Logo

৫ আষাঢ় ১৪৩৩

×

Follow Us

প্রিয়দর্শিনী প্রেসিডেন্টের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

সাধারণ দর্শকের সাথে খেলা দেখছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট, ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ বিবিধ

দ্য গেম অ্যান্ড দ্য গ্যালারি

প্রিয়দর্শিনী প্রেসিডেন্টের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

Icon

কাভার স্টোরি ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর ২-০ গোলের জয় ছাপিয়ে এখন বড় আলোচনা মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউমের ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত। প্রথা ভেঙে গ্যালারিতে উপস্থিত না থেকে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে খেলা দেখার যে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার পেছনে রয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কিছু কারণ।

প্রথমত, টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্যের প্রতিবাদ জানানো। বিশ্বকাপের টিকিট সাধারণ স্থানীয় ফুটবল ভক্তদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে, যা নিয়ে মেক্সিকোর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম শেষ দফায় ১ হাজার ৮০০ থেকে আড়াই হাজার ডলার পর্যন্ত ঠেকেছে। কোনো কোনো টিকিট দ্বিতীয় ধাপে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার তুলনায় মেক্সিকোর মানুষের গড় মাসিক আয় অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামের টিকিটের গড় মূল্য অন্য যেকোনো ভেন্যুর চেয়ে বেশি ধরা হয়েছে। একে সাধারণ মানুষের সাথে অন্যায় মনে করেই প্রেসিডেন্ট শিনবাউম তাকে দেওয়া টিকিটটি বর্জন করেন।

বর্জন বলতে তিনি মূলত তার ভিআইপি টিকিটটি নিজে ব্যবহার না করে একজন আদিবাসী মেক্সিকান তরুণীকে উপহার হিসেবে দিয়ে দেন।

এর পেছনে তার মূলত দুটি ব্যাখ্যা ছিল—

প্রথমত, নারীর ক্ষমতায়ন। মেক্সিকোতে ফুটবল ঐতিহাসিকভাবে পুরুষ-প্রধান খেলা হিসেবে পরিচিত। নারীদের ফুটবলে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতেই তিনি এটি এক নারীকে উপহার দেন।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো সুযোগ সৃষ্টি:উচ্চ মূল্যের কারণে যে সাধারণ মানুষ কোনোদিন স্টেডিয়ামে বসে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার স্বপ্নও দেখতে পারত না, তার হাতে টিকিট তুলে দিয়ে তিনি একটি "প্রতীকী ক্ষমতায়ন" প্রদর্শন করেছেন।

মেক্সিকান প্রেসিডেন্টের টিকিট বর্জনের পেছনে দ্বিতীয় কারণটি হলো সাধারণ মানুষের পাশে থাকা। প্রেসিডেন্ট শিনবাউম জাঁকজমকপূর্ণ "মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম" (সাবেক এস্তাদিও আসতেকা) বর্জন করে খেলা দেখার জন্য বেছে নেন একটি সাধারণ পাবলিক স্পেস। তিনি মেক্সিকো সিটির গুস্তাভো এ. মাদেরো এলাকায় অবস্থিত হেরমানোস গালেয়ানা স্পোর্টস কমপ্লেক্স-এ যান। সেখানে সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি উন্মুক্ত ও ফ্রি স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মেক্সিকোর আপামর জনসাধারণের সাথে মাটির কাছাকাছি থেকে উল্লাস করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শিনবাউমের গতরাতের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত একটা রাজনৈতিক কৌশলও বটে, যার পেছনে রয়েছে ইতিহাস। এর আগে মেক্সিকো যখন ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, তৎকালীন মেক্সিকান প্রেসিডেন্টরা (যথাক্রমে গুস্তাভো দিয়াজ ওর্দাজ এবং মিগুয়েল দে লা মাদ্রিদ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের কাছ থেকে তীব্র দুয়োধ্বনি এবং বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাই স্টেডিয়ামে গিয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মাঝে বসার পরিবর্তে সাধারণ জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে নিজেকে "জনগণের প্রতিনিধি" হিসেবে উপস্থাপন করাকে তিনি রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি নিরাপদ ও ফলপ্রসূ মনে করেছেন।

বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে আরেকটা নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছে শিনবাউম সরকার। ফিফার পক্ষ থেকে মেক্সিকো সরকারকে ৫০০ টিকিট দেওয়া হয়েছে। অতীতে এসব টিকিট সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হতো। প্রেসিডেন্ট শিনবাউম এসব টিকিট বিতরণ করেছেন ফুটবল ভালোবাসে এমন টিনএজারদের মাঝে। এসব টিনএজারকে নির্বাচন করা হয়েছে রেফল ড্র ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে, এমন নয় যে কর্মকর্তাদের টিনএজ বয়সী সন্তানদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Logo