‘গার্ড অব অনারে’ একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর শেষ বিদায়। ছবি: সংগৃহীত
‘গার্ড অব অনারে’ একাত্তরের বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর শেষ বিদায়
কাভার স্টোরি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের মাধ্যমে গতকাল বুধবার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম, রাণীশংকৈল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মঙ্গলবার ১২ মে রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন টেপরী রাণী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি বলিদ্বারা গ্রামের মৃত মধুদাস রায়ের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ছবি: বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে টেপরী রাণীর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময়টিতে স্থানীয় এক রাজাকার তাকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তুলে দেয়। সেখানে টানা সাত মাস নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন টেপরী রাণী। কিন্তু স্বাধীনতার পরও সমাজ তাকে সহজভাবে মেনে নেয়নি। অনাগত সন্তানকে নষ্ট করে ফেলার জন্য চারদিক থেকে চাপ আসতে থাকে। সেই কঠিন সময়ে মেয়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান তার বাবা। তিনি বলেছিলেন, “এই সন্তানই হবে তোর বেঁচে থাকার অবলম্বন।”
পরে জন্ম হয় ছেলে সুধীর বর্মনের। কিন্তু সমাজের কটূক্তি তাদের পিছু ছাড়েনি। ছোটবেলা থেকেই সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হতো। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক।
দীর্ঘ অবহেলা ও বঞ্চনার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বীরাঙ্গনা’ স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী। পরের বছর তার আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প প্রকাশ্যে এলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
মন্তব্য করুন

