সুজানগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গাজনা বিলে কচুরিপানা দমনে গ্লাইফোসেট বিষ প্রয়োগের পর মধুপুর গ্রামের প্রায় ৩০ বিঘা জমির পাটক্ষেত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ, ছবি: সংগৃহীত
মোহাম্মদ শরীফ
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গাজনা বিলে কচুরিপানা দমনে গ্লাইফোসেট বিষ প্রয়োগের পর মধুপুর গ্রামের প্রায় ৩০ বিঘা জমির পাটক্ষেত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ভুল প্রক্রিয়ায় বিষ প্রয়োগের কারণে বিষাক্ত পানি ছড়িয়ে পড়ে তাদের পাট ক্ষেতে।যাঁর ফলে ব্যাপক ক্ষতির সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার গাজনা বিলের পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় “গাজনার বিল কচুরি নিধন কার্যক্রম”-এর শুভ উদ্বোধন করেন পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব।
গাজনা বিল এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলাশয়। দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানার অতিরিক্ত বিস্তারের ফলে বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল, মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছিল এবং নৌযান চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল,কৃষি ফসল উৎপাদনে কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলো। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে কচুরিপানা নিধনে বিষ প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, যথাযথ নিয়ম ও সতর্কতা অনুসরণ না করায় বিষ মিশ্রিত পানি আশপাশের কৃষিজমিতে প্রবেশ করে। এতে মধুপুর এলাকার প্রায় ২০-৩০ বিঘা জমির পাটগাছের আগা ঢলে যেতে শুরু করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ পদ্ধতিতে কচুরিপানা দমনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে বিলের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলজ সম্পদ উন্নয়নে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা যেন কৃষকের ক্ষতির কারণ না হয় সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
মোহাম্মদ শরীফ, পরিবেশ কর্মী, গাজনার বিল, সুজানগর, পাবনা
মন্তব্য করুন

