ওমর ইয়াঘি চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটিতে একটি এআই-ভিত্তিক মেটেরিয়ালস ল্যাবরেটরি পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন
আমেরিকা ছেড়ে চীনের এআই গবেষণাগারে নোবেলজয়ী রসায়নবিদ ওমর ইয়াঘি
সাঈদ হাসান
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:০৯ এএম
নোবেলজয়ী রসায়নবিদ ওমর ইয়াঘি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চীনে পাড়ি জমাচ্ছেন। সেখানে তিনি সিংহুয়া ইউনিভার্সিটিতে একটি এআই-ভিত্তিক মেটেরিয়ালস ল্যাবরেটরি পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।
আমেরিকার বিজ্ঞান গবেষণায় বাজেট সংকোচন এবং একই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে শীর্ষস্থানীয় মেধা ও বিজ্ঞানীদের নিজেদের দেশে টেনে আনার জন্য চীনের প্রয়াসের অংশ হিসেবেই ঠিকানা ও কর্মস্থল পাল্টালেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এই নোবেলজয়ী।
ওমর ইয়াঘি ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে ফিলিস্তিনি শরণার্থী মা-বাবার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
রসায়ন শাস্ত্রে ওমর ইয়াঘির অবদান যুগান্তকারী। তিনি মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক বা এমওএফ (MOF) এবং রেটিকুলার কেমিস্ট্রির (Reticular Chemistry) অন্যতম মূল কারিগর। ২০২৫ সালে সুসুমু কিতাগাওয়া এবং রিচার্ড রবসন-এর সাথে যৌথভাবে তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
ওমর ইয়াঘির আবিষ্কৃত এই মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক হলো এমন এক ধরণের বিশেষ কৃত্রিম উপাদান যা আণবিক স্তরে স্পঞ্জের মতো কাজ করে। এর ভেতরে অগণিত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা বাতাস থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস শোষণ করতে, মরুভূমির শুষ্ক বাতাস থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে কিংবা হাইড্রোজেন ফুয়েল জমা রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এবং পরিবেশ সুরক্ষায় তার এই আবিষ্কারকে বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম সেরা উদ্ভাবন হিসেবে গণ্য করা হয়।
বর্তমানে নতুন নতুন মেটেরিয়াল বা পদার্থ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। ওমর ইয়াঘি এখন মেটেরিয়াল সায়েন্সের সাথে এআই-এর সমন্বয় ঘটিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও উন্নত উপাদান তৈরির গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছেন।
চীন বর্তমানে এই এআই মেটেরিয়ালস গবেষণায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে এবং বিশ্বের সেরা গবেষকদের সব ধরণের অভাবনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নিজেদের দেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান খাতের সরকারি বাজেট কিছুটা সংকুচিত হওয়ার কারণে অনেক শীর্ষ বিজ্ঞানী তাদের পরবর্তী বড় প্রজেক্টের জন্য এশিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। ওমর ইয়াঘির মতো একজন শীর্ষস্থানীয় নোবেলজয়ীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চীনে চলে যাওয়াকে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড় ধরণের ওলটপালট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন

