বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নানা কারণে বিতর্কিত এবারের আসর, ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরল পুরোনো প্রশ্ন
ফুটবলের উৎসব, নাকি কলঙ্কিত ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের মাধ্যম?
কাভার স্টোরি ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হয়েছে। মাঠে বল গড়িয়েছে, স্টেডিয়ামে উঠেছে উল্লাসের ঢেউ, কোটি কোটি দর্শক ডুবে আছে ফুটবল উন্মাদনায়। কিন্তু খেলার এই মহোৎসবের মধ্যেই আবারও সামনে এসেছে একটি পুরোনো বিতর্ক— বিশ্বকাপ কি কেবল ফুটবলের উৎসব, নাকি এটি ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনেরও মাধ্যম?
এই প্রশ্নটিই নতুন করে উত্থাপন করেছেন মিশরের কিংবদন্তি ফুটবলার মোহাম্মদ আবুত্রিকা। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাই ইনফান্তিনো সংবাদ সম্মেলনে ৮০ মিনিট ধরে শুধু সাফাই গেয়ে গেছেন। তিনি ভুলকে ঢাকার জন্য সাফাই গাইছিলেন। তিনি ভুল বিষয়ের পক্ষে কথা বলছিলেন।’ তার অভিযোগ, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরকে অনেক সময় রাষ্ট্রগুলো নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
আবুত্রিকার ভাষায়, এখন যারা নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল বা ধুয়েমুছে পরিষ্কার করতে চায়, তারা কেবল একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করলেই চলে। বিশ্বকাপের মাধ্যমে গাজায় গণহত্যায় অংশ নেওয়া একটা দেশ তাদের কলঙ্কিত ভাবমূর্তি পরিষ্কার করতে চাইছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে থাকা রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশ্বকাপ আয়োজন শুধু ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরার একটি সুযোগও।
তিনি আরও বলেন, যে দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছে বা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছে, সেই দেশ যখন বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার কিংবা ইতিবাচক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
অবশ্য বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন বিতর্ক নতুন নয়। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলো কেবল খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সেগুলো অর্থনীতি, কূটনীতি, রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
তবে সমালোচনার পাশাপাশি কাতার বিশ্বকাপের প্রশংসাও করেছেন আবুত্রিকা। তার মতে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক উভয় দিক থেকেই নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছিল। তিনি মনে করেন, কাতারের পর বিশ্বকাপ আয়োজনের মান অনেক বেড়ে গেছে এবং সেই মান ধরে রাখা ভবিষ্যৎ আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তার আশঙ্কা, এবারের ৪৮ দলের বিশাল বিশ্বকাপে প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক নানা জটিলতা সামনে আসতে পারে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই কিছু সমস্যা দৃশ্যমান হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্বকাপের আসর বসেছে, মাঠে শুরু হয়েছে শিরোপার লড়াই। কিন্তু আবুত্রিকার বক্তব্য আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই উৎসব কখনোই কেবল ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। গোল, জয়-পরাজয় আর ট্রফির লড়াইয়ের আড়ালে এখানে জড়িয়ে থাকে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, ক্ষমতার রাজনীতি এবং বিশ্বব্যবস্থার নানা বাস্তবতা। তাই বিশ্বকাপের আলো যেমন মাঠকে আলোকিত করে, তেমনি অনেক সময় বিশ্বের রাজনৈতিক বিতর্কগুলোকেও নতুন করে দৃশ্যমান করে তোলে।
মন্তব্য করুন

