Logo

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

×

Follow Us

চুক্তি, প্রতিনিধিত্ব ও রাষ্ট্রপরিচালনার প্রশ্ন (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)

গত ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

মত-দ্বিমত

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব সংকট

চুক্তি, প্রতিনিধিত্ব ও রাষ্ট্রপরিচালনার প্রশ্ন (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)

মিলিন্দ মারমা

Icon

মিলিন্দ মারমা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ পিএম

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এনেছে চুক্তি, প্রতিনিধিত্ব ও রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নেতৃত্বের কাঠামো এবং প্রাচীন রাষ্ট্রচিন্তার আলোকে এই জটিল বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ করেছেন লেখক ও অধিকারকর্মী মিলিন্দ মারমা। দুই পর্বে প্রকাশিত এই নিবন্ধের আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব ও শেষ।

পদত্যাগ ও পুনর্বহালের দাবি

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন মহল তাঁকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে।

গত ২১ জুন তিন পার্বত্য জেলার নাগরিক সমাজ ও প্রথাগত নেতারা মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হোক। একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এমন একজন ব্যক্তির থাকা প্রয়োজন, যিনি পার্বত্য অঞ্চলের ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত।

এর কয়েক দিন পর, ২৬ জুন দেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের শূন্যতা দ্রুত পূরণের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, একজন আস্থাভাজন পাহাড়ি প্রতিনিধিকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিবৃতিতে বলা হয়, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর সরকারের প্রতি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আস্থায় চিড় ধরেছে, যা নতুন সরকারের প্রতি তৈরি হওয়া ইতিবাচক প্রত্যাশাকেও ক্ষুণ্ন করেছে।

তাঁরা ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে মন্ত্রী নিয়োগের বিধান বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে দ্রুত একজন পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের আহ্বান জানান। 

অন্যদিকে, সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল জেএসএস এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী করা চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও একই দিনে চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী করা চুক্তির মূল চেতনার পরিপন্থী ছিল।

দলটির অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রীকে অপসারণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের আরও দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের ১০২ দিনের মাথায় বিভিন্ন চাপের মুখে দীপেন দেওয়ানকে ১ জুন পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান উপেক্ষা করে প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমেই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ ও চুক্তি বিতর্ক

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর স্বাস্থ্যগত কারণের পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে—পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন পাহাড়ি মন্ত্রীর পাশাপাশি সমতলের একজন ব্যক্তিকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত।

শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। নাগরিক সমাজের একটি অংশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দ্বৈত নেতৃত্ব কাঠামো ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত হবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়কে সহায়তার জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। ওই পরিষদে আঞ্চলিক পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য, পাহাড়ে বসবাসরত তিনজন আদি ও স্থায়ী বাঙালি প্রতিনিধি এবং সার্কেল চিফদের প্রতিনিধিত্বের বিধান রয়েছে।

তবে সমতলের কোনো ব্যক্তিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে চুক্তিতে কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। সমালোচকদের মতে, প্রতিমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করে এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ চুক্তিগত ভিত্তি নেই। ফলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ব্যাখ্যা, প্রতিনিধিত্বের ধারণা এবং রাষ্ট্রের অঙ্গীকার সম্পর্কেও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

সরকারি অবস্থান, অনিশ্চয়তা ও দীপেন দেওয়ানের বক্তব্য 

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিস্তারিত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সমালোচকদের মতে, একটি সংবেদনশীল ও চুক্তিভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামোয় এমন পরিবর্তনের আগে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা জনসমক্ষে স্পষ্ট করা উচিত ছিল।

পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলই আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। জীবনের অবশিষ্ট সময়ও এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট থাকবে। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করব না।” একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থাশীল।” (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৪ জুন ২০২৬)

এদিকে পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আলোচনা রয়েছে, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বও দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনা ও জনমতের পরিসরেই সীমাবদ্ধ; একে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রাচীন রাষ্ট্রচিন্তায় নেতৃত্ব কাঠামো ও প্রশাসনিক শিক্ষা

রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্বের প্রশ্ন নতুন নয়। প্রাচীন ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তায়ও এ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দক্ষতা, নৈতিকতা ও স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেয়। একইভাবে মহাভারতের শান্তিপর্বে ভীষ্ম প্রশাসনিক কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর যুধিষ্ঠিরকে রাষ্ট্রনীতি শেখাতে গিয়ে ভীষ্ম সতর্ক করেছিলেন—একই দায়িত্ব পালনের জন্য একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি হতে পারে, যা প্রশাসনিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে।

তিনি রাষ্ট্রের সহযোগীদের কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেন। সমার্থ মিত্র শাসকের স্বার্থকে নিজের স্বার্থ হিসেবে গ্রহণ করেন; ভজমান মিত্র আনুগত্যের ভিত্তিতে পাশে থাকেন; সহজ মিত্র আত্মীয়তার সূত্রে যুক্ত; কৃত্রিম মিত্র স্বার্থের কারণে সম্পর্ক বজায় রাখেন; আর ধর্মাত্মা মিত্র ব্যক্তি নয়, ন্যায় ও নীতির প্রতি অনুগত থাকেন।

দীপেন দেওয়ানের প্রকাশ্য বক্তব্য বিবেচনায় তাঁকে ভজমান মিত্রের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। তবে এখানে মূল আলোচ্য ব্যক্তি নয়, প্রশাসনিক কাঠামো। প্রশ্ন হলো, দায়িত্বের সীমারেখা অস্পষ্ট হওয়ায় এমন একটি নেতৃত্বব্যবস্থা তৈরি হয়েছে কি না, যেখানে দ্বৈত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে।

প্রাচীন রাষ্ট্রচিন্তার শিক্ষা হলো, কার্যকর প্রশাসনের জন্য শুধু যোগ্য ব্যক্তি নয়; দায়িত্ব বণ্টনের কাঠামোও হতে হবে সুস্পষ্ট, ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক। অন্যথায় প্রাতিষ্ঠানিক অস্পষ্টতা প্রশাসনিক অকার্যকারিতা ও আস্থাহীনতার জন্ম দিতে পারে।

ক্ষমতার দ্বন্দ্বের রূপক

দ্বৈত নেতৃত্বের ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে প্রাচীন রাষ্ট্রচিন্তায় একটি অর্থবহ রূপকের উল্লেখ পাওয়া যায়।

একটি সাপের দুটি মাথা ছিল—একটি সামনের দিকে, অন্যটি লেজের ডগায়। সামনের মাথাটি দেখতে পেলেও পেছনেরটি ছিল অন্ধ। দীর্ঘদিন সামনের মাথার নেতৃত্বে চললেও দুই মাথার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দ্বন্দ্ব ছিল। একদিন অন্ধ মাথাটি জোর করে নেতৃত্ব নিজের হাতে নেয়।

কিন্তু পথ দেখার ক্ষমতা না থাকায় তার নেতৃত্বে সাপটি শেষ পর্যন্ত জ্বলন্ত আগুনের গর্তে পড়ে মারা যায়।

এটি কেবল নীতিগল্প নয়; রাষ্ট্র পরিচালনারও একটি গভীর শিক্ষা। নেতৃত্ব এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা প্রয়োজন, যার সংশ্লিষ্ট অঞ্চল, জনগোষ্ঠী, ইতিহাস ও বাস্তবতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রয়েছে। অন্যথায় সদিচ্ছা থাকলেও বাস্তবতার অজ্ঞতা প্রশাসনিক ভুল, নীতিগত সংকট এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার কারণ হতে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে এই শিক্ষা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। এখানে নেতৃত্বের প্রশ্ন কেবল প্রশাসনিক দক্ষতার নয়; এটি আস্থা, প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত।

অবশ্য আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে এই রূপকের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না। তবে এর মূল শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক—ক্ষমতার কাঠামো এমন হওয়া উচিত, যাতে দায়িত্বের সীমারেখা স্পষ্ট থাকে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভ্রান্তি না তৈরি হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সুযোগ কমে। 

নেতৃত্ব ও কাঠামোগত ভারসাম্যের প্রশ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক কেবল একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের বিষয় নয়; এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, প্রশাসনিক কাঠামো এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থার প্রশ্নের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। 

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসন ও আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক কাঠামো প্রস্তাব করেছিল। সেই কাঠামোর ভিত্তি ছিল প্রতিনিধিত্ব, অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক বিশ্বাস। ফলে চুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যেকোনো পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সংবেদনশীল এবং তা সুস্পষ্ট যুক্তি ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের দাবি রাখে। 

এই বাস্তবতায় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো, চুক্তির বিধান ও চেতনাকে সামনে রেখে এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা, যা কার্যকর, স্বচ্ছ এবং সর্বপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য। প্রয়োজনে প্রতিমন্ত্রীর পদ, দায়িত্ব বণ্টন কিংবা নেতৃত্ব কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের জনগণ, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।

উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুশাসন—এই তিনটি লক্ষ্য পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক। তবে টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তা প্রতিনিধিত্ব, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। 

রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। আর সেই কাঠামো যদি স্পষ্ট, ভারসাম্যপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তবে যোগ্য ব্যক্তির উপস্থিতিও কাঙ্ক্ষিত ফল নিশ্চিত করতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই আরেকটি স্মারক। 

মিলিন্দ মারমা: লেখক ও অধিকার কর্মী

ইমেইল: [email protected] 

মন্তব্য করুন

Logo