Logo

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

×

Follow Us

হাতিরঝিলে কৃষকের সবজি বাগান উপড়ে ফেলেছে রাজউক

হাতিরঝিলে স্থানীয় দরিদ্রদের করা সবজি বাগান উচ্ছেদ করেছে রাজউক, ছবি: সংগৃহীত

খোঁজ-খবর

হাতিরঝিলে কৃষকের সবজি বাগান উপড়ে ফেলেছে রাজউক

Icon

ইকরাম উদ্দিন আবির

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

হাতিরঝিলের তেজগাঁও-বেগুনবাড়ি অংশ, যেটি একসময় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ছিল, সেই এলাকার চিত্র পরিবর্তনের গল্পটি শুরু হয় প্রায় পাঁচ বছর আগে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন কৃষক নিজ উদ্যোগে ওই এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে কিছু সবজির বীজ রোপণ করেন। কয়েক মাস পর সেখানে সবজি উৎপাদন শুরু হলে তিনি লক্ষ্য করেন, যেখানে আগে মানুষ ময়লা ফেলতো, সেখানে আর কেউ ময়লা ফেলছে না। বরং মানুষ জায়গাটিকে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছে।

সবজি ক্ষেত উচ্ছেদের আগের দৃশ্য, ছবি: সংগৃহীত 

পরবর্তীতে তার দেখাদেখি আরও স্থানীয় মানুষ যুক্ত হতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে হাতিরঝিলের তেজগাঁও-বেগুনবাড়ি অংশের বড় একটি এলাকা সবজি, ফুল ও ফলজ গাছে সবুজ হয়ে ওঠে। যেকেউ ওই এলাকা দিয়ে হেঁটে গেলে মনে করতেন এটি বুঝি কোনো পরিকল্পিত কৃষি প্রকল্পের অংশ। পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই উদ্যোগের প্রশংসা করতেন।

সম্প্রতি কোরবানির ঈদের পর রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে উচ্চপর্যায়ে তদারকি শুরু হয়। হাতিরঝিলের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পর রাজউক হাতিরঝিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল বেগুনবাড়ি এলাকায় স্থানীয় কৃষকদের চাষ করা সকল সবজি বাগান কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা, নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ না দিয়েই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে প্রায় ৬০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য হলো, যদি ৫ থেকে ৭ দিনের সময় দেওয়া হতো, তাহলে তারা চলমান গ্রীষ্মকালীন সবজি সংগ্রহ করে নিজেরাই চাষাবাদ বন্ধ করে দিতেন অথবা রাজউকের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতেন।  

প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন সাসটেইনেবল সিটি নিয়ে কাজ করে। এরই ধারাবাহিকতায় হাতিরঝিলে ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে। এরই অংশ হিসেবে হাতিরঝিলের  কৃষি কাজও পর্যালোচনা করছিল। 

কৃষকদের নোটিশ না দিয়ে এভাবে সবজি উচ্ছেদ করাতে আমরা উদ্বেগ জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি নগর পরিকল্পনা করতে চাইলে স্থানীয় কমিউনিটির অন্তর্ভুক্ত করা অন্তত জরুরী। নীতিগত ভাবে তারা ভুল করলেও তাদের ভালো কাজের উৎসাহ দেয়ার জন্য কিছুটা সময় দেয়াই যেত।

ইকরাম উদ্দিন আবির, প্রতিষ্ঠাতা, প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন

মন্তব্য করুন

Logo