আমি ও মা
খান মো. রবিউল আলম, যোগাযোগ পেশাজীবী ও শিক্ষক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
মাকে নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি, অনেক গল্প। মায়ের গল্প কে না শুনতে ভালোবাসেন। মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীতে এসেছি, মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা আর যত্মে বেড়ে উঠেছি। মায়ের শরীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। একদিন মা বেহাত হয়ে যাবেন।
আমার সৌভাগ্য এখনও মা দুপুরের খাবার খেয়েছি কিনা সে খবর নেন, নিয়মিত বেতন হচ্ছে কীনা বা নাতি-নাতিনীরা ভালো আছে কীনা সেসব খোঁজ-খবর রাখেন। মায়ের খোঁজ নিতে দেরি হলে অভিমান করে বলেন, ‘‘আমি মরে গেলে তোরা কেউ কাঁদবি না।’’ অর্থাৎ মা বুঝতে চান তার প্রতি সন্তানদের ভালোবাসা অটুট।
মাকে নিয়ে আমার স্মৃতির ঝাঁপি-

মা ও মাইক্রো হিস্টোরি
মা ও আমি তিরিশ বছর পর ইতিহাস চর্চায় বসেছি। তা কোনো বড় ইতিহাস নয়। ছোট ইতিহাস, পরিবারিক বা মাইক্রো হিস্টোরি। রেটিনা ডিটাচমেন্ট অপারেশনের পর মা ঢাকায়। এ সুবাদে ইতিহাস চর্চা।
মায়ের সঙ্গে ইতিহাস চর্চার চেয়ে মধুর বিষয় আর কী হতে পারে। শুরু হলো মায়ের বিয়ের শাড়ি দিয়ে। মা জানালেন, শাড়ির দাম ছিল ৬০ টাকা। বলেই ছেলের বউয়ের দিকে তাকিয়ে কিছুটা লজ্জা পেলেন। বললেন, মনে কর না খুব সস্তা কিছু। ধানের দাম তখন খুব কম ছিল। গারদের শাড়ি। হালকা হলুদ কালার। আমি বললাম, কই তোমার শাড়ি তো দেখলাম না। মা জানালেন, ওটা অন্য ইতিহাস।
পান বানাতে বানাতে বলে গেলেন, তোর আব্বার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। আমার বিয়ে অন্য জায়গায় পাকাপাকি হয়েছিল। সব ঠিকঠাক। শুক্রবার কালমা হবে। তোর ফুপারা তোর নানাকে গিয়ে ধরলো। বাবা আর না করতে পারলেন না। পরে জেনেছি তোর ফুপারা জাদু-টোনা জানতো। আমার বাবার মতো শক্ত মানুষকে তারা বদলে ফেলেছিল।
মা বিত্তশালী ঘরের মেয়ে। মা তার বিয়ের আয়োজন সম্পর্ক বললেন, দেখ, আজ প্রায় ৬০-৬৫ বছর হলো তারপরও গতবার যখন গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি পলাশীর চাঁন খা বললেন, তোমার বিয়েতে যা খাওয়া-দাওয়া হয়েছিল বারে। আজও মনে আছে। আমরাই তো তোমাকে বিয়ে দিয়ে নিয়ে আসলাম।
আমি মাকে ৬০ বছর পেছনে ফিরাতে চেয়েছি। মায়ের সোনালী দিনগুলোতে হাঁটাতে চেয়েছি। দেখি মা দৃপ্ত পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন। তার স্মৃতির ঝাঁপি একটার পর একটা খুলে যাচ্ছেন। একটার পর একটা স্মৃতিছবি আমাদের সামনে হাজির করছেন। আমি, আমার স্ত্রী, রাদ ও আয়রা প্রতিদিন রাতে আয়েশ করে মায়ের গল্প শুনি। মা একটা পান গালে পুরেন আর আরেকটা আমাকে দেন।
আলোচনায় মধ্যমণি মা। আমি কেবল ইস্যু ধরে দেই। এরপর ষাটের দশকের স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক, যৌথ পারিবার, বৌ-শ্বাশুড়ি, গ্রামীণ জীবন ইত্যাদি বিষয়ে মা কথা বলতে থাকেন। আমি ইতিহাসের পাতার ওপর আছড়ে পড়ি। আমার স্ত্রী মাঝে মাঝে কথার মধ্যে ফোঁড়ন কাটে। বলতে থাকে শ্বাশুড়ি মায়ের জন্য তোমরা পড়াশুনায় ভালো হয়েছো। দেখ না, মা আয়নার মতো সব দেখিয়ে দিচ্ছেন। এর ভেতর হঠাৎ আয়রা কি জানি বুঝে বলে ওঠে আব্বু আমি দাদিকে না তোমাকেই বেশি ভালোবাসি। রাদ রেগে গিয়ে বলে, আয়রা তুই চুপ। মা বলেন, রাদ, সবাইকে কথা বলতে দে। এভাবেই চলছে প্রতিদিনের গল্পের আসর।
এরপর মা মুক্তিযুদ্ধের অংশটা ওপেন করলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তার জন্য যখন আব্বা ও চাচাকে পাকবাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায় তখন কী ভয়াবহ দিন পার করতে হয়েছে একটার পর একটা তা বলতে লাগলেন। বলতে থাকেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নকশাল আন্দোলনের কথা। ঘরের ভেতর থেকে মাঝ রাতে কানে ভেসে আসতো ‘কেও থাকবে দুতলায় কেও থাকবে গাছ তলায় তা হবে না তা হবে না।’ মা জানালেন, নকশাল নেতা এরাদ আলী অনেক ভালো ছাত্র ছিলেন। মাকে নাকি তিনি খুব সমীহ করতেন। স্বল্পসময়ের জন্য এরাদ আলী দলবলসহ আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
ছোট-বড় অনেক বিষয়। এরপর এলো বাড়ির কাজের মেয়েদের প্রসঙ্গ। মোমেনা, পারুল, সকিনা, নাজেরা, আলেয়া, হাসিনা। মায়ের মন কিছুটা ভার হয়ে ওঠলো। বলল এরা না থাকলে তোদের বড় করতে পারতাম না। মোমেনাকে ছাড়া পান্নাকে (আমার ইমিডিয়েট বড় বোন) মানুষ করা যেত না। আর হাসিনাকে ছাড়া রিয়াকে (আমার ভাগনি)। আমি বললাম মা এরা সবাই কী বেঁচে আছেন। বললেন, হ্যাঁ। এমনকী এদের ছেলে-মেয়েরা কে কী করে সেসব খবরও মা রাখেন। আমি বললাম, এদের সবাইকে নিয়ে আমি পলাশীতে একটা অনুষ্ঠান করতে চাই। তোমার কী মত। মা বললেন, তোর ভাবনাটা ভালো। দেখ, পারিস কীনা।
এরপর নাম ধরে ধরে স্মৃতিচারণ; আলোকছত্রের কাকলি যে আমাদের ছেলেবেলায় হাত ওঠে গেলে বসিয়ে দিতো সে বেঁচে আছে কীনা । মা জানালেন, না, রোজলি যে বাড়ি লেপে দিতো, বললেন, না। হামিদ যে গরুর গাড়ি বেঁধে দিতো । বললেন, বলতে পারছি না। সাঁওতাল পাড়ার খুকুমনি যে তোমার মাথায় তেল দিয়ে দিতো, বললো বেঁচে আছে। লাটুর বুড়ি যে ঘানি ভাঙ্গানো সরিষার তেল দিতো, বলেন, না নেই। চাঁদের বুড়ি হিলি (সাঁওতালি ভাষা-বাংলা হলো ভাবি), বেঁচে আছে। হিন্দুপাড়ার সাধনের মা যে মুড়ি ভেজে দিতো, বললেন না।
এরপর মা একগাল হেঁসে বললো বাহ্! তুই তো সবার নাম মনে রেখেছিস। তারপর দেখি মায়ের কপালে আলো চিকচিক করছে। যেন প্রস্ফুটিত সুখস্মৃতি! সব মা বেঁচে থাক অনন্তকাল।
দুই. মায়ের ইনোভেশন
১. সকাল, দুপুর ও রাত মিলিয়ে মা সাত ধরনের ঔষধ খান। লম্বা প্রেসক্রিপশন। কে পড়ে দিবে? বড় ভাই ও ছোট বোন থাকলে তারা তা করেন। শুয়ে আছি’ মা এসে বললেন উঠ তো। শোকেসের তিনটি সেলফে ঔষধগুলো সাজিয়ে রাখ। রাতেরগুলো সব উপরে, দুপুরেরগুলো মাঝে এবং সকালেরগুলো নিচের তাকে । মায়ের কথা মতো ঔষধগুলো রাখলাম। বুঝিয়ে দিলাম। ঔষধ চিনতে মায়ের এ ইনোভেশন পছন্দ হলো। বললাম সময় মতো ঔষধ চেনার জন্য বাকশো পাওয়া যায়- কিনে দিবো। মা বললেন, লাগবে না। আমি যেভাবে সাজাতে বললাম সেভাবে রাখ।
২. রাতে মায়ের পায়ে তেল মালিশ করতে গিয়ে দেখলাম পায়ের নখগুলো বড় হয়েছে। বললাম, নেইলকাটার আছে। কেটে দেই? বললেন, নখকাটার মেশিনটা খুব ভালো না। কালকে টাকা দিবো কিনিস, তারপর কাটিস।
পরদিন পলাশী থেকে ফেরার পথে কালিগঞ্জহাটে নেইলকাটার কিনলাম। পরের দিন সকালে মায়ের নখগুলো কাটছি। এ সময় দেখি মায়ের বড় বোন ফাতেমা খালা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। বললেন, তুমি যে কাজ করলে তাতে আমার মনটা ভরে গেলো। শিক্ষাটা তোমার কাজে লেগেছে বাবা!
আমি ঢাকা থেকে আসার সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মায়ের নখগুলো কেটে দিবো। কারণ, ময়ের এক চোখ অন্ধ এবং ডায়াবেটিকের কারণে হাত স্থির নয়। বড় ভাই বা পান্না মূলত মাকে দেখাশোনা করেন। কিন্তু মায়ের নখ কাটার সঙ্গে দক্ষতা ও সাহসের সম্পর্ক রয়েছে। মায়ের হাতের ও পায়ের আঙ্গুল কেটে দিতে পেরে মনে হলো শরীরের ওপর দিয়ে শীতল হাওয়া বয়ে গেলো।
বিশ্বাস করি এমন মনোভঙ্গি প্রশান্তির দীর্ঘপথ তৈরি করে। সবার মা ভালো থাকুক।
তিন. সন্তানকে কাছে পেলে মা তাঁর ভেঙ্গেপড়া শরীর অস্বীকার করেন
সন্তানকে কাছে পেলে মা তাঁর ভেঙ্গেপড়া শরীর অস্বীকার করেন। বয়স ও বার্ধক্যজনিত রোগব্যাধিতে আমার মায়ের শরীর ভেঙ্গে যাচ্ছে। এর চেয়ে বেদনার বিষয় আর কী হতে পারে? মায়ের শরীরকে আমি দেখি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিন্যাস হিসেবে। যাদের মায়ের শরীর ও বিবর্তন নিবিড়ভাবে দেখার সুযোগ হলো না তাদের জন্য
দুঃখ হয়। মায়েরা পূর্ণযৌবন নিয়ে সংসারে আসেন আর একসময় তাঁদের সব মিলিয়ে যায়। যৌবনের প্রমত্ত গতিও ম্লান হয়ে আসে। বার্ধক্য আসে খুব দ্রুত গতিতে।
১৯৬১-৬২-তে মা আমাদের সংসারে এসেছিলেন। গরু আর মহিষের গাড়িতে সওয়ার হয়ে। সন্তানদের সামনে মা বৃদ্ধা হয়ে গেলেন। মসৃণ ত্বক খসখসে হয়ে গেলো, দাঁতগুলো ক্ষয়ে গেলো, ঘন কালো চুলগুলো সাদা হলো, ঝরে গেলো। ঋজু মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে গেলো। শরীর হয়ে উঠলো রোগশোকের বসতবাড়ি।
মা প্রতিবেশীদের বাড়িতে বেড়াতে পছন্দ করতেন। কিন্তু এখন আর হাঁটতে পারেন না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘরের ভেতর সোফায় বসে জানালা দিয়ে রাস্তায় লোক চলাচল দেখেন। বিকেলে বাড়ির দরজার সামনে মোড়ায় বসেন -প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করেন। চলতে চলতে পাবলিকপ্লেসের ওপর মানুষের যে মালিকানাবোধ তৈরি হয় তাও একদিন হারিয়ে যায়; যেমন-হারিয়েছেন আমার মা। কারণ সখ্য না থাকলে মালিকানা থাকে না। মায়ের চলাফেলার ক্ষেত্র আজ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে এসেছে। এবার আমি মাকে আয়রার সঙ্গে পদ্মার ধারে নিয়ে যাওয়া চেষ্টা করলাম। কিন্তু মা রাজী হলেন না!!! আমি গেলে মা সোফায় বসেন আর আমি পাশে খাটে শুয়ে থেকে গল্প করি। মা একটার পর একটা পান আমাকে বানিয়ে দেন আর গল্প চলতে থাকে। গল্প থাকে বলেই মানুষগুলো হয়তো বেঁচে থাকেন। গল্পহীন পরিবার মরুভূমির মতো। মা জায়গা-জমি, গাছ, পুকুর, আত্মীয়-স্বজনদের অবস্থা, পলাশী ও শিবরামপুর (বাবার বাড়ি) নিয়ে কথা বলতে থাকেন।
দাদীর সঙ্গে কন্যা আয়রা
গল্পের মাঝেই হুট করে প্রশ্ন করেন- তোদের ঢাকায় থাকতে ভালো লাগে? আমি বলি- না। মায়ের প্রশ্ন তাহলে বাড়িতে আসিস না কেন? আবার কবে আসবি। কথা বলার সময় মোবাইলে কল এলে মা বিরক্ত হয়ে বলেন-মোবাইলটা রাখ। ঢাকায় গিয়ে কথা বলিস। আবার গল্প শুরু হয়। অনুভব করি এ গল্প একধরনের মেডিটেশন।
মা-বাবাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের কাছে সখ্য চাহিদা বেড়ে যায়। রাজশাহীর সোনাদীঘির মোড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এক বিকেলে ড. এবণে গোলাম সামাদ স্যার (প্রয়াত) আমাকে বলেছিলেন- বাবা-মার প্রতি দায়িত্বশীল হবে। কাকদের জীবন থেকে শেখার রয়েছে। কাকদের বয়স হলে তারা অন্ধ হয়ে যায়। তখন কাকদের সন্তানেরা তাদের মা-বাবাকে খাওয়ায়।
মায়ের পক্ষে এখন রান্নাবান্না করে খাওয়ানো কঠিন। মা বুয়ার হাতের রান্না খেতে পছন্দ করেন না। কিন্তু আমি বাড়িতে গেলে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে উঠে পড়ে লাগেন। আমার শ্বশুরবাড়ি আমাদের বাড়ি সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে নিয়মিত খাবার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু মায়ের তা পছন্দ না। তার সাফ কথা-যতদিন বেঁচে আছি যা পারি রান্না করবো-সেটাই খাবি।
আমি বললাম ঠিক আছে-তুমি কোনো ধরনের মাছ-মাংস রান্না করবা না। মসুরের ডালের ভর্তা ও করলা ভাজি খাবো। মায়ের হাতের করলা ভাজি এ জীবনে খাওয়া একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ রেসিপি। তারপরও মা সন্তুষ্ট হতে পারেন না। পান্না (ছোট বোন) ও খালার বাসায় ফোন করে আমার জন্য নানা পদের খাবার সংগ্রহ করেন।
আমি মায়ের সামনে যখন তৃপ্তিসহ ভাত খাই, মায়ের চোখেমুখে তখন আনন্দের ছাপ দেখি। বারবার বলতে থাকেন আরেকটু নে। মায়ের হাতে অ্যাঁচে যাওয়া ডাল-ভাত খেতে থাকি আর অজান্তে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।
ছেলেকে পেলে মা ভেঙ্গেপড়া শরীর অস্বীকার করেন। পূর্ণশক্তি নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। মাতৃত্বের শক্তিতে বলিয়ান হতে চান। আমাকে বুঝতে দেন না তার শরীর কতো খারাপ।
কেবল দুটি আদেশ থাকে আমার প্রতি- পান আর সুপারি কিনে দেবার আর ঘুমানোর পর পায়ে সরিষার তেল দিয়ে মালিশ করে দেবার। বলেন, তোর হাতের তেল মালিশ খুব ভালো। বুঝতে পারি ডায়াবেটিকের কারণে মায়ের নিউরোপ্যাথিকেল সমস্যা বেড়েছে।
মা ঢাকায় আসবেন না। এটি তাঁর স্পষ্ট অবস্থান। চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। তিনি পূর্ণস্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকতে চান। কষ্ট সত্ত্বেও মায়ের এ সিদ্ধান্তকে আমি সন্মান করি।
এবারও ঢাকায় ফেরার সময় বললাম চলো। বললেন-না তুই যা। পারলে তাড়াতাড়ি আসিস। কবে আসবি। বললাম, ডিসেম্বরে চেষ্টা করবো। মা বললেন, মৃত্যু আমার ঘাড়ের ওপরে। তোরা যখন চলে যাস তখন গেস্টরুমের দরজা লাগিয়ে দেই। ঘরের ভেতর আমি তাকাতে পারি না।
মা এক গভীর অনুভূতির নাম আর মাতৃত্ব পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার।
চার. মায়ের ধর্মমেয়ে
নানাকারণে মাকে গ্রামের মানুষেরা পছন্দ করেন। এর মূল কারণ হয়ত মায়ের পরার্থপরতা। মা খুব মিশুক প্রকৃতির মানুষ। আপদে-বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ান। গ্রামের কেউ অসুস্থ হয়ে রাজশাহীতে আসলে অনেকের আশ্রয়স্থল মা। মা যখন গ্রামের বাড়িতে যান, মাসখানেক থাকেন, তখন বলতে গেলে তাকে রান্না-বান্না করতে হয় না। বিভিন্ন বাড়ি থেকে খাবার আসে। বাড়ির পাশজুড়ে থাকা আদিবাসী সাঁওতাল পল্লীতেও মায়ের রয়েছে শক্ত বিচরণ।
আমাদের গ্রামের নাম ছোট পলাশী আর পাশের গ্রামের নাম বড় পলাশী। বড় পলাশীতে সৈয়দ ভাইয়ের দুচালা মাটির বাড়ি। সবুজ নিবাস। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে গ্রাম্যসড়ক। সামনে পুকুর আর টলটলে পানি। সাতার কাটছে হাঁস। পারিবারিক আর প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতা নিয়ে সৈয়দ ভাইয়ের সুখের দিন কাটছিল। হঠাৎ তার শাশুড়ির মৃত্যুতে সুখের সংসারে কিছুটা ছেদ পড়ে।
মা মারা যাওয়ার খবর পেলেন। সন্ধ্যারাতে বাড়ির সবাইকে খাইয়ে তিনব্যাটারি লাইট নিয়ে সৈয়দ ভাইয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন। আমি মায়ের আচল ধরে পিছন পিছন হাঁটছি। মায়ের আচল ধরে হাঁটার সুযোগ যাদের হয়নি তাদের জন্য দুঃখবোধ জাগে। সৈয়দ ভাইয়ের বাড়িতে পৌঁছলাম। সৈয়দ ভাইয়ের স্ত্রী খোদেজা বুবু বারান্দায় হাত-পা ও চুল ছড়িয়ে কাঁদছেন। মা বললেন, কেঁদোনা, কারো মা সারাজীবন বাঁচে না। আমরা তো আছি। সেই থেকে আমার মা খোদেজা বুবুর ধর্ম মা। এ সম্পর্কের বয়স প্রায় ৫০ বছর। ধর্ম বোন হিসেবে তিনি অন্য বোনদের চেয়ে কোনো অংশে কম নন।
একটা উদহারণ দেই, একবার সৈয়দ ভাইয়ের সঙ্গে খোদেজা বুবুর ঝগড়া হলো। আব্বা বললেন, খোদেজার সৈয়দের ওখানে থাকার দরকার নাই । ওকে বাড়িতে চলে আসতে বলো। বুবু প্রায় দেড়বছর আমাদের বাড়িতে ছিলেন। সৈয়দ ভাই আব্বার হাত-পা ধরে বুবুকে নিয়ে যান। পারিবারিকভাবে আমরা যেকোন বিপদ-আপদে পড়লে খোদেজা বুবু সবার আগে ছুটে আসেন। ছুটে আসেন বড় হৃদয় নিয়ে। আমাদের কেউ এখন গ্রামের বাড়িতে থাকে না। খোদেজা বুবু বাড়িতে যান। আমাদের স্মৃতিরসড়কে হাঁটেন। বাড়ির চারদিক ঘুরেন। আব্বার ও মেজভাইয়ের কবরে যান। আমাদের খোঁজ-খবর। মায়ের খোঁজ রাখেন নিয়মিত।
আমার বড় ভাইয়ের ছোট ছেলে মুহিব মুসফিক খান (১৫) কে নিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে একটা জটিল সমস্যার মুখোমুখি হই। মুহিব আমাদের কাছ থেকে প্রায় ছয়মাস দূরে ছিল। সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছে। দাদি-ফুফুরা রাজশাহী থেকে মুহিবকে দেখার জন্য ঢাকায় এসেছে। সঙ্গে এসেছে খোদেজা বুবু। বুবুর কথা হলো মুহিব কী আমার বড় ভাইয়ের ছেলে না? আমি কী তাকে দেখবো না? মা তাকে সঙ্গে করে এনেছেন। তিনি অন্যবোনদের মতো মায়ের পেছন পেছন হেঁটেছেন।
রক্তের সম্পর্ক হোক আর বিশ্বাস বা মূল্যবোধের সম্পর্ক হোক-চর্চাটা মুখ্য, মুখ্য দায়িত্ববোধ ও পারষ্পরিক আস্থা। আব্বা মারা যাওয়ার আগে বলে গেছেন, খোদেজার সংসার বড় । অভাব-অভিযোগ আছে। তাকে সাত বিঘা জমি বর্গা দিলাম তোমরা কখনও তা নিবে না, অন্যকে দিবে না। আমরা আব্বার কথা রেখেছি। আমাদের ১০-১৫ আধিয়ারের মধ্যে খোদেজা বুবু সময়মতো এবং পরিমাণমতো ধান বুঝিয়ে দেন। গতকয়েক বছর হলো সৈয়দ ভাই চলে গেছেন। আছেন খোদেজা বুবু। মায়ের এ ধর্মমেয়ের উপস্থিতি আমাদের পরিবারে ভালোবাসার সবুজ চাদর প্রসারিত করেছে। আমাদের ধর্মবোন দীর্ঘজীবী হউন।
শুদ্ধসম্পর্কের মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে।
পাঁচ. মা ও তিব্বত স্নো
মা তিব্বত স্নোর পুরনো ব্যবহারকারীদের অন্যতম। গত প্রায় ষাট বছর ধরে তিনি এ স্নো ব্যবহার করছেন। এ স্নোর ঘ্রাণ মানেই আমার কাছে স্মৃতির ঝাঁপি। কিছুদিন আগে সাহেব বাজার থেকে কিনে মায়ের হাতে তুলে দিলাম।

ছয়. মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি যাওয়া
না শীত না গরম মানে ফাল্গুন মাসে মা নানা বাড়ি নাইয়র যেতেন। কবিরাজ মাঝি গরু বা মহিষের গাড়ি পরিপাটি করে সাজিয়ে আমাদের নিয়ে যেতেন। যেতে যেতে সবুজ প্রান্তরে গান গাইতেন, একটি গানের সুরস্মৃতি কানে বাজে রামপুরার (রাজশাহীর আদি নাম)বাজারে সাহেবের সিমসাদম দেখে এলাম…।
নানা বাড়ি শিবরামপুর। আমাদের বাড়ি থেকে সাত-আট মাইল দূরে। নানা বাড়ি যাওয়ার আগের দিন মা বলতেন ভোর রাতে রওয়ানা দিবো। তোরা সব রেডি থাকবি। কিন্তু সংসারের কাজ গুছাতে গুছাতে মায়ের সকাল আট বা নয়টা বেজে যেতো। রোদ চড়া হয়ে গেলে মহিষের সমস্যা হতো। মহিষ গরম সহ্য করতে পারে না। একবার মহিষ গাড়ি নিয়ে পুকুরের ভেতর নেমে পড়েছিল। আমরা ভিষণ ভয় পেয়েছিলাম। ভাগ্য ভালো পুকুরে কম পানি ছিল।
তারপরও সবকিছু ভিজে যায়। মায়ের স্যুটকেস, জামাকাপড়ও। মহিষ পুকুরে নেমে ডুব দিয়ে বসলো। কিছুক্ষণ পরপর পানির ভেতর থেকে মুখ তুলে নাক দিয়ে পানি ছিটাতে লাগলো। কৃষাণ কবিরাজ মাঝির অনেক অনুরোধের পর তাদের শরীর ঠান্ডা হলে কাদা মাখা শরীরে পুকুর থেকে উঠে নানাবাড়ি অভিমুখে যেতে শুরু করলো।
আমরা যখন নানা বাড়ি যেতাম তখন মা পলাশী থেকে শিবরামপুরের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য লালমাটি বেঁধে নিয়ে যেতেন। কারণ শিবরামপুরে লাল মাটি পাওয়া যেতো না। সঙ্গে থাকতো হাঁস-বতক, পাটি বোনানোর জন্য খেজুর পাতা। মুন্ডমালা পৌছালে সবার জন্য মিষ্টি নিতেন। মুন্ডমালা পার হওয়া মানে শিবরামপুরের সীমানার মধ্যে পড়া। মা টোপরের ভেতর থাকতেন। সামনে থাকতো পর্দা। পর্দার ফাঁক দিয়ে মা দেখতেন নিজ গ্রামের কাউকে দেখা যায় কিনা। হঠাৎ কবিরাজ মাঝিকে বলতেন গাড়ি দাঁড় করা ঐ যে বিশু কাকা আসছেন। মা মুখ বাড়িয়ে বিশু কাকার বাড়ির খোঁজ-খবর নিতেন। এভাবে মহিষের গাড়ি এগিয়ে যেতো। করিমপুর পার হলে শিবরামপুরের তালপুকুর পাড়ের তাল গাছগুলোর মাথা দেখা যেতো। পান্না চিৎকার দিয়ে বলতো দেখ রবি শিবরামপুর দেখা যাচ্ছে। এরপর আমরা শিবরামপুরে ঢুকে পড়তাম।
সাত. মায়ের স্মৃতিশক্তি, অভিভাবকত্ব ও টিকে থাকার অদম্য শক্তি
মা এক দারুণ অভিভাবক। প্রখর তার স্মৃতিশক্তি মা লেখাপড়া জানেন না। কিন্তু সাধারণ জ্ঞান, স্মৃতিশক্তি আর জীবনবোধ দিয়ে সব চালিয়ে নিচ্ছেন। তিনি রাজশাহী বাড়ির ছয়জন ভাড়াটিয়া, গ্রামের বাড়ির জমিজমা, আধিয়ারদের ধানের হিসেব, আম বাগানের হিসেব সব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছেন। সঙ্গে আছে তাঁর বাবা বাড়ি শিবরাম থেকে পাওয়া আট বিঘা জমির ধানের হিসেবে। ছেলে-মেয়েদের বাড়ির খবরা-খবর রাখছেন নিয়মিত। আমার মা যোগাযোগ আর সংযোগপ্রবণ।
আমাদের পরিবারের উপর দিয়ে দুটো বড় ঝড় বয়ে গেছে। ২০০৩ আমরা আব্বাকে এবং ২০০৯ মেঝ ভাইকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছি। মা ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু ভেতরের অদম্য শক্তি নিয়ে আবার দাঁড়িয়েছেন। শেরপা হয়ে পরিবাবের সদস্যদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। মা আছেন বলেই পৃথিবী আজও এতো সুন্দর মনে হয়।
আট. মায়ের সঙ্গে কবি ইমরান মাহফুজের আলাপ
১২ জুন ২০২৫ দ্য ডেইলি স্টারের সাহিত্য সম্পাদক কবি ইমরান মাহফুজ রাজশাহী সফরকালে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মায়ের সঙ্গে তাঁর ঘণ্টা দেড়েক আলাপ হয়। আলাপের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক ছিল-
১. ইমরান ভাই প্রায়ই বলতেন একদিন তিনি আমার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চান। ইমরান ভাইয়ের ধারণা আমার লেখালেখির ভেতর আমার মায়ের মনোভঙ্গির ছাপ রয়েছে। যাহোক, আমি বললাম, আসেন। তিনি এলেন।
২. মাকে বললাম, তোমাকে দেখতে ঢাকা থেকে একজন মেহমান আসবেন। মা জিজ্ঞেস করলেন, সে কী করে? বয়স কেমন, তোর মতো নাকি। আমি বললাম, আমার মতো। সাংবাদিকতা করেন। জানতে চাইলেন দেশের বাড়ি কোথায়? বললাম, কুমিল্লায়। বিয়ে-শাদি করেছে? ছেলে-মেয়ে আছে? বললাম, একটা ছেলেবাবু আছে। আচ্ছা আসতে বল। কী খাওয়াবি। বললাম-আম। মা বললেন-একটু মিষ্টি আন। ইমরান ভাইয়ের জন্য চাঁপাইয়ের দই আনলাম। পরে বুঝলাম, মায়ের এ জিজ্ঞাসাগুলো মধ্যে ইমরান ভাইয়ের ব্যাপারে একটা মাইন্ডম্যাপিং কাজ করছিল। তিনি হয়ত অনুমান করেছিলেন তাঁকে একটা আলাপে যেতে হবে।
৩. ইমরান ভাই বাসায় ঢুকলেন। মায়ের পা ছুঁয়ে সালাম করলেন। মা উনার মাথা ও পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন, ভালো থেকো বাবা, দীর্ঘজীবী হও। দুজনেই নিজেদের নিউট্রাল করলেন। মুহুর্তের ভেতর শ্রদ্ধা ও স্নেহনির্ভর এক মার্ধুয্যময় সম্পর্ক তৈরি হলো। আন্তরিকতায় ছোঁয়ায় সব বাঁধা ভেঙ্গে গেলো। এরপর দুজন শোফায় পাশাপাশি বসে আলাপ শুরু করলেন।
আমি ইমরান ভাইকে স্মরণ করিয়ে দিলাম ডায়াবেটিকের কারণে মা কানে কম শুনেন। এতে তিনি বেশ সর্তক হলেন। কাছে এগিয়ে গেলেন। আস্তে আস্তে কথা বললেন। কম শোনা একজন বয়স্ক মায়ের সঙ্গে কতোটা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে কথা বলতে হয় ইমরান ভাইয়ের সেই এটিকেট আমাকে মুগ্ধ করলো।

তিনি উচ্চস্বরে কথা না বলে আস্তে আস্তে মায়ের কাছে গিয়ে কথা বললেন। মায়ের শুনতে অসুবিধা হলো না। ইমরাম ভাই যে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মা তা মুহুর্তেই ধরে ফেললেন। ইমরান ভাই তাঁর পরিচয়, পদবি, নাগরিকতা সব পরিহার করে একজন মায়ের সামনে সন্তান হিসেবে হাজির হলেন। বললেন, আমিও আপনার ছেলে। আমাকে কিছু দেন। মা বললেন, দিবো। মা তাঁর পারিবারের কষ্টের গল্প স্বামী ও সন্তানের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে লাগলেন। আব্বার ছবি দেখালেন, টিনের বাক্স থেকে মেঝভাইয়ের ছবি বের করে আনলেন। শোকেশে থাকা বড় ছেলের ছবি দেখিয়ে বললেন, তোমার বড় ভাই বাবার নামে হজে গেছেন। ১৫ তারিখ ফিরবেন।
এরপর ইমরান ভাই মায়ের বিয়েশাদি, সংসার নিয়ে আলাপ এগুতে লাগলেন। এক ফাঁকে মা জিজ্ঞেস করলেন-তোমার নাম কী? নাম জানার পর বাকি আলাপে মা 'ইমরান' বলে সম্বোধন করতে লাগলেন। এরমধ্যে আমার ইমিডিয়েট বড় বোন পান্না এসে যোগ দিল। পান্নার সঙ্গে ইমরান ভাইয়ের চলমান শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ হলো। পান্না তানোর সরকারি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। মা, পান্না ও ইমরান ভাইয়ের আলোচনা এতো আন্তরিকতায় এগুতো লাগলে যে মনে হলো একেঅপরের অনেকদিনের চেনা। অচেনা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ কাজ নয়। এজন্য সর্বপ্রথম যা লাগে তা হলো একটা দরদি মন, সংবেদনশীলতা ও কমনসেন্স।
৪. ইমরান ভাইকে বললাম মায়ের হাতের রান্না খান। মা আমার জন্য করলা ভাঁজি ও সজনে ডাটা রান্না করেছেন যা দিয়ে দুপুরে ভাত খেয়েছি। আপনি একমুট খান। ইমরান ভাই যত্নসহ খেলেন। মা পাশে বসে দেখলেন এবং খুশি হলেন। বললেন, মাংস দে। ইমরান ভাই মাংস খেতে রাজি হলেন না। মা বললেন, আগের মতো রান্না করতে পারি না, বয়স হয়েছে বাবা। এরপর পান্না আম কেটে দিলো, ইমরান ভাই খেতে থাকলেন। আম খাওয়ার পর পলাশী থেকে আনা জাম দিলাম। এর কিছুক্ষণ পর দই। ইমরান ভাই অল্পঅল্প করে সব খেলেন।
৫. এ সময় ইমরান ভাইয়ের স্ত্রী ফোন করলেন। ইমরান ভাই তাঁর অবস্থান বলে মাকে ফোন ধরিয়ে দিলেন। মা ইমরান ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন, বউ অনেক সুন্দর বলে প্রশংসা করলেন। ইমরান ভাইয়ের সন্তানকে দেখলেন। রাজশাহীতে বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানালেন।
৬. আমার ঢাকায় ফেরার সময় হলো। বিদায়ের আগমুহুর্তে ইমরান ভাই আমার বিছানায় শুয়ে পড়লেন। জানালা দিয়ে বাসার পাশে বৃহৎপুকুরের ঢলঢলে পানির দেখতে লাগলেন। বিদায়ের আগে বিছানা ছেড়ে মায়ের সঙ্গে ছবি তুললেন, কদমবুসি করলেন। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ভাই ঢাকায় থাকেন ক্যামনে?
মা ও ইমরান ভাই একেঅপরকে আপন করার যে অদম্য শক্তি দেখালেন তাতে আমি মুগ্ধ হলাম। সম্পর্কের চিরন্তনস্মারক হিসেবে তা বেঁচে থাকুক অনেকদিন। উভয়ের সুস্থতা ও দীর্ঘজীবন কামনা করছি!
যোগাযোগ পেশাজীবী ও শিক্ষক
মন্তব্য করুন

