Logo

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

×

Follow Us

অপ্রতিমের শেষ বিকেল, ২ হাজার ৩৮ জন শিশুর অজানা পরিণতি

অপ্রতিমের ছবি পরিবারের সাথে ছবিঃ ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত

কাভার স্টোরি

অপ্রতিমের শেষ বিকেল, ২ হাজার ৩৮ জন শিশুর অজানা পরিণতি

দীপু মাহমুদ

দীপু মাহমুদ

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল। কুমিল্লার কোটবাড়ির এক বাসা থেকে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল। সপ্তম শ্রেণির এই কিশোরের কাছে সেটা ছিল আর দশটি বিকেলের মতোই সাধারণ বাইরে যাওয়া। কিন্তু সেই বিকেল আর তার জীবনে ফিরে আসেনি। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অপ্রতিমের মরদেহ। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র এক দিন পর একজন মায়ের অপেক্ষার শেষ হয়েছে সন্তানের লাশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে।

অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশের সময় পরিবার তাকে খুঁজছিল। থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চলছিল। তার সঙ্গে থাকা ফোনের অবস্থান নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছিল। তখনো হয়তো পরিবারের মনে ছিল- অপ্রতিম ফিরে আসবে। একজন মা-বাবার কাছে সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিটি মিনিট এমনই এক আশার মধ্যে কাটে। ফোনের রিং হয়তো বাজবে, দরজা খুলে অপ্রতিম হয়তো ভেতরে ঢুকবে, হয়তো কোনো পরিচিত মানুষ ফোন করে বলবেন- অপ্রতিমকে পাওয়া গেছে। কিন্তু অপ্রতিম জীবন নিয়ে আর ফেরেনি।

তার মৃত্যুর কারণ কী, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, এর সঙ্গে কার সম্পৃক্ততা আছে- এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তে বের হবে। এখনই কোনো অনুমানকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ নেই। তবে অপ্রতিমের মৃত্যু আমাদের সামনে এমন এক প্রশ্ন এনে দিয়েছে, যা শুধু কুমিল্লার নয়, সারা দেশের। একজন শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত রাষ্ট্র কতটা দ্রুত সক্রিয় হয়? আর যদি তাকে খুঁজে পাওয়া না যায়, তার শেষ পরিণতি জানার জন্য রাষ্ট্রের হাতে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা আছে?

এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন আমরা জানতে পারি, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই- মাত্র সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। পুলিশের যাচাই অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান মেলেনি। অর্থাৎ ‘১৫ হাজার শিশু এখনো নিখোঁজ’ নয়, তবে সাত মাসে ২ হাজার ৩৮ জনের এখনো সন্ধান না পাওয়াও এমন কোনো সংখ্যা নয়, যাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায়।

আমরা সংখ্যাটি উচ্চারণ করি- ২ হাজার ৩৮। সংখ্যাটির ভেতরে আদতে কী আছে? আছে ২ হাজার ৩৮বজনের নাম, ২ হাজার ৩৮টি মুখ, ২ হাজার ৩৮টি পরিবার। আছে এমন অসংখ্য রাত, যখন কোনো মা হয়তো দরজার শব্দ শুনে চমকে ওঠেন। কোনো বাবা হয়তো অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে মনে করেন, এবার বুঝি সন্তানের খবর পাওয়া গেল। কোনো ভাই বা বোন হয়তো এখনো বিশ্বাস করে, একদিন আচমকা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে যাবে সেই মানুষ, যে একদিন কোনো কথা না বলেই হারিয়ে গিয়েছিল। সুতরাং প্রশ্নটি শুধু কতজন নিখোঁজ হয়েছে, সেটা নয়। প্রশ্ন হলো- যারা এখনো ফেরেনি, তাদের কী হলো?

পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাত মাসে ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও ১ হাজার ৯৭০ জন এখনো নিখোঁজ। শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ৪৭৪টি নিখোঁজের ঘটনায় ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু ৬৮ জনের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলেছে, ছোট শিশুরা পরিবারের সঙ্গে কোথাও গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো কারণে নিখোঁজ হতে পারে। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক অশান্তি, অভিমান, পড়াশোনার চাপ, বন্ধু বা সহপাঠীর প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণের কথা বলা হয়েছে। অনলাইন জিডি চালুর ফলে নিখোঁজ-সংক্রান্ত রিপোর্টের সংখ্যা বেড়েছে বলেও পুলিশের ব্যাখ্যা রয়েছে। এসব ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যাখ্যা এবং পরিণতি এক জিনিস নয়।

একজন শিশু কেন নিখোঁজ হলো, সেটা জানা জরুরি; কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার পর তার কী হলো, সেটা জানা আরও জরুরি। কারণ একজন শিশু নিখোঁজ হওয়ার মুহূর্ত থেকে সে নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। পথ হারানো শিশু দ্রুত অপরাধীর শিকার হতে পারে, অপহৃত হতে পারে, পাচারের শিকার হতে পারে, নির্যাতনের শিকার হতে পারে। আবার অনেক কিশোর-কিশোরী পারিবারিক অভিমান বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরে নিরাপদে ফিরে আসতে পারে। তাই সব নিখোঁজকে অপহরণ বা পাচার হিসেবে দেখার কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তু একই কারণে কোনো নিখোঁজ শিশুর ক্ষেত্রে অপহরণ, পাচার বা অপরাধের আশংকাকেও শুরুতেই বাদ দেওয়া যায় না। এখানেই সময়ের প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অপ্রতিমের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, একজন কিশোর বিকেলে বাসা থেকে বের হলো, এরপর আর ফিরল না। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার হলো। ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলছে। কিন্তু অপ্রতিমের মতো একজন শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা নতুন করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। শিশুর ছবি, ফোনের অবস্থান, সর্বশেষ দেখা স্থান, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য- প্রতিটি সূত্র সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হতে পারে, আবার সময় পেরিয়ে গেলে কিছু সূত্র হারিয়েও যেতে পারে।

এই বাস্তবতা থেকেই নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে CID ও Amber Alert for Bangladesh-এর উদ্যোগে MUN Alert চালু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার হটলাইন ১৩২১৯-এর মাধ্যমে তথ্য নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। জুনে মিরপুরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একজন নয় বছর বয়সী শিশুকে MUN Alert-এর সতর্কবার্তার মাধ্যমে শনাক্ত করে উদ্ধার করার ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রযুক্তি, দ্রুত সতর্কতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ একসঙ্গে কাজ করলে একজন নিখোঁজ শিশুকে দ্রুত খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা যে বাড়ে, সেটা এমন ঘটনাগুলোই দেখায়।

তবে কোনো একটা প্ল্যাটফর্ম দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন এমন একটি জাতীয় ব্যবস্থা, যেখানে একজন শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার তথ্য শুধু একটি থানার সাধারণ ডায়েরিতে আটকে থাকবে না। সেই তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় পৌঁছাবে, তদন্তের অগ্রগতি নথিবদ্ধ হবে এবং শিশুর শেষ পরিণতি জানা না পর্যন্ত কেসটি সক্রিয় থাকবে।

আর এখানেই আসে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- নিখোঁজ শিশু এবং অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য কি নিয়মিতভাবে একে অন্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়?

ধরা যাক, একজন শিশু নিখোঁজ হলো। থানায় তার ছবি, নাম, বয়স ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য নথিবদ্ধ হলো। অন্যদিকে দেশের কোথাও একজন অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ পাওয়া গেল। সেটা হয়তো কোনো হাসপাতাল, মর্গ বা পুলিশের নথিতে অজ্ঞাত হিসেবেই থেকে গেল। দুই জায়গার তথ্য যদি একই ব্যবস্থার মধ্যে নিয়মিতভাবে যাচাই না হয়, তাহলে একজন শিশুর নিখোঁজ হওয়ার পর তার শেষ পরিণতি অজানাই থেকে যেতে পারে।

তাই বাংলাদেশে প্রয়োজন একটি কার্যকর জাতীয় missing-child outcome database- যেখানে নিখোঁজ শিশুর তথ্যের পাশাপাশি তার পরবর্তী পরিণতিও নথিবদ্ধ থাকবে। একজন শিশু উদ্ধার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরলে সেটা জানা থাকবে। নিজে ফিরে এলে সেটাও জানা থাকবে। অপহরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা নথিবদ্ধ হবে। পাচারের শিকার হলে সেটাও থাকবে। আর যদি কোনো শিশু মারা যায়, তাহলে তার পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর সেটাও সেই কেসের সঙ্গে যুক্ত হবে। একজন শিশু এখনো নিখোঁজ থাকলে তাও স্পষ্ট থাকবে। অর্থাৎ একটি সাধারণ ডায়েরি করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। দায়িত্ব শেষ হবে শিশুর পরিণতি জানা গেলে।

এখানে শিশু পাচারের প্রসঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ হাজার ৭১৭ জন নিখোঁজের ঘটনাকে শিশু পাচারের সংখ্যা হিসেবে দেখানোর কোনো ভিত্তি নেই। পুলিশ যে তথ্য দিয়েছে, তাতে বিপুলসংখ্যক শিশু উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। ফলে নিখোঁজ মানেই পাচার- এমন ধারণা যেমন ভুল, তেমনি নিখোঁজ শিশুদের সঙ্গে পাচারের কোনো সম্পর্ক নেই- এমন ধারণাও নিরাপদ নয়। 

তাই একজন শিশু নিখোঁজ হলে তদন্তের শুরুতেই সব আশংকাকে তথ্যের ভিত্তিতে বিবেচনায় নিতে হবে। শিশু হয়তো পথ হারিয়েছে, হয়তো অভিমান করে বেরিয়ে গেছে, হয়তো নিজেই ফিরে আসবে; আবার সে অপরাধের শিকারও হতে পারে। তদন্তের কাজ হলো অনুমান করা নয়, দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে সত্য বের করে আনা। অপ্রতিমের ঘটনা আমাদের সেই জায়গাতেই ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

অপ্রতিমকে আমরা এখন জানি একটি নাম হিসেবে। কিন্তু তার পরিবারের কাছে সে কোনো পরিসংখ্যান ছিল না। সে ছিল একজন সন্তান, একজন শিক্ষার্থী, একজন বন্ধু, একজন কিশোর- যে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মায়ের ফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল। তার মা যখন তাকে খুঁজছিলেন, তখন দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশু নিখোঁজ। জিডির এই পরিসংখ্যান মায়ের কাছে কোনো অর্থ বহন করার কথা নয়। তার কাছে তখন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিল তার সন্তান অপ্রতিম। এই জায়গাই রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে।

রাষ্ট্র যখন বলে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন ফিরে এসেছে, সেটা স্বস্তির খবর। কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে জানতে হবে, বাকি ২ হাজার ৩৮ জন কোথায়। তাদের প্রত্যেকের কেসের বর্তমান অবস্থা কী। কে তদন্ত করছেন। সর্বশেষ সূত্র কী। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে কিনা। কোন কেসে অপহরণের সন্দেহ আছে। কোন কেসে পাচারের ঝুঁকি আছে। কোন কেসে শিশু নিজে থেকে বাড়ি ছেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোন কেসে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। আর কোন কেসে কোনো অগ্রগতিই নেই।

এই হিসাব জনসমক্ষে দেওয়ার সময় অবশ্যই শিশুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রের নিজের কাছে প্রত্যেকটি কেসের পূর্ণাঙ্গ হিসাব থাকতেই হবে। কারণ শিশুর নিখোঁজ হওয়া কোনো সাধারণ প্রশাসনিক ঘটনা নয়। এটা শিশুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়।

একজন শিশু হারিয়ে গেলে পরিবারের কাছে শুধু কান্না আর প্রতীক্ষার সময় রেখে দেওয়া যাবে না। তাদের পাশে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকতে হবে, যিনি জানবেন কেসটি কোথায় আছে, কী তদন্ত হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী। থানার জিডি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, হাসপাতাল ও মর্গের নথি, সীমান্তসংক্রান্ত তথ্য এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিতভাবে ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু প্রযুক্তির সঙ্গে থাকতে হবে প্রশিক্ষিত মানুষ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং জবাবদিহি।

অপ্রতিমের শেষ বিকেল তাই শুধু একটি পরিবারের শোকের ঘটনা নয়। এটা আমাদের সামনে দেশের এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে। যে পরিস্থিতিতে আমরা দেখতে পাই- একজন শিশু বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়, পরিবার তাকে খুঁজতে শুরু করে, আর এক দিন পর তার মরদেহ পাওয়া যায়। একই সময়ে দেশের হাজার হাজার পরিবার তাদের নিখোঁজ সন্তানকে খুঁজছে। অপ্রতিম আর ফিরবে না। কিন্তু তার শেষ বিকেল যেন আরও অসংখ্য অপ্রতিমের ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা হয়ে থাকে।

আমাদের এমন বাংলাদেশ দরকার, যেখানে একজন শিশু নিখোঁজ হলে তাকে খুঁজে বের করার জন্য রাষ্ট্রের সব ব্যবস্থা দ্রুত একসঙ্গে কাজ করবে; যেখানে কোনো নিখোঁজ শিশুর কেস একটি জিডি নম্বরে আটকে থাকবে না; যেখানে একজন শিশুর পরিণতি অজানা থাকলে রাষ্ট্রও স্বস্তিতে থাকবে না।

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু এই নয় যে কতজন শিশু নিখোঁজ হয়েছে। প্রশ্নটি হলো-একজন শিশু হারিয়ে যাওয়ার পর তাকে খুঁজে বের করার জন্য আমরা কতটা দ্রুত, কতটা সমন্বিত এবং কতটা দায়বদ্ধভাবে এগিয়ে আসছি। অপ্রতিমের শেষ বিকেল আমাদের সেই প্রশ্নই করে গেছে।

মন্তব্য করুন

Logo