Logo

১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

গাজা–জেরিকো চুক্তি

গাজা–জেরিকো চুক্তি

দিন-প্রতিদিন

গাজা–জেরিকো চুক্তি

Icon

কাভার স্টোরি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১০:০১ এএম

১৯৯৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বাক্ষরিত হয় গাজা–জেরিকো চুক্তি। এই চুক্তি ছিল ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা, যা ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসনের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট চলছিল ভূখণ্ড, জাতিগত পরিচয় এবং রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নকে ঘিরে। ১৯৮৭ সালে শুরু হওয়া প্রথম ইন্তিফাদা এই সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তি একটি ভিত্তি তৈরি করে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বছর গাজা–জেরিকো চুক্তি সম্পন্ন হয়।

গাজা–জেরিকো চুক্তির মাধ্যমে গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরের জেরিকো অঞ্চলে সীমিত স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো ছিল—ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্বশাসিত প্রশাসন গঠন, ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা দায়িত্বের আংশিক হস্তান্তর এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী গঠনের অনুমতি। চুক্তির ফলে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

চুক্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত এবং ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন । তাঁদের পারস্পরিক সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা এই চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করে।

গাজা–জেরিকো চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো ঘটনা, যেখানে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার স্বীকার করে। যদিও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং ইসারয়েলের অব্যহত আগ্রাসন নীতির কারণে এই শান্তি প্রক্রিয়া নানা বাধার মুখে পড়ে, তবুও এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

গাজা–জেরিকো চুক্তি কেবল একটি রাজনৈতিক সমঝোতা নয়; এটি ছিল দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের এক আশাব্যঞ্জক সূচনা। বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও, এই চুক্তি প্রমাণ করে যে সংলাপ, কূটনীতি এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই জটিল সংঘাতের সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

মন্তব্য করুন

Logo