Logo

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

×

Follow Us

মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতন: নিরাপত্তার দায় নেবে কে?

ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত

মত-দ্বিমত

মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতন: নিরাপত্তার দায় নেবে কে?

শাহেদ কায়েস

শাহেদ কায়েস

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ পিএম

সাত বছরের একটি শিশু রাতে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে ওঠে। তার আতঙ্কিত কণ্ঠে শোনা যায়, “আমার গলা ছেড়ে দাও।” যে বয়সে একটি শিশুর ঘুম ভাঙার কথা মায়ের ডাক, সকালের আলো কিংবা স্কুলে যাওয়ার তাড়ায়, সেই বয়সে তার ঘুমের ভেতর ফিরে আসছে নির্যাতনের স্মৃতি। তার শরীরে ক্ষত, মনে গভীর আঘাত। চিকিৎসা দরকার, অথচ সামান্য আয়ের বাবার পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। 

সাভারের একটি আবাসিক মাদ্রাসার এই শিশুকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ আমাদের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার এক ভয়াবহ দুর্বলতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। শিশুটির বাবার করা মামলায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, কয়েক মাস ধরে পাঁচ শিক্ষার্থী তাকে পর্যায়ক্রমে যৌন নির্যাতন করেছে। নিরাপত্তার আশায় যে শিক্ষকের কাছে সে আশ্রয় পেয়েছিল, পরে সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধেও তাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আরও ভয়াবহ হচ্ছে, অন্য শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও শিশুটি সুরক্ষা পায়নি; উল্টো তাকে মারধর ও ঘটনা পরিবারকে না জানানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন। ফলে কার অপরাধ কতটুকু, তা বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। তবে শিশুটির ওপর নির্যাতনের যে বিবরণ সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তা একটি বড় আলোচনার প্রয়োজন সামনে এনেছে। আমাদের আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিশু কতটা নিরাপদ? সেখানে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ, অভিযোগ গ্রহণ, দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার কার্যকর ব্যবস্থা কতটা আছে? প্রশ্নটি ধর্মীয় শিক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার প্রসঙ্গ নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক শিশু মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। বহু পরিবার বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে সন্তানকে এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠায়। সেই আস্থার কারণেই মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষার প্রশ্নটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। কোনো প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় পরিচয় তাকে জবাবদিহির বাইরে রাখতে পারে না। একইভাবে কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধের দায় পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপিয়ে দেওয়াও সুবিচার হবে না। আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হবে শিশু এবং তার নিরাপত্তা।

আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বাস্তবতা রয়েছে। শিশু সেখানে দিনের বড় অংশ, অনেক ক্ষেত্রে চব্বিশ ঘণ্টাই পরিবারের প্রত্যক্ষ নজরদারির বাইরে থাকে। তার খাওয়া, ঘুম, পড়াশোনা, শাসন, অসুস্থতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সবকিছু অনেকাংশে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। ক্ষমতার এই অসম সম্পর্কের মধ্যে ছোট শিশুর পক্ষে একজন শিক্ষক কিংবা বয়সে বড় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা অত্যন্ত কঠিন। ভয়, শাস্তি, বহিষ্কার, সামাজিক লজ্জা এবং পরিবার বিশ্বাস করবে কি না, এমন নানা আশঙ্কা তাকে নীরব করে দিতে পারে।

সাভারের ঘটনাটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক এখানেই। মামলার বিবরণ অনুসারে, শিশুটি কয়েকজনের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তার কথা গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং পরিবারকে জানালে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। একটি শিশু যখন সাহস করে নির্যাতনের কথা বলে, তখন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রথম দায়িত্ব তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তার ব্যবস্থা করা। অভিযোগ চেপে রাখার প্রতিটি চেষ্টা নির্যাতনকারীকে আরও সুযোগ দিতে পারে।

এখানে মানবাধিকারের প্রসঙ্গ অত্যন্ত স্পষ্ট। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক মানুষের আইনের আশ্রয় ও সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে। ৩২ অনুচ্ছেদ জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার কথা বলেছে। শিশু বলে এই অধিকার কমে যায় না; তার বয়স ও অসহায় অবস্থানের কারণে রাষ্ট্রের সুরক্ষার দায়িত্ব আরও গভীর। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ১৯ অনুচ্ছেদে শিশুকে শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা, আঘাত, অবহেলা, নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়ন থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রকে আইনগত, প্রশাসনিক, সামাজিক ও শিক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ৩৪ অনুচ্ছেদে যৌন শোষণ ও যৌন নির্যাতন থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা হয়েছে। নির্যাতনের পর শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও শিশু অধিকারের অংশ।

ফলে শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না। শিশুটির চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। তার শারীরিক ক্ষতের চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দরকার। যৌন নির্যাতনের শিকার শিশু ভয়, দুঃস্বপ্ন, অপরাধবোধ, মানুষের প্রতি অনাস্থা, আচরণগত পরিবর্তন এবং পড়াশোনায় অনাগ্রহসহ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত বহন করতে পারে। শিশুটিকে বারবার ঘটনার বিবরণ দিতে বাধ্য করাও তার মানসিক আঘাত বাড়াতে পারে। তদন্ত, চিকিৎসা ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাই শিশুবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ জরুরি।

শিশুর পরিচয় সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা স্থানীয় আলোচনায় এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরিবারকেও সামাজিক চাপ থেকে রক্ষা করতে হবে। যৌন নির্যাতনের দায় কখনো ভুক্তভোগী শিশুর নয়। লজ্জা তার পরিবারেরও নয়। লজ্জা অপরাধীর এবং সেই ব্যবস্থার, যে ব্যবস্থা শিশুকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন উদ্বেগ হিসেবেও দেখার সুযোগ কমছে। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। নড়াইলে সম্প্রতি এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে; অন্য একটি মামলায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের দায়ে একজন শিক্ষককে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। ইউনিসেফও চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।

এখানে তাই কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। সব আবাসিক মাদ্রাসার জন্য বাধ্যতামূলক শিশু সুরক্ষা নীতিমালা থাকতে হবে। শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই, শিশুদের থাকার জায়গায় নিরাপদ তদারকি, বয়সভেদে উপযুক্ত আবাসন, নির্যাতনের অভিযোগ জানানোর গোপন ও সহজ ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর নিয়ম কার্যকর করতে হবে। শিক্ষকদের শিশু অধিকার, যৌন নির্যাতনের লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং অভিযোগ পেলে কীভাবে শিশুর সঙ্গে আচরণ করতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দরকার।

মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতনের গত এক দশকের পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। এই তথ্যশূন্যতাও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা। তবে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের পর্যবেক্ষণে উঠে আসা চিত্র গভীর উদ্বেগ তৈরি করে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদপত্র পর্যবেক্ষণ অনুসারে, শুধু ২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় অন্তত ৫২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল; তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসে আরও ১০ শিশুর ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। অর্থাৎ মাত্র ১৫ মাসে মাদ্রাসায় অন্তত ৬২ শিশুর ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীর হাতে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিত উঠে এসেছে। অথচ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পৃথক জাতীয় তথ্যভান্ডার না থাকায় গত পাঁচ কিংবা দশ বছরে ঠিক কত শিশু মাদ্রাসায় ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য মোট সংখ্যা জানা কঠিন। প্রকাশিত সংখ্যার বাইরেও থেকে যায় সেই শিশুরা, যাদের পরিবার সামাজিক চাপ, ভয় ও লোকলজ্জার কারণে অভিযোগ করেনি, যাদের ঘটনা স্থানীয়ভাবে চাপা পড়েছে, কিংবা যাদের কান্না কোনো সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তাই মাদ্রাসাসহ সব আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু যৌন নির্যাতনের পৃথক তথ্য সংগ্রহ, নিয়মিত প্রকাশ এবং প্রতিটি অভিযোগের পরিণতি পর্যবেক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন শুধু ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা নয়; তার নিরাপত্তা, মর্যাদা, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং স্বাভাবিক শৈশবের অধিকারের ওপর গভীর আঘাত।

শিশুদেরও বয়সোপযোগীভাবে জানাতে হবে কোন আচরণ অনুচিত, কেউ শরীর স্পর্শ করে অস্বস্তিতে ফেললে কী করতে হবে এবং কার কাছে সাহায্য চাইতে হবে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ থাকা জরুরি, যাতে শিক্ষক কিংবা অন্য শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছাড়াই তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে স্বাধীন তদারকি। প্রতিষ্ঠান নিজেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার করবে, এমন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক। মাদ্রাসাসহ সব আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শন, শিশু সুরক্ষা নিরীক্ষা এবং অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নির্যাতনের অভিযোগ গোপন করলে, মীমাংসার চেষ্টা করলে কিংবা অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তা করলে তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সাত বছরের শিশুটির সামনে এখন দীর্ঘ পথ। তার ক্ষত শুধু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে সেরে উঠবে না। প্রয়োজন নিরাপত্তা, ভালোবাসা, নিয়মিত চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং এমন পরিবেশ, যেখানে তাকে কেউ করুণার চোখে দেখবে না। রাষ্ট্রকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে এমনভাবে, যাতে অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ না হয়। বিচার প্রক্রিয়ায় তার পরিবারকে আইনগত ও সামাজিক সহায়তাও দিতে হবে।

একটি শিশু ধর্মীয় শিক্ষা নিতে মাদ্রাসায় গিয়েছিল। তার পরিবার তাকে সেখানে পাঠিয়েছিল মানুষ হিসেবে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার আশায়। সেই শিশুটি যদি ফিরে আসে শরীরে ক্ষত আর মনে আতঙ্ক নিয়ে, তবে ঘটনাটি একটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যে সীমিত থাকে না। তা আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার সামনে কঠিন দায় রেখে যায়। কোন প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা পাবে, কোন কর্তৃপক্ষ বিব্রত হবে, কোন পরিচয় নিয়ে বিতর্ক উঠবে, এসবের আগে একটি বিষয়ই প্রধান হয়ে উঠতে হবে: শিশুটি নিরাপদ কি না। কারণ শিশুর নিরাপত্তার চেয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বড় হতে পারে না। যে সমাজ তার সবচেয়ে অসহায় শিশুর কান্না শুনতে পারে এবং তার পাশে দাঁড়াতে পারে, মানবিকতার পরিচয় শেষ পর্যন্ত সেখানেই।

মন্তব্য করুন

Logo