Logo

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

×

Follow Us

নড়াই নদীর নামফলক উধাও

নামফলক অপসারণের অর্থ কেবল একটি সাইনবোর্ড হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং নদীটির পরিচয় ও ঐতিহাসিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার অপচেষ্টা

খোঁজ-খবর

নড়াই নদীর নামফলক উধাও

রামপুরা থানায় জিডি; নদী দখলচক্রের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে শঙ্কা

Icon

কাভার স্টোরি ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

রাজধানীর রামপুরা-খিলগাঁও এলাকার ঐতিহাসিক নড়াই নদীর নামফলক (সাইনবোর্ড) রহস্যজনকভাবে উধাও হওয়ার ঘটনায় রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন নোঙর বাংলাদেশ এ ঘটনাকে নদী ও পরিবেশের ওপর পরিকল্পিত আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নোঙর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন শামস ১৩ জুলাই রামপুরা থানায় জিডি করেন। জিডি গ্রহণের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এসআই পলাশ কুমার ঘোষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নোঙর বাংলাদেশের দাবি, নড়াই নদী রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর আয়োজিত মানববন্ধন ও নৌ-র‌্যালির সময় নদীর নামফলকটি স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে এটি নদী সংরক্ষণ আন্দোলনের একটি প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত ২৬ জুন সকাল ১০টার পর থেকে নামফলকটি আর নির্ধারিত স্থানে দেখা যাচ্ছে না।

দখল ও দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে নড়াই নদী

সংগঠনটির ভাষ্য, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নদীর অস্তিত্ব ও ইতিহাস আড়াল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নামফলকটি সরিয়ে ফেলতে পারে। তাদের মতে, একটি নদীর নামফলক অপসারণের অর্থ কেবল একটি সাইনবোর্ড হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং নদীটির পরিচয় ও ঐতিহাসিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার অপচেষ্টা।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস বলেন, নদীর নামফলক চুরি কেবল একটি সাইনবোর্ড চুরির ঘটনা নয়, এটি নদী ও পরিবেশের ওপর এক ধরনের হামলা। তিনি নদী দখলচক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নড়াই নদীর সীমানা ও অস্তিত্ব রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

নোঙর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদেরও নদী রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, রাজধানীতে একের পর এক নদী ও খাল হারিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নড়াই নদীর মতো ঐতিহাসিক জলধারাকে রক্ষায় এখনই কঠোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করবে এবং নড়াই নদীর নামফলক পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Logo