ঐতিহাসিক “হুল “ বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস
জাকিয়া শিশির
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
আজ ৩০ জুন, ঐতিহাসিক “হুল “ বা সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। ফুলো মুর্মু ও ঝানো মুর্মু হলেন ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের এবং ১৮৫৫ সালের ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের (হুল) দুই প্রবাদপ্রতিম আদিবাসী বীরাঙ্গনা ও শহীদ নারী নেত্রী। তাঁরা ছিলেন এই বিদ্রোহের মূল সংগঠক সিধু, কানহু, চাঁদ ও ভৈরব মুর্মুর আপন বোন। মূলধারার ইতিহাসে তাঁদের অবদান দীর্ঘকাল উপেক্ষিত থাকলেও সাঁওতাল জনজাতির লোকগাথা ও সংস্কৃতিতে তাঁরা পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।ঐতিহাসিক অবদান ও বীরত্বসশস্ত্র প্রতিরোধ: ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক, শোষক জমিদার এবং সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে তাঁরা পুরুষ যোদ্ধাদের পাশাপাশি সরাসরি রণক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন।গেরিলা আক্রমণ: সাঁওতাল জনশ্রুতি অনুযায়ী,
১৮৫৫ সালের ৩০ জুন যুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাসে তা শেষ হয়। সাওতাঁলরা তীর-ধনুক ও দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করলেও ইংরেজ বাহিনীর হাতে ছিলো বন্দুক ও কামান। তারা ঘোড়া ও হাতি যুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। এ যুদ্ধে ইংরেজ সৈন্যসহ প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল যোদ্ধা শাহাদত বরণ করেন। সাঁওতাল বিদ্রোহের লেলিহান শিখা বৃটিশ সরকারের মসনদ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধে সিধু-কানু চান্দ ফুলো মুর্মু ও ঝানো মুর্মু পর্যায়ক্রমে নিহত হলে ১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাসে যুদ্ধ শেষ হয় ও বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফুলো মুর্মু ও ঝানো মুর্মু হলেন ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের এবং ১৮৫৫ সালের ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের (হুল) দুই প্রবাদপ্রতিম আদিবাসী বীরাঙ্গনা ও শহীদ নারী নেত্রী। তাঁরা ছিলেন এই বিদ্রোহের মূল সংগঠক সিধু, কানহু, চাঁদ ও ভৈরব মুর্মুর আপন বোন। মূলধারার ইতিহাসে তাঁদের অবদান দীর্ঘকাল উপেক্ষিত থাকলেও সাঁওতাল জনজাতির লোকগাথা ও সংস্কৃতিতে তাঁরা পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।ঐতিহাসিক অবদান ও বীরত্বসশস্ত্র প্রতিরোধ: ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক, শোষক জমিদার এবং সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে তাঁরা পুরুষ যোদ্ধাদের পাশাপাশি সরাসরি রণক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন।গেরিলা আক্রমণ: সাঁওতাল জনশ্রুতি অনুযায়ী,
ঔপনিবেশিক জুলুমের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জাতির মাধ্যমে সংগঠিত এক দুনিয়া কাঁপানো গণজাগরণের সাঁওতালি নাম 'হুল', বাংলায় সাঁওতাল বিদ্রোহ।
ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের (হুল) দুই প্রবাদপ্রতিম আদিবাসী বীরাঙ্গনা ও শহীদ নারী নেত্রী ফুলো মুর্মু ও ঝানো মুর্মু
১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ভারতের বর্তমান ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সাঁওতাল পরগনার সদর শহর বারহাইতের কাছাকাছি ভাগনাডিহি গ্রামের নিপীড়িত সাঁওতাল পরিবারের দুই বোন ফুলো মুর্মু ও ঝানো মুর্মু এবং তাদের চার ভাই সিধু-কানু-চাদ-ভৈরব মুর্মু এই বিদ্রোহের ডাক দেন। ১৮৫৫ সালে ৬ সাঁওতাল বোন-ভাইদের কাছ থেকে বিদ্রোহের ডাক এসেছিল কিন্ত সিধু কানু চাঁদ ভৈরব এর পাশাপাশি তাদের বোন ফুলমনি ও জান মুরমুর নাম সেভাবে শোনা যায়না ।
এ বিদ্রোহের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সৈন্য ও তাদের দোসর অসৎ ব্যবসায়ী, মুনাফাখোর ও মহাজনদের অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা।
১৮৫৫ সালে ইংরেজ আমলে স্থানীয় জমিদার, মহাজন ও ইংরেজ কর্মচারীদের অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়ে সাঁওতালরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।এটি ছিল তাদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রাম। তাদের এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় সিধু, কানু, চাঁদ ভৈরবপ্রমুখ।১৮৫২ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশের প্রবর্তিত চিরস্থায়ি বন্দোবস্তের ফলে তাদের উপর অত্যাচার বেড়ে গিয়েছিল। তাই সিপাহী বিদ্রোহের আগে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা সোচ্চার হয়েছিল। সাঁওতাল বিদ্রোহ ইতিহাস : ১৮৫৫ সালে সাঁওতালরা সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিল তাদের অধিকার আদায়ের জন্য। তারা এ যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল ইংরেজদের শাসন-শোষণ, সুদখোর, মহাজন ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল বৃটিশ সৈন্য ও তাদের দোসর অসৎ ব্যবসায়ী, মুনাফাখোর ও মহাজনদের অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। সান্তাল হুলের ইতিহাস হতে জানা যায় দামিন-ই কোহ ছিল সাঁওতালদের নিজস্ব গ্রাম, নিজস্ব দেশ।
আজও জুলুমের যন্ত্রণার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাঁওতালসহ আদিবাসী জাতির লড়াই থামেনি। আজও সাঁওতালসহ এদেশের প্রান্তিক মানুষের মুক্তি আসেনি চূড়ান্তভাবে । আজও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং অধিকার নিশ্চিত হয়নি। নিশ্চিত হয়নি নিজস্ব প্রথাগত জীবনের সার্বভৌম অধিকার।
আজও থামেনি আদিবাসীদের প্রশ্নহীন মৃত্যু আর উদ্বাস্তুকরণ প্রক্রিয়া ।
জাকিয়া শিশির, আহবায়ক, অগ্রযাত্রা নারী ফোরাম
মন্তব্য করুন

