Logo

৪ কার্তিক ১৪৩৩

×

Follow Us

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: প্রবাসীর পাশে রাষ্ট্র কোথায়?

ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত

মত-দ্বিমত

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: প্রবাসীর পাশে রাষ্ট্র কোথায়?

শাহেদ কায়েস

শাহেদ কায়েস

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ এএম

সৌদি আরবে দুইজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংবাদ পড়ে আমার মনে এসেছে তাঁদের পরিবারের কথা। মানুষ দু’টি শেষ মুহূর্তে কাকে কাছে চেয়েছিলেন, নিজের দেশের কারও সঙ্গে কথা বলতে পেরেছিলেন কি না, জানি না। স্বজনেরা তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত জানতেন কি না, তাও অস্পষ্ট। একজন মানুষ বিদেশে আটক হওয়ার পর নিজের ভাষায় অভিযোগ বুঝতে পারবেন, আইনজীবীর সহায়তা পাবেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন, এতটুকু প্রত্যাশা খুব বেশি কি? অথচ ওই দুইজন মানুষের জীবন শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা সংবাদমাধ্যম থেকে খবর পেয়েছেন।


সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। মসজিদের ভেতরে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে তাঁদের দণ্ড দেওয়া হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাংলাদেশি বলেছে। জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট পাসপোর্ট, ইকামা, নাগরিকত্ব এবং মামলার বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে কর্মকর্তারা বলেছেন, মামলা চলাকালে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ মিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও মিশনকে কিছু জানানো হয়নি। বাংলাদেশ মিশনকে কেন এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি, সৌদি সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।


মসজিদ চত্বরের বাইরে চুম্বন, একজন পাকিস্তানি নাগরিকের ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও জমা দেওয়ার পর শিরচ্ছেদের বিবরণও আলোচনায় এসেছে। কিন্তু এসব দাবির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। সরকারি বিবৃতিতেও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ নেই। ফলে তাঁদের প্রেমিক যুগল হিসেবে চিহ্নিত করা এবং মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া অনুচিত। ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা কঠোর হতে পারে। তবে অনুমানকে তথ্য হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না। কী অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত কী কারণে সাজা দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করতে পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র ও রায় প্রকাশের দাবি জরুরি।


অভিযোগের বিস্তারিত স্পষ্ট না হলেও মানুষের জীবনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া যায়। সম্মতিপূর্ণ ঘনিষ্ঠতার জন্য মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব দেশে মৃত্যুদণ্ড চালু আছে, সেসব দেশেও কেবল ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাণহানি ঘটানো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের জন্য এই শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যুক্তি জানতে চাইতে হবে। পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষার কথা বলে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, সাক্ষ্য প্রমাণের যথার্থতা এবং অপরাধের সঙ্গে শাস্তির সামঞ্জস্যের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া চলে না।


বিদেশে আটক ব্যক্তির নিজ দেশের কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার রয়েছে। ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আটকের পর তাঁকে এই অধিকার সম্পর্কে দ্রুত জানাতে হবে। তিনি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকেও বিলম্ব ছাড়া তাঁর আটকের খবর দিতে হবে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা আটক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে, যোগাযোগ রাখতে এবং তাঁর জন্য আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে পারেন। এই দুইজন বাংলাদেশিকে তাঁদের অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না এবং তাঁরা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেছিলেন কি না, বাংলাদেশকে সেসব নথি চাইতে হবে। একই কনভেনশনের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা থাকলে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে দ্রুত সেই সংবাদ জানাতে হবে।

ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত

এই ঘটনার পাশে শ্রীলংকার সাম্প্রতিক উদ্যোগটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠা ফেসবুক পোস্টের ঘটনায় শ্রীলংকার নাগরিক আনোজন শিবরাসাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট সেই দণ্ড বাতিল করেন। ১৪ অক্টোবরের এএফপি প্রতিবেদনে শ্রীলংকার সরকারের বক্তব্য এবং কূটনীতিক ও আইনজীবীদের প্রচেষ্টার কথা এসেছে। মৃত্যুদণ্ড বাতিলের অর্থ তাঁর সব অভিযোগ থেকে মুক্তি নিশ্চিত হওয়া ধরে নেওয়া যাবে না। তবু প্রাণরক্ষার জন্য আইনি উদ্যোগ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ একসঙ্গে চালানোর গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট। 


বাংলাদেশের নিজের অভিজ্ঞতাও আছে। ২০১০ সালের ১৬ মে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জন  বাংলাদেশি সরকারের দেওয়া রক্তপণের মাধ্যমে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছিলেন। ২০০৭ সালে একজন পাকিস্তানি শ্রমিককে হত্যার ঘটনায় তাঁদের দণ্ড হয়। নিহতের পরিবারকে দুই লাখ দিরহাম দেওয়া হয়েছিল। দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলরের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনজীবীর খরচ হয়েছিল আরও ত্রিশ হাজার দিরহাম। অর্থাৎ তাঁদের জন্য যোগাযোগ, দরকষাকষি, আইনি সহায়তা এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। 


সৌদির বর্তমান মামলা ও আমিরাতের সেই হত্যা মামলার আইনি ধরন আলাদা। রক্তপণের সুযোগ সব অভিযোগে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না। শ্রীলংকার নাগরিকের মামলার ফলও বাংলাদেশের দু’জনের ক্ষেত্রে একই ফলের নিশ্চয়তা দেয় না। তবু এসব অভিজ্ঞতা সরকারের কাছে জবাব চাওয়ার যথেষ্ট কারণ তৈরি করে। তাঁদের আটকের সংবাদ সংগ্রহের কী ব্যবস্থা ছিল, পরিবার কোনো সাহায্য চেয়েছিল কি না, মামলার তথ্য পাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং সময়মতো খবর পেলে আপিল, দণ্ড স্থগিত ও ক্ষমার আবেদনের কতটা সুযোগ থাকত—এসব বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।


বাংলাদেশ সরকার জানত না বলেই আলোচনা শেষ হতে পারে না। কেন জানতে পারেনি, সেই প্রশাসনিক অনুসন্ধানও জরুরি। সৌদি কর্তৃপক্ষ তথ্য আটকে রাখলে তার প্রতিবাদ করতে হবে। বাংলাদেশের কোনো দপ্তরে আবেদন পৌঁছানোর পরও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাব দিতে হবে। নথি ছাড়া আগাম দোষ নির্ধারণ করলে প্রকৃত ব্যর্থতা চিহ্নিত করা কঠিন হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঘটনার সময়ক্রম প্রকাশ করতে হবে। কবে প্রথম খবর এসেছে, কবে চিঠি পাঠানো হয়েছে, কী উত্তর মিলেছে, নাগরিকদের তা জানার অধিকার আছে।


বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখতে পোশাকশ্রমিকদের শ্রম ও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠান, পরিবারের খরচ জোগান। অথচ তাঁদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সরকারের তৎপরতা প্রত্যাশার তুলনায় কম। বিপদে দূতাবাসের সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যাঁদের উপার্জনে দেশের অর্থনীতি শক্তি পায়, তাঁদের সহায়তা পেতে এমন অবহেলার মুখোমুখি হওয়া দুঃখজনক। প্রবাসীদের প্রতি এই অবহেলা বন্ধ করে তাঁদের অভিযোগের দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।


সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে বক্তব্যের সঙ্গে বিদেশে বিপন্ন নাগরিকের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রচার, উচ্চপর্যায়ের সফর এবং আধিপত্যবিরোধী ভাষণের মূল্যায়নে প্রবাসীর নিরাপত্তাও বিবেচনায় আসবে। শ্রমবাজার হারানোর আশঙ্কায় সরকার শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলতে দ্বিধা করলে তার মাশুল দিতে হয় শ্রমিকদেরই। রাষ্ট্রের প্রতিনিধির কাজ বিপন্ন নাগরিকের জন্য সময়মতো আইনজীবী নিশ্চিত করা, কারাগারে যোগাযোগ করা এবং পরিবারের কাছে নির্ভরযোগ্য সংবাদ পৌঁছানো।


নারী গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গেও সৌদি সরকারের জবাবদিহি জরুরি। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তুলতে হবে। গৃহকর্তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে এসেছে, গণমাধ্যমেও বহু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও নির্যাতিত নারীদের প্রতিকার পাওয়ার অনিশ্চয়তা কাটেনি। তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। বাংলাদেশ সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামে এসব অভিযোগ তুলে ধরতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাঁর ক্ষতিপূরণ পাওয়া এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


শ্রমিকের ব্যক্তিগত আচরণের জন্য কঠোর শাস্তি দেওয়া হলেও নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে শিথিলতা থাকলে বাংলাদেশকে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করতে হবে। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তেরও জবাবদিহি থাকতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারীকে সামাজিকভাবে হেয় করে এমন ভাষাও পরিহার করতে হবে। তাঁর ওপর নির্যাতনের বিবরণ প্রকাশের আগে তাঁর সম্মতি নিতে হবে। অভিযোগের তদন্ত, দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের দায় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র ও শ্রমিক নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নিতে হবে।


এখন বাংলাদেশের করণীয় নির্দিষ্ট। প্রথম কাজ অভিযোগপত্র, রায় ও আপিলের নথি সংগ্রহ এবং দোভাষী ও আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার তথ্য যাচাই করা। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ ও ব্যক্তিগত সম্পদের অবস্থাও জানানো জরুরি। সৌদি কারাগারে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশিদের মামলা পর্যালোচনায় অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটি মামলার জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি অর্থের সংস্থান ও স্থানীয় আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা দরকার। মিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সহজ ব্যবস্থা থাকলে অসচ্ছল পরিবার এক জায়গা থেকেই তথ্য ও সহায়তা পেতে পারে।


সৌদি সরকারের কাছে পাঠানো চিঠির উত্তর পেতে দেরি হলে উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন করা জরুরি। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশি নাগরিকের আটকের সংবাদ দূতাবাসকে জানানো, বন্দীর সঙ্গে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা চাইতে হবে। বন্দীদের পরিচয় গোপন রেখেই কতজন আইনজীবীর সহায়তা পেয়েছেন এবং কতটি মামলায় দণ্ড স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে, সেই হিসাব প্রকাশ করা সম্ভব। প্রবাসীদের সহায়তায় বরাদ্দ অর্থ অব্যবহৃত থাকলে তার কারণ জানানোও সরকারের দায়িত্ব। অভিযোগ গ্রহণের পর পরিবারকে একটি নির্দিষ্ট নম্বর দেওয়া প্রয়োজন, যার মাধ্যমে তারা সহজে অগ্রগতি জানতে পারবে। এতে প্রতিবার নতুন করে নিজের দুর্দশার বিবরণ দেওয়ার ভোগান্তি কমবে। ব্যক্তিগত পরিচিতি, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও আর্থিক সামর্থ্য নির্বিশেষে সবার এই সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার দায় সরকারের।


পরিবারকে সঠিক তথ্য জানাতে নির্দিষ্ট একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া জরুরি। স্বজনেরা যেন তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নির্ভরযোগ্য খবর পান। শোকের মধ্যে স্বজনেরা যেন সঠিক খবরের জন্য হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার দায় সরকারের। প্রবাসীদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলার সময় তাঁদের পাঠানো অর্থের হিসাব তুলে ধরা হয়। তাঁরা বিপদে পড়লে রাষ্ট্র কত দ্রুত সহায়তা দেয়, তার হিসাবও প্রকাশ করা হোক। অপরাধে অভিযুক্ত হলেও একজন নাগরিকের আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ণ  থাকে। এই দু’জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আইনি সহায়তা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের কী সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সৌদি সরকারের কাছে তার পূর্ণ ব্যাখ্যা চাওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করুক, এমন পরিস্থিতিতে অন্য কোনো নাগরিকের জীবন রক্ষায় এখন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Logo