Logo

৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

×

Follow Us

অদম‍্য ইরান

বিশ্বকাপ বিবিধ

অদম‍্য ইরান

Icon

চিররঞ্জন সরকার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

বেলজিয়ামের নাম শুনলেই একসময় মনে পড়ত রোমেলু লুকাকুর তাণ্ডব। আজও তিনি আছেন, কিন্তু সেই ভয়ংকর লুকাকু যেন এখন অতীতের ছায়া। কেভিন ডি ব্রুইনের পাসে এখনও শিল্প আছে, ট্রোসার্দের গতিতেও ঝলক আছে, কিন্তু পুরো বেলজিয়ামকে আর আগের মতো নির্মম লাগে না।

অন্যদিকে ইরান এসেছে কোনো তারকার দম্ভ নিয়ে নয়, এসেছে লড়াইয়ের জেদ নিয়ে। আমেরিকা-ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকা ইরান যেন সাক্ষাৎ ক্ষেপণাস্ত্র।প্রতিটি খেলোয়াড় প্রতিরোধের গোলা! 
মেহদি তারেমি সামনে অবিরাম যুদ্ধ করেছেন, সারদার আজমুন প্রতিটি স্পর্শে বেলজিয়ামের রক্ষণকে অস্থির রেখেছেন। আর আলিরেজা বেইরানভান্দ? তিনি যেন গোলরক্ষক নন, এক অদম্য প্রাচীর। একের পর এক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে বুঝিয়ে দিলেন—বড় দলের বিপক্ষে টিকে থাকতে শুধু দক্ষতা নয়, চরিত্রও লাগে।
একবার বল জড়িয়েছিল বেলজিয়ামের জালে। গ্যালারিতে ইরানি উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছিল দাবানলের মতো। কিন্তু ভিএআর জানিয়ে দিল—অফসাইড। গোল বাতিল। স্কোরবোর্ড বদলায়নি, কিন্তু ম্যাচের গতিপথ বদলে গেল। বেলজিয়াম বুঝে গেল, এই ইরানকে শুধু নামের জোরে হারানো যাবে না।

মাঝমাঠজুড়ে ছিল শক্তির সংঘর্ষ, কঠিন ট্যাকল, শরীরী ভাষায় আধিপত্যের লড়াই। শেষদিকে বেলজিয়ামের এক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে গেলেও ইরান কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করতে পারেনি। তবু শেষ বাঁশি পর্যন্ত তাদের লড়াইয়ে একফোঁটা ক্লান্তি ছিল না।
এই ম্যাচে ইউরোপের কারিগরি ফুটবলের সঙ্গে এশিয়ার জেদি মানসিকতার দেখা হলো। এক দল খেলেছে প্রতিভা দিয়ে, অন্য দল খেলেছে হৃদয় দিয়ে।

শেষ পর্যন্ত গল্পটা ০-০ ড্রয়ের নয়। গল্পটা হলো—বিশ্বফুটবলের প্রতিষ্ঠিত এক শক্তিকে ইরান আবারও মনে করিয়ে দিল, র‌্যাঙ্কিং সম্মান এনে দেয়, কিন্তু সম্মান ধরে রাখতে হলে প্রতি মুহূর্তে লড়তে হয়।

এই ড্র বেলজিয়ামের জন্য হারানো দুই পয়েন্টের আক্ষেপ। আর ইরানের জন্য—আরেকটি উচ্চারণ: আমরা হয়তো বড় শক্তি নই, কিন্তু আমাদের হারাতে হলে ঘাম ঝরাতেই হবে! আমেরিকা-ইসরাইল পারেনি; তোমরা কোন স‍্যার!

চিররঞ্জন সরকার: কলামিস্ট ও উন্নয়নকর্মী

মন্তব্য করুন

Logo