Logo

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

×

Follow Us

নিহত অন্তত ৩২, আহত ৭০০-এর বেশি, নিহতের সংখ্যা ব্যপক হওয়ার শঙ্কা

ভুমিকম্প ধ্বসে গেছে একটি ভবন, ছবি: ইন্টারনেট

দশদিগন্ত

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প

নিহত অন্তত ৩২, আহত ৭০০-এর বেশি, নিহতের সংখ্যা ব্যপক হওয়ার শঙ্কা

Icon

কাভার স্টোরি ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

ভেনেজুয়ায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভবন ধস, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর একই অঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির উত্তরাঞ্চলের ইয়ারাকুই রাজ্যের সান ফেলিপে ও ইউমারে এলাকার কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞরা একে বিরল ‘সিসমিক ডাবলেট’ বা জোড়া ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ভূমিকম্প দুটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের উৎপত্তিস্থল ছাড়াও এর কম্পন প্রতিবেশী কলম্বিয়া এবং ব্রাজিলের কিছু অংশে অনুভূত হয়। কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দেয়াল ধসে পড়ে, বহু ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধুলার মেঘে ঢেকে গেছে কিছু এলাকা, ভেঙে পড়েছে ভবনের অংশবিশেষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক ও বিদ্যুৎ খুঁটি। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্বজনদের খোঁজ নিতে না পেরে উৎকণ্ঠায় ছিলেন অনেক মানুষ।

ইউএসজিএস আরও জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। এছাড়া ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ (লিকুইফ্যাকশন) ঘটারও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাজধানীর কাছে অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কারাকাস মেট্রো, রেল যোগাযোগ ও গ্যাস সরবরাহও স্থগিত করা হয়েছে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কয়েক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কিছু স্কুলকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, দমকল বাহিনী ও চিকিৎসা দলকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করে চিকিৎসকদের দ্রুত কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউএসজিএসের ‘পেজার’ সতর্কতা ব্যবস্থায় দুই ভূমিকম্পের জন্যই ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, যা সাধারণত অত্যন্ত ভয়াবহ দুর্যোগের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র সামনে এলে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে। অনেক ভবন ভূমিকম্প-সহনশীল না হওয়ায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই পুয়ের্তো রিকো, ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং উৎপত্তিস্থলের ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা উপকূলীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী মূল্যায়নে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, চিলি, এল সালভাদর, বলিভিয়াসহ একাধিক দেশ ভেনেজুয়াকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুর্যোগ সহায়তা দল উদ্ধার সরঞ্জাম, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক ত্রাণ নিয়ে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে ভেনেজুয়ায় মাঝেমধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। তবে পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পের এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। অনেক ভূকম্পবিদ এটিকে দেশটির গত এক শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করছেন।

উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Logo