গ্যালারিতে আইয়ুব বুআদ্দি, ছবি: সংগৃহীত
সাঈদ হাসান
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর হয়ে একজন খেলোয়াড় নিঃশব্দে সব আলো কেড়ে নেন: ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বুআদ্দি। মাত্র ১৮ বছর বয়সের এই তরুণ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস এবং লুকাস পাকেতা-র মতো বিশ্বমানের নামগুলোতে ঠাসা একটি মিডফিল্ডের বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচ খেলেন — তবুও তাঁকে একবারের জন্যও বেমানান, নিষ্প্রভ লাগেনি। তার শান্ত স্বভাব, বুদ্ধিমত্তা এবং পরিপক্বতা মরক্কোকে শক্ত অবস্থানে ধরে রাখতে এবং ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তির বিরুদ্ধে একটি মূল্যবান পয়েন্ট অর্জন করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু বুআদ্দির গল্প শুধু ফুটবল নিয়েই নয়। মাঠের বাইরেও তিনি সমানভাবে অনন্য।
স্কুলে একটি পুরো শিক্ষাবর্ষ স্কিপ করার পর মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ফ্রান্সে কৃতিত্বের সাথে সায়েন্টিফিক ব্যাকালরিয়েট (বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক) পাস করেন। লিল-এর হয়ে পেশাদার ফুটবল খেলার এবং এখন মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি তিনি এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ২০২৩ সালে তিনি ফ্রান্সের ফুটবল একাডেমিগুলোর মধ্যে আয়োজিত জাতীয় বাগ্মিতা প্রতিযোগিতায় (ন্যাশনাল পাবলিক স্পিকিং কম্পিটিশন) জয়ী হন এবং এলিজি প্রাসাদে তাঁর পুরস্কার গ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মাত্র ১৬ বছর ৩ দিন বয়সে ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে তিনি আগেই লিলের হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। এক বছর পর, নিজের ১৭তম জন্মদিনে বুআদ্দি রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলেন এবং লিলকে ১-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় এনে দিতে সাহায্য করেন।
বুআদ্দি একসময় ফ্রান্সের ইয়থ ফুটবল সিস্টেমের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভাবান খেলোয়াড় ছিলেন এবং এমনকি ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়কত্বও করেছিলেন। কিন্তু মরক্কো তার জন্য লড়াই করেছে, তাকে রাজি করিয়েছে এবং গত মাসে (২০২৬ সালের মে) ফিফা তার স্পোর্টস ন্যাশনালিটি পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদন করে। এর কয়েকদিন পরই মরক্কোর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার নাম ঘোষণা করা হয় — আর এখন তিনি সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের আগমন বার্তা ঘোষণা করলেন। এই গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অংশটি হলো মরক্কোর জার্সি গায়ে বুআদ্দির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল একজন ভক্ত হিসেবে। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্যালারি থেকে অ্যাটলাস লায়ন্সদের খেলা দেখার জন্য রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। আট বছর পর, তিনি আর গ্যালারি থেকে খেলা দেখছেন না। তিনি বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে খেলছেন।
Comment
মন্তব্য করুন

