Logo

১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

কলা চাষ করে আয়-রোজগার করেছে, তবুও মা আমাদের অভাব বুঝতে দেননি

খই খই সাই মারমা ও তার মা

দিন-প্রতিদিন

মা দিবস

কলা চাষ করে আয়-রোজগার করেছে, তবুও মা আমাদের অভাব বুঝতে দেননি

খই খই সাই মারমা

Icon

খই খই সাই মারমা, টেবিল টেনিস খেলোয়াড়

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

আম্মুকে নিয়ে কিছু লিখতে গেলে সবার আগে ছোটবেলার দিনগুলোর কথাই মনে পড়ে। তখন আমি কোয়ান্টামে যেতাম, আর মা-ই আমাকে নিয়ে যাওয়া-আসা করতেন। রাঙামাটির আমাদের গ্রামের রাস্তাগুলো বৃষ্টি হলে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যেত। সবসময় গাড়িও পাওয়া যেত না। তবু শত কষ্টের মধ্যেও মা আমাকে ঠিকই নিয়ে যেতেন। যখন খেলাধুলার জন্য খুব বেশি মানুষ পাশে দাঁড়ায়নি, তখনও আম্মুই আমার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন। মা দিবস এলে সেই শুরুর সংগ্রামের দিনগুলোর কথা খুব বেশি মনে পড়ে।

আম্মুকে প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই— আমাদের দুই বোনকে এত কষ্ট করে বড় করার জন্য। বাবারও অবদান আছে, কিন্তু মা তো মা-ই। অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনি আমাদের জন্য লড়াই করে গেছেন। আমি মনে করি, তিনি ভীষণ ধৈর্যশীল ও সংগ্রামী একজন মানুষ।

মাঝে মাঝে আম্মু পুরোনো দিনের গল্প করেন। তখন আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এখন যে জমিটুকু আছে, সেটাও একসময় বন্ধক রাখা ছিল। মা-বাবা দুজনই অন্যের জমিতে কাজ করেছেন, কষ্ট করে টাকা জমিয়ে সেই বন্ধক ছাড়িয়েছেন। পরে কলা চাষ করে আয়-রোজগার করেছেন, আমাদের পড়ালেখার খরচ চালিয়েছেন। এভাবেই আমাদের সংসার চলেছে।

আম্মুকে অনেক কিছু বলতে চাই, কিন্তু সব কথা হয়তো বলা হয়ে ওঠে না। আমি তার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ— এত কষ্ট করে আমাদের বড় করার জন্য, এই জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তিনি সবসময় পড়াশোনা আর খেলাধুলায় আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এত অভাবের মধ্যেও কখনো আমাদের অভাব বুঝতে দেননি। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই— আমি সবসময় তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব এবং সারাজীবন তাকে ভালোবেসে যাব। 

খই খই সাই মারমা, টেবিল টেনিস খেলোয়াড়



মন্তব্য করুন

Logo