বিদায় লুকা মদ্রিচ। ছবি: সংগৃহীত
বিদায় লুকা মদ্রিচ
চিররঞ্জন সরকার
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
গতকালের তিনটি ম্যাচে তিন রকম গল্প দেখা গেল। কোথাও নাটক, কোথাও একতরফা আধিপত্য, কোথাও আবার আফ্রিকার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার দীর্ঘশ্বাস।
সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচ অবশ্যই পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া। মনে হচ্ছিল ফুটবল নয়, ভিএআর পরিচালিত একটি থ্রিলার সিনেমা চলছে। চারটি গোল বাতিল, একের পর এক অফসাইড, বিতর্ক, উত্তেজনা—রেফারিও যেন ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠলেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পেনাল্টি থেকে গোল করলেন, কিন্তু ম্যাচের প্রকৃত নায়ক ছিলেন রাফায়েল লেয়াও। তাঁর গতির সামনে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ বারবার দিশেহারা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে তাঁর বাড়ানো বল থেকেই গনসালো রামোস জয়ের গোলটি করলেন। অন্যদিকে লুকা মদরিচের বিদায়টা বড়ই বিষণ্ন। ২০১৮ সালে রানার্সআপ, ২০২২ সালে তৃতীয়—টানা দুই বিশ্বকাপে রূপকথা লেখা এই জাদুকর এবার শেষ পর্যন্ত হাসতে পারলেন না। ফুটবল কখনো কখনো কিংবদন্তিদের জন্যও খুব নির্মম হয়ে ওঠে। বিদায় লুকা মদ্রিচ!
রাতের ম্যাচে স্পেন যেন অস্ট্রিয়াকে ফুটবল শেখানোর ক্লাস নিল। বল দখল, পাস, প্রেসিং, আক্রমণ—সবকিছুতেই লা রোজা এক ধাপ নয়, কয়েক ধাপ এগিয়ে ছিল। মিকেল ওইয়ারসাবাল দুটি গোল করে ম্যাচের সেরা, পেদ্রো পোরোও গোল পেলেন। তবে স্কোরশিটে নাম না থাকলেও ১৮ বছরের লামিনে ইয়ামাল আবারও বুঝিয়ে দিলেন, প্রতিভার কোনো জন্মসনদ লাগে না।
স্পেন এখন পর্যন্ত খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়নি। সামনে পর্তুগাল। সেদিনই বোঝা যাবে, স্পেন সত্যিই বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার, নাকি এখন পর্যন্ত শুধু প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসই করেছে।
কঙ্গো পারেনি, সেনেগাল পারেনি—তাই আশা ছিল আলজেরিয়াকে ঘিরে। কিন্তু ফুটবল শুধু আশা দিয়ে জেতা যায় না। সুইজারল্যান্ড শুরু থেকেই অনেক বেশি গোছানো। ব্রিল এমবোলো দ্রুত গোল করে ম্যাচের সুর বেঁধে দেন, বিরতির পর ড্যান এনদোয়ে দ্বিতীয় গোল করে আলজেরিয়ার স্বপ্নে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। এখন ঘানা কী করে, সেটাই দেখার বিষয়!
আফ্রিকার জন্য মন খারাপ হয়। তারা প্রতিবারই বিশ্বকাপে নতুন স্বপ্ন নিয়ে আসে, কিন্তু নকআউটের দরজায় এসে কোথায় যেন ছন্দ কেটে যায়। তবু আফ্রিকার ফুটবলকে কখনো ছোট করে দেখা যায় না। কারণ এই মহাদেশ বারবার হেরে গিয়েও পরের বিশ্বকাপে আবার নতুন গল্প লিখতে ফিরে আসে। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
মন্তব্য করুন

