সাঈদ হাসান
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এমন এক সমান্তরাল ও নীরব লড়াই চলছে যা নিয়ে খুব কম কথা হচ্ছে। এই যুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে নয়, বরং তেলের ব্যারেল, অফিসিয়াল বিক্রয় মূল্য এবং লজিস্টিক রুটের মাধ্যমে লড়া হচ্ছে। এই লড়াইয়ের মঞ্চ হলো ভঙ্গুর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, এবং এর প্রধান দুটি পক্ষ হলো পারস্য উপসাগরের দুই ধনী প্রতিবেশী: সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইরান-আমেরিকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখানে শান্তির সুযোগ নয়; বরং তা তেলের বাজার দখলের পূর্ণাঙ্গ লড়াইয়ের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন হলো: এই মহাপরিকল্পনায় কে কার অংশ গ্রাস করছে, এবং কেন রিয়াদ তার ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতিতে সরবরাহের শূন্যতা পূরণ করছে এবং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিলের এক ঐতিহাসিক ঘটনায়। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ পর সংযুক্ত আরব আমিরাত পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলির সংস্থা ওপেক থেকে তাদের সদস্যপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে। ওপেকে আমিরাতের দীর্ঘ ৫৯ বছর সদস্য থাকার পর এবং কার্যকর হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ঘোষণাটি দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপটিকে একটি "ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা" এবং রিয়াদের অভিভাবকত্ব থেকে আবুধাবির একটি "স্বাধীনতার ঘোষণা" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা উৎপাদন কোটা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা উত্তেজনার ফল। দৈনিক প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার (৪.৮৫ মিলিয়ন) ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ওপেকের কোটা মেনে চলার জন্য আবুধাবিকে দীর্ঘকাল ধরে সেই সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম—দৈনিক প্রায় ৩৪ লাখ (৩.৪ মিলিয়ন) ব্যারেল—উৎপাদন করতে বাধ্য হয়েছিল। উৎপাদন সক্ষমতা ও বাস্তব উৎপাদনের এই ব্যবধান ছিল এমন একটি দেশের জন্য সুযোগ-নষ্টকারী এবং কৌশলগতভাবে অপমানজনক, যে নিজেকে ‘শাইনিং দুবাই’ ও তেল-পরবর্তী বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির প্রতীক হিসেবে দেখতে চায়।
কিন্তু আমিরাতের এই এক্সিট একটি তেল বিদ্রোহের চেয়েও বেশি কিছু। এর শিকড় খুঁজতে হবে আরও গভীর এক দ্বন্দ্বে। ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি আরবের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকা পালন করেছিল। আবুধাবি কেবল হাজার হাজার মার্কিন সেনাকেই আশ্রয় দেয়নি, বরং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার জন্য জোরালো লবিং করেছিল এবং এমনকি নয় মাস যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছিল। এর বিপরীতে, সৌদি আরব মার্কিন বাহিনীকে বিমান ঘাঁটিগুলোতে সুবিধা দিলেও, একই সময়ে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছিল। পররাষ্ট্রনীতির এই ভিন্ন অবস্থানের পেছনে ছিল দুই দেশের ভিন্ন ভূ-অর্থনৈতিক স্বার্থ। রিয়াদ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অপরিহার্য ও অপূরণীয় পক্ষ হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে চেয়েছিল, আর আবুধাবি তৈরি হওয়া শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটি স্বাধীন লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।
যুদ্ধবিরতি থেকে সৌদি আরব কেন সবচেয়ে বেশি লাভবান হলো? এর উত্তর তিনটি শব্দে—লোকেশন, লজিস্টিকস ও টাইমিং। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব নিজেদের তেল রপ্তানি রুট পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। তাদের কৌশলগত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন (পেট্রোলিন), যার নোমিনাল সক্ষমতা দৈনিক ৭০ লাখ (৭ মিলিয়ন) ব্যারেল, তা দ্রুত সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায় এবং পূর্বাঞ্চলীয় খনিগুলো থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর টার্মিনালে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। মার্চের শেষের দিকে, ইয়ানবু টার্মিনাল থেকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায় এবং দেশটি এই রুটের মাধ্যমে প্রতিদিন সাত লাখ থেকে নয় লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্যও রপ্তানি করছিল।
লজিস্টিক সুবিধার ক্ষেত্রে আমিরাত সৌদি আরবের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। এটি সত্য যে আবুধাবির হাবশান-ফুজিরাহ পাইপলাইন, যার দৈনিক সক্ষমতা ১৫ লাখ (১.৫ মিলিয়ন) ব্যারেল, যা হরমুজ প্রণালী অতিক্রম না করেই ওমান সাগরে তেল পরিবহন করত। কিন্তু এই রুটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হয় এবং কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফুজাইরাহ বন্দরে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সংযুক্ত আরব আমিরাতের তথাকথিত লজিস্টিক "ট্রাম্প কার্ড"-কে নিষ্ক্রীয় করে দেয়। ১৪ মার্চ ফুজাইরাহ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা বন্দরটির অপরিশোধিত তেল লোডিং কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর দুই মাস পর, গত ৪ মে ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলে আরেকটি হামলা এক বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত করে যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।
রেজিলিয়েন্সের এই অসমতার ফলাফল হলো—যুদ্ধের আগে যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি ছিল দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল, সেখানে সংকট শুরু হওয়ার পর এই সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়ে ফুজাইরাহ পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দৈনিক মাত্র ১৯ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে। এর বিপরীতে, সৌদি আরব তার রপ্তানির একটি বড় অংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। চলমান সংকট সত্ত্বেও সৌদি আরব ইয়ানবু টার্মিনাল থেকে গড়ে দৈনিক ৩৬.৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে।
তবে এখানেই গল্পের শেষ নয়। গত ৫ মে—সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক ৪ দিন পর—সৌদি আরব আরেকটি চতুর বাণিজ্যিক চাল খেলে। জুনের চালানের জন্য এশিয়ার গ্রাহকদের কাছে ‘আরব লাইট’ অপরিশোধিত তেলের অফিসিয়াল বিক্রয় মূল্য (ওএসপি) ব্যারেল প্রতি ৪ ডলার হ্রাস করে সৌদি আরব। এর ফলে সৌদি তেলের দাম আগের নজিরবিহীন রেকর্ড ব্যারেল প্রতি ১৯.৫ ডলার থেকে কমে ১৫.৫ ডলারে নেমে আসে। এই মূল্য হ্রাস ছিল এশিয়ান গ্রাহকদের ধরে রাখার জন্য একটি "অগ্রণী পদক্ষেপ" এবং এর একটি স্পষ্ট বার্তা ছিল: রিয়াদ কোনোভাবেই আবুধাবিকে—যা এখন ওপেকের কোটা থেকে মুক্ত—সস্তা দামে সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী তেল গ্রাহকদের ভাগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে না। এমন এক সময়ে যখন কিছু এশিয়ান ক্রেতা ব্রাজিল এবং কানাডা থেকে ভারী তেল আমদানির খোঁজ করছিল, তখন সৌদি আরবের ওএসপি কমানোর সিদ্ধান্তটি ছিল তার এশিয়ান গ্রাহকদের ধরে রাখার একটি কৌশল।
সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মধ্যে চলছে তেলের বাজার দখলের লড়াই, ছবি: সংগৃহীতএশিয়ার বাজারে অংশীদারিত্ব দখলের তীব্র প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই মূল্যহ্রাসকে বিশ্লেষণ করতে হবে। যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং জাপান সম্মিলিতভাবে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশির অংশীদার। কৌশলগত দিকটি হলো ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন এশিয়ার গ্রাহকদের—বিশেষ করে চীন ও ভারতকে—আকর্ষণীয় ছাড়ে তেল সরবরাহ করতে পারে অবাধে। আবুধাবি এর আগে গোপনে ২০২৭ সালের মধ্যে তেল উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। এটি স্পষ্ট যে যদি শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হয়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত "অধিক সরবরাহ, কম মূল্য" নীতির মাধ্যমে দ্রুত তার বাজারের অংশীদারিত্ব বাড়াতে পারে এবং রিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই জটিল খেলায় ইরানের ভূমিকা বিবেচনা করা দরকার। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে তেহরান কার্যত ওই অঞ্চলের তেল রপ্তানি প্রবাহের ওপর একটি "ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ" আরোপ করেছে। মজার বিষয় হলো, চীনের উদ্দেশে যাওয়া ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কিছুটা সৌদি আরবের রপ্তানি ব্যয়বহুল বিকল্প রুটের মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর অর্থ হলো ইরান এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে লোকসান তো করছেই না, বরং "গলা টিপে ধরার মতো ব্যবস্থাপনা"-র মাধ্যমে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের রপ্তানির লাইফলাইন কার্যকরভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তেলের দামকে প্রভাবিত না করে ওপেক ছাড়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। এটিই হলো ইরানের সেই "কৌশলগত ধৈর্য" যা বিশ্বকে একটি নতুন বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য করেছে।
আবুধাবি যেখানে ইরানি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন একটি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই পরিস্থিতিতে কী করবে? যুদ্ধ থেকে হওয়া ১২ হাজার কোটি (১২০ বিলিয়ন) ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি এই দেশটিকে—যাকে একসময় "উজ্জ্বল দুবাই" এবং "মধ্যপ্রাচ্যের আর্থিক কেন্দ্র" বলা হতো—বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে। দুবাই স্টক ইনডেক্স ১৬ শতাংশ পতন, পর্যটন বুকিং ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ হ্রাস এবং ফুজাইরাহ বন্দরে তেল লোডিং কার্যক্রম বারবার বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির সাথে তারা এখন লড়াই করছে।
তবে সম্ভবত এই গল্পের সবচেয়ে কৌতূহলপূর্ণ অংশ হলো রিয়াদ এবং আবুধাবির মধ্যকার গোপন রাজনৈতিক ফাটল, যা ওপেকের থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদায়ের মাধ্যমে এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একটি আশ্চর্যজনক পদক্ষেপে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই সৌদি আরব ইয়েমেনে আরব আমিরাতের মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং উভয় দেশই সুদানের গৃহযুদ্ধে বিপরীত পক্ষগুলোকে সমর্থন করছে। উপরন্তু, সৌদি আরবের অর্থায়নে পাকিস্তান থেকে পূর্ব লিবিয়ায় অস্ত্রের চালান পাঠানো, যার উদ্দেশ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বাহিনীকে দুর্বল করা, তা এই দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়।
সহজভাবে বললে, সৌদি আরব এই যুদ্ধবিরতিকে বিশ্ব তেলের বাজারে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কৌশলগত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। ওয়াশিংটনের কাছে নিজেকে একজন "অপরিহার্য মিত্র" এবং "শান্তিকামী মধ্যস্থতাকারী" হিসেবে জাহির করার পাশাপাশি, রিয়াদ নিঃশব্দে তার ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বী সংযুক্ত আরব আমিরাতের—যা এখন ক্ষতবিক্ষত—বাজারের অংশ গ্রাস করছে। আবুধাবির জন্য বেদনাদায়ক বিষয় হলো, আগামীকাল যদি স্থায়ী শান্তি অর্জিতও হয় এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্তও হয়, তবুও তাদের আগের বাজারের অংশীদারিত্ব ফিরে পেতে কয়েক মাস, হয়তো বছর লেগে যাবে।
আর এই হট্টগোলের মধ্যে ইরান, যারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে আঞ্চলিক রপ্তানির স্পন্দন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, তারা এখন একটি ঐতিহাসিক চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। ইরান তাদের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে পারে এবং এই সুবিধাকে আলোচনায় সুবিধা আদায়ের কাজে লাগিয়ে "চোকপয়েন্ট ম্যানেজার" হতে পারে, অথবা ধীরে ধীরে প্রণালীটি পুনরায় উন্মুক্ত করে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে "ভারসাম্য রক্ষাকারী" হয়ে উঠতে পারে এবং এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলোকে পাশ কাটাতে পারে। এই দুই পথের যেটিই ইরান বেছে নিক, তা আগামী এক দশকে বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর গভীর ভূ-অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে।
এই কাহিনির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠলে ভূ-রাজনৈতিক আনুগত্য দ্রুত ম্লান হয়ে যায়, আর শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পায় অর্থনৈতিক টিকে থাকার বাস্তবতা।
সাঈদ হাসান: বিশ্লেষক, কলাম লেখক
মন্তব্য করুন

