Logo

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

×

Follow Us

চলতি বছরের ছয় মাসে ৬ মাজারে হামলার দাবি মাকামের

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামিমের খানকায় হামলা করে তাকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়

খোঁজ-খবর

চলতি বছরের ছয় মাসে ৬ মাজারে হামলার দাবি মাকামের

ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান

Icon

কাভার স্টোরি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:১১ পিএম

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে অন্তত ছয়টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ-মাকাম’। একই সময়ে একটি মাজারের ওরস পালনে পুলিশি বাধা, একটি ওরসে হামলার চেষ্টা এবং একটি হামলার গুজবও শনাক্ত করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। 

শনিবার প্রকাশিত '২০২৬ সালে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশে সংঘটিত মাজার হামলা' শীর্ষক ষান্মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে মাকাম। প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ ও দরবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। 

মাকাম জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে দেশে সংঘটিত মাজারে হামলার ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের ১৩৪টি অভিযোগ পর্যালোচনা করে ৯৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। 

নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রমাণিত ছয়টি হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ছিল গত ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম বাবার দরবারে। কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একদল লোক দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় এবং পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এতে তার দুই অনুসারী গুরুতর আহত হন। প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও চার ভরি স্বর্ণ লুট হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের কিছু নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া অন্তত দুটি বড় হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং একটি ঘটনায় খেলাফত মজলিসের স্থানীয় সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মাকামের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ছয় মাসে প্রমাণিত ছয়টি হামলার মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি ঘটেছে কুষ্টিয়ায়। একটি ঘটনায় মাজারে হামলার জেরে একটি মসজিদেও হামলা হয়। হামলার পর অন্তত দুটি দরবারে ওরসসহ অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসব ঘটনায় একজন নিহত এবং নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনটির দাবি, হামলার পেছনে ধর্মীয় মতাদর্শগত বিরোধ, স্থানীয় দ্বন্দ্ব, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণের অজুহাত এবং মাজারের সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধ কাজ করেছে। অন্তত তিনটি ঘটনায় হামলাকারীরা ধর্মীয় স্লোগান দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মাকাম জানায়, প্রমাণিত ছয়টি ঘটনার মধ্যে মাত্র দুটি ঘটনায় মামলা হয়েছে—কুষ্টিয়ার শামীম হত্যা এবং রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদীর মাজারে হামলার ঘটনায়। দুটি মামলায় ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ঘটনায় চারজন এবং শাহ আলী বাগদাদীর মাজার হামলার ঘটনায় তিনজন রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে হামলার সংখ্যা কমেছে। তবে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর হামলার যে প্রভাব পড়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার মতো কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা হামলাকারীদের উৎসাহিত করছে বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

মাকাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রমাণিত ১০৩টি হামলার প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ ও দরবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটির মতে, সামাজিক স্থিতিশীলতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় এসব পদক্ষেপ জরুরি।

মন্তব্য করুন

Logo