Logo

১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

সত্যজিৎ রায়: গভীর অনুভবের রূপকার

সত্যজিৎ রায়

এই দিনে

এই দিনে

সত্যজিৎ রায়: গভীর অনুভবের রূপকার

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

চলচ্চিত্রের পর্দায় মানবজীবনের সূক্ষ্মতম অনুভূতি যিনি নিঃশব্দে তুলে ধরতে পেরেছেন, তিনি সত্যজিৎ রায়। তার নামের সঙ্গে মিশে আছে সম্পূর্ণ এক সৃজনশীল জগত। তিনি ছিলেন গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, সুরকার, শিল্প নির্দেশক—এক কথায় পূর্ণাঙ্গ এক শিল্পী, যিনি নিজের কাজের মধ্য দিয়ে সময়কে অতিক্রম করেছেন। ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায় জন্ম নেওয়া সত্যজিৎ রায় এমন এক পরিবারে বড় হয়েছেন, যেখানে সাহিত্য ও শিল্প ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তার বাবা সুকুমার রায় ছিলেন খ্যাতনামা শিশু সাহিত্যিক, আর দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন সাহিত্য ও মুদ্রণ প্রযুক্তির পথিকৃৎ।

এই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারই তাকে গড়ে তোলে এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গির শিল্পীতে। সত্যজিতের চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয় এমন এক সময়ে, যখন ভারতীয় সিনেমা মূলত বাণিজ্যিক ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু তিনি সেই ধারার বাইরে গিয়ে মানুষের বাস্তব জীবন, দারিদ্র্য, স্বপ্ন ও সংগ্রামকে তুলে ধরেন এক অনাড়ম্বর ভাষায়। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালি’ শুধু একটি সিনেমা ছিল না, এটি ছিল বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন ভাষার সূচনা। গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি এমন এক মানবিক সত্য তুলে ধরেন, যা দেশ-কাল পেরিয়ে সবার হৃদয়ে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে সময়ে ‘অপরাজিতা’ ও ‘অপুর সংসার’ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি সম্পূর্ণ করেন অপুর জীবনকথা। এই ধারাবাহিক কাজ তাকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

তার চলচ্চিত্রে বড় কোনো নাটকীয়তা নেই, নেই অতিরঞ্জন; বরং আছে জীবনের সহজ, স্বাভাবিক, অথচ গভীর সত্যের প্রকাশ। শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণেই নয়, সাহিত্যেও তার অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফেলুদা, প্রফেসর শঙ্কুর মতো চরিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার লেখায় যেমন বুদ্ধির দীপ্তি, তেমনি রয়েছে রসবোধ ও রহস্যের মিশেল। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—সব শ্রেণির পাঠকের কাছেই তিনি সমান জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার স্বীকৃতি ছিল অসামান্য। জীবনের শেষপ্রান্তে তিনি অর্জন করেন ‘অ্যাকাডেমি সম্মনসূচক অ্যাওয়াড’, যা তার আজীবন সৃষ্টিশীলতার প্রতি বিশ্ববাসীর শ্রদ্ধার প্রতীক। তবে, পুরস্কারের বাইরেও তার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—মানুষকে দেখার নতুন চোখ তৈরি করা। আজকের এই সময়ে, যখন প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিকতা অনেক ক্ষেত্রে শিল্পকে প্রভাবিত করে, তখন সত্যজিৎ রায়ের কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি গল্পের শক্তি কোথায়। তিনি দেখিয়েছেন, বড় বাজেট নয়, বরং গভীর মানবিক বোধই একটি চলচ্চিত্রকে মহান করে তোলে। তার জন্মদিন তাই কেবল একজন শিল্পীর স্মরণ নয়, এটি আমাদের নিজেদের শিল্পবোধ ও মানবিকতার দিকেও ফিরে তাকানোর সুযোগ। সত্যজিৎ রায় আমাদের শিখিয়ে গেছেন—জীবনকে গভীরভাবে দেখতে পারলেই, সেখানেই লুকিয়ে থাকে অসংখ্য গল্প। আর সেই গল্পগুলোই একসময় হয়ে ওঠে চিরন্তন।


এই দিনে 

  • ১১১২ চীনা জ্যোতির্বিদরা সূর্যের অভ্যন্তরে কালো বায়বীয় বস্তু (সানস্পট) লক্ষ্য করেন।
  • ১৫১৯: ইতালীয় রেনেসাঁসের বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী ও বিজ্ঞানী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি মারা যান।
  • ১৯৪৫: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত লাল ফৌজ বার্লিন দখল করে নেয় এবং ইতালিতে জার্মান বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
  • ১৯৫৯: কলকাতায় ভারতের প্রথম বিজ্ঞান সংগ্রহশালা 'বিড়লা শিল্প ও কারিগরি সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ১৯৭২: দক্ষিণ আমেরিকান দেশ হিসেবে কলম্বিয়া, কোস্টারিকা এবং ভেনেজুয়েলা বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। 
  • ১৯২১: প্রখ্যাত বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায় জন্মগ্রহণ করেন।

মন্তব্য করুন

Logo