রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ পাহাড় ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জনের রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ৯ প্রাণহানি
কাভার স্টোরি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ পাহাড় ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জনের রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। একই রাতে কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে।
রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠান।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পে। পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। পরে ৭ নম্বর ও ১১ নম্বর ক্যাম্পে আরও দুটি ধসে এক শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে চাপা পড়ে আলী আকবর নামে এক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়।
রোহিঙ্গাদের জন্য বর্ষাকাল দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের সময়। পাহাড় কেটে তৈরি ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটি দিয়ে তৈরি হাজার হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ঘর ভারী বৃষ্টিতে মুহূর্তেই ধসে পড়তে পারে। ফলে প্রতিটি বর্ষাই তাদের জীবনে নতুন করে মৃত্যু, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার আশঙ্কা নিয়ে আসে।
যারা আগে নিজ দেশ, ঘরবাড়ি ও স্বজন হারিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তারাও এখন নিরাপদ আশ্রয়স্থলেই প্রকৃতির নির্মম আঘাতের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবু প্রতিকূলতার মধ্যেও রোহিঙ্গারা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের আশা আঁকড়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী সব রোহিঙ্গা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মানবিক সহায়তাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন

