবল

ফুটবলের চেয়ে এই ম্যাচে যেন মারামারি, ধাক্কাধাক্কি, জার্সি টানাটানি, কনুই ব‍্যবহার, গুতো আর বাকবিতণ্ডাই বেশি চোখে পড়েছে। ছবি - ইন্টারনেট

বিশ্বকাপ বিবিধ

ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ের কুৎসিত ফুটবল

Icon

চিররঞ্জন সরকার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

কাল রাতের ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচটি সম্ভবত এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উত্তপ্ত, সবচেয়ে কুৎসিত ম্যাচ!

আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের ম‍্যাচ দেখে যে শান্তি ও তৃপ্তির অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছিল, তার পর এই ম্যাচটি দেখে স্রেফ চরম বিরক্তির অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে ! 

এমনকি প্রতিক্রিয়াও লিখতে ইচ্ছে হয়নি ! 

ফুটবলের চেয়ে যেন মারামারি, ধাক্কাধাক্কি, জার্সি টানাটানি, কনুই ব‍্যবহার, গুতো আর বাকবিতণ্ডাই বেশি চোখে পড়েছে। কয়েক মিনিট পরপরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সুন্দর ফুটবলের বদলে ম্যাচটা রীতিমতো শারীরিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছিল।

রেফারিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একের পর এক শক্ত ট্যাকল, ফাউল আর সংঘর্ষে জড়ানোর পরও প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খুব কম শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও বারবার হাতছাড়া হয়েছে।

ম্যাচ শেষে কথার লড়াইটাও কম জমেনি। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ মজা করেই বলেছেন, তিনি এই ম্যাচে খেললে হয়তো ৪-৫টি লাল কার্ড পেতেন! রায়ান চেরকি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, এতগুলো ফাউল করেও প্যারাগুয়ে কোনো হলুদ কার্ড না পাওয়াটা অবিশ্বাস্য। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের গোলকিপারের অভিযোগ, ম্যাচ শেষে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে হাত মেলাতে গেলে ফরাসি অধিনায়ক তাকে উপেক্ষা করেছেন।

তবে সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি এসেছে এমবাপ্পের মুখ থেকেই। তার ভাষায়, প্যারাগুয়ে হয়তো ভেবেছিল ফ্রান্স শুধু সুন্দর ফুটবল খেলতেই জানে। কিন্তু প্রয়োজন হলে কঠিন, শারীরিক এবং কুৎসিত ম্যাচও তারা খেলতে পারে—আর সেটাও প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালোভাবেই।

আসলে ম্যাচজুড়েই প্যারাগুয়ে চেষ্টা করেছে ফ্রান্সকে নিজেদের ছন্দ থেকে সরিয়ে দিতে। শক্ত ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি, মানসিক চাপ—সবকিছু দিয়েই ফরাসিদের বিরক্ত করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কোচ দিদিয়ের দেশমকে টাচলাইন ছেড়ে খেলোয়াড়দের শান্ত করতে এগিয়ে আসতে হয়।

পেনাল্টির আগে গুস্তাভো ভেলাজকেজ ইচ্ছাকৃতভাবে পেনাল্টি স্পট নষ্ট করার চেষ্টা করেন, যাতে এমবাপ্পের শট নেওয়া কঠিন হয়। উপামেকানোর পাঁজরে কনুইয়ের আঘাত লাগে। মাতিয়াস গালারজা কুন্দের মুখে হাত দেন। পরে মাইকেল ওলিসে তার জার্সি ধরতেই গালারজা নাটকীয়ভাবে মাটিতে পড়ে যান, যেন রেফারি ওলিসেকেই শাস্তি দেন। আন্দ্রেস কুবাসের শক্ত ট্যাকলে আঘাত পান আদ্রিয়েন রাবিওও। অথচ এতসব ঘটনার পরও প্যারাগুয়ের কোনো খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেননি।

তবে শুধু প্যারাগুয়েকেই দোষ দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও ততই মেজাজ হারিয়েছেন। ধাক্কাধাক্কি, জার্সি টানাটানি, পাল্টা আগ্রাসন—অনেক সময় তারাও ভালো ফুটবলের চেয়ে প্রতিপক্ষকে জবাব দিতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। এমবাপ্পে, কুন্দে, উপামেকানো, ওলিসে—প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় উত্তেজনায় জড়িয়েছেন। এমনকি শেষ বাঁশি বাজার পরও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থামেনি।

ফ্রান্স ম্যাচটা জিতেছে, কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছে। কিন্তু যেভাবে তারা নিজেদের সংযম হারিয়েছে, তাতে এই জয় তাদের ফুটবলীয় সুনামের প্রতি খুব একটা সুবিচার করেনি। বড় দল শুধু ফল দিয়ে নয়, আচরণ দিয়েও নিজেদের আলাদা করে। সেই পরীক্ষায় অন্তত এই ম্যাচে ফ্রান্সও উত্তীর্ণ হতে পারেনি! 

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ভাষায় এক কথায় এই ম‍্যাচকে বলা যায়: রাবিশ!

মন্তব্য করুন

Logo