ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
একসময় লন্ডনের টেবিলে বসে পৃথিবীর বহু দেশের মানচিত্র আঁকা হতো। কোথাও একটি রেখা টেনে একটি জাতিকে দুই ভাগ করা হয়েছে, কোথাও কয়েকটি ভিন্ন জনগোষ্ঠীকে জুড়ে দিয়ে বানানো হয়েছে নতুন রাষ্ট্র। সেই লন্ডনকেই এখন নিজের মানচিত্র খুলে বসতে হতে পারে।
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী নেতারা কার্ডিফে একত্র হয়ে ঘোষণা করেছেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার তাঁদের জনগণের। ওয়েস্টমিনস্টার কোনো জাতির গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত আটকে রাখতে পারে না।
ঘোষণাটি রাজনৈতিকভাবে বিস্ফোরক। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আগামীকাল সকালেই যুক্তরাজ্য ভেঙে যাচ্ছে। এটা কোনো আইনগত বিচ্ছেদ চুক্তি নয়। তিনটি সরকারও রাষ্ট্রীয়ভাবে এতে স্বাক্ষর করেনি। SNP, Plaid Cymru এবং Sinn Féin দলীয়ভাবে একটি সমঝোতা করেছে। কোনো গণভোটের তারিখ ঘোষণা হয়নি, স্বাধীনতার রূপরেখাও তৈরি হয়নি।
তবু ঘটনাটি ছোট নয়। কারণ ইতিহাসে প্রথমবার স্কটল্যান্ড , ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এর নেতৃত্বে এমন দল রয়েছে, যারা বর্তমান যুক্তরাজ্যকে নিজেদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক ঠিকানা বলে মানতে রাজি না।
বাড়িটি এখনও ভাঙেনি। কিন্তু বাড়ির তিনটি কক্ষ থেকে একসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, বাড়ির মালিক কি সত্যিই সবাই, নাকি দলিলে চারজনের নাম থাকলেও চাবি শুধু লন্ডনের হাতে? আর ইউনিয়ন যদি সত্যিই স্বেচ্ছাসম্মত হয়, তাহলে বের হওয়ার দরজায় ওয়েস্টমিনস্টারের তালা কেন? যুক্তরাজ্য নিজেকে চার জাতির স্বেচ্ছাসম্মত ঐক্য বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু স্কটল্যান্ড আবার স্বাধীনতার গণভোট চাইলে ওয়েস্টমিনস্টার বলে, এখন সময় নয়। ওয়েলস নিজের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা চাইলে বলা হয়, সেই ক্ষমতা তার নেই। উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান থাকলেও কখন সেটা আয়োজন করা হবে, সেই সিদ্ধান্তের চাবিও ব্রিটিশ সরকারের হাতে। কোনো সম্পর্ক কি সত্যিই স্বেচ্ছাসম্মত, যদি সেই সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার কথা বলার অনুমতিও অন্য পক্ষের কাছ থেকে নিতে হয়?
ওয়েস্টমিনস্টার এর যুক্তি অনেকটা এমন: আপনারা আমাদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় আছেন, তবে আপনারা এখনও থাকতে চান কি না, সেই প্রশ্ন কখন করা যাবে তা আমরাই ঠিক করব। এটা গণতন্ত্রের ভাষায় প্রকাশ করা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ। রাষ্ট্র টিকে থাকে জনগণের চলমান সম্মতিতে। দুইশ বা তিনশ বছর আগের কোনো চুক্তিকে আজকের মানুষের স্থায়ী আনুগত্যের দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। পূর্বপুরুষের সম্মতি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায়, কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের রাজনৈতিক অধিকার তার কাছে বন্ধক রাখা যায় না। তিন দেশ, তিন রকম হিসাব। তবে স্কটল্যান্ড , ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড কে একই গল্পের তিনটি অধ্যায় ভাবলে ভুল হবে।
স্কটল্যান্ড স্বাধীন রাষ্ট্র হতে চায়। ২০১৪ সালের গণভোটে ৫৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাজ্যে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। তারপর ব্রেক্সিট হয়েছে। স্কটল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকতে চেয়েছিল, কিন্তু ইংল্যান্ড এর বড় জনসংখ্যার ভোটে তাকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। তাই স্বাধীনতার প্রশ্ন সেখানে এখনও শক্তিশালী। তবে পক্ষে স্থায়ী ও নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে, এমন দাবি করা যাবে না।
ওয়েলস এর পরিস্থিতি আলাদা। Plaid Cymru ক্ষমতায় এলেও দলটিকে ভোট দেওয়া এবং স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেওয়া একই কথা নয়। ওয়েলশ স্বাধীনতার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, কিন্তু এখনও তা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অবস্থান নয়। আপাতত ওয়েলস বিচ্ছেদের চেয়ে বেশি ক্ষমতা, ন্যায্য অর্থায়ন এবং নিজের সম্পদের ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ চাইছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ড আবার স্বাধীন রাষ্ট্র হতে চাইছে না। Sinn Féin চায় রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড এর সঙ্গে এক হয়ে একটা ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড গঠন করতে। এর সাংবিধানিক পথ ‘গুড ফ্রাইডে’ চুক্তিতে রয়েছে। তবে Michelle O’Neill একা সমগ্র উত্তর আয়ারল্যান্ডের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করেন না। সেখানকার সরকার ক্ষমতা ভাগাভাগির ভিত্তিতে চলে এবং ফার্স্ট মিনিস্টার ও ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টারের এর ক্ষমতা সমান।
অতএব তিনটি জাতীয়তাবাদী দল একই টেবিলে বসলেও তাদের লক্ষ্য, জনসমর্থন ও সাংবিধানিক পথ এক নয়। কার্ডিফে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এখনও কোনো গণরায় সৃষ্টি হয়নি। জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী বিজয়কে স্বাধীনতার গণভোট হিসেবে চালিয়ে দিলে সেটিও আরেক ধরনের রাজনৈতিক শর্টকাট। ব্রেক্সিট এর সার্বভৌমত্ব এখন লন্ডন এর দরজায় ফিরে এসেছে। ব্রেক্সিট এর সময় লন্ডন বলেছিল, দূরের ব্রাসেলস আমাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে পারে না। আমাদের আইন, সীমান্ত ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই ফিরিয়ে আনতে হবে। এখন এডিনবার্গ , কার্ডিফ ও বেলফাস্ট একই যুক্তি লন্ডন কে ফেরত দিচ্ছে: “দূরের কেন্দ্র যদি এতই অসুবিধাজনক হয়, তাহলে আমাদের জন্য লন্ডন এত স্বাভাবিক কেন?”
সার্বভৌমত্বের পণ্যটি ওয়েস্টমিনস্টার বেশ আগ্রহ নিয়ে ব্রাসেলস থেকে আমদানি করেছিল। কিন্তু স্কটল্যান্ড , ওয়েলস কিংবা উত্তর আয়ারল্যান্ড একই পণ্য চাইতেই জানা গেল, সেটা নাকি শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত।
নিজেদের জন্য সার্বভৌমত্ব চাইলে তার নাম স্বাধীনতা। অন্যেরা চাইলে তার নাম বিচ্ছিন্নতাবাদ। নিজেদের গণভোট হলে সেটি জনগণের কণ্ঠ। স্কটল্যান্ড গণভোট চাইলে তা বিভাজনের রাজনীতি। যুক্তরাজ্য ব্রেক্সিট চাইলে “Take Back Control।” স্কটল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ ফেরত চাইলে “Please wait for permission।”
সার্বভৌমত্বের কি ভৌগোলিক শ্রেণিবিন্যাস আছে? লন্ডন এ পৌঁছালে সেটা গণতন্ত্র, এডিনবার্গ এ পৌঁছালে অস্থিতিশীলতা! এই দ্বিচারিতাই যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক সংকটের কেন্দ্র।
একটি বহুজাতিক রাষ্ট্রে ইংল্যান্ড এর সংখ্যাগরিষ্ঠ মতকেই কি সব জাতির সম্মতি বলে ধরে নেওয়া হবে? সংখ্যায় বড় হওয়া আর নৈতিকভাবে সবার হয়ে কথা বলার অধিকার পাওয়া এক বিষয় না।
স্বাধীনতা কোনো জাদুর কাঠি না। স্বাধীনতার দাবি আবেগ তৈরি করে। কিন্তু রাষ্ট্র শুধু আবেগ, পতাকা ও জাতীয় সংগীত দিয়ে চলে না। স্বাধীনতার পরও বাজেট তৈরি করতে হয়, ঋণ পরিশোধ করতে হয়, সীমান্ত পরিচালনা করতে হয় এবং নাগরিকদের হাসপাতাল চালাতে হয়। জাতীয়তাবাদ মানচিত্র বদলাতে পারে, কিন্তু বাজারদরকে দেশপ্রেম শেখাতে পারে না।
স্কটল্যান্ড স্বাধীন হলে কোন মুদ্রা ব্যবহার করবে? যুক্তরাজ্যের ঋণ কীভাবে ভাগ হবে? ইংল্যান্ড এর সঙ্গে বাণিজ্য কেমন হবে? নর্থ সি এর জ্বালানি সম্পদ কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে? ব্রিটিশ পারমাণবিক অস্ত্রঘাঁটির কী হবে? ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে কত সময় লাগবে? ওয়েলস কে ভাবতে হবে তার আয়, ব্যয়, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং ইংল্যান্ড এর সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে।
আইরিশ রিউনিফিকেশন হলেও শুধু মানচিত্রের একটি রেখা মুছে ফেললেই শত বছরের বিরোধ শেষ হবে না। স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কর, নাগরিকত্ব, পতাকা, পুলিশ, ধর্মীয় পরিচয় এবং ব্রিটিশ পরিচয়ে অভ্যস্ত Unionist জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
পুরোনো কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন রাষ্ট্র যদি নিজের সংখ্যালঘুদের ওপর আরেক কেন্দ্রের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়, তাহলে তাকে মুক্তি বলা যায় না। শুধু ক্ষমতার ডাকঘর বদলায়, চিঠির ভাষা বদলায় না। তবু অর্থনৈতিক ভয় দেখিয়ে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো জাতিকে যদি তিনশ বছরের ইউনিয়ন এর পরও বলা হয়, কেন্দ্র ছাড়া তোমরা টিকতে পারবে না, সেটা ইউনিয়ন এর নির্ভরশীলতা তৈরি করা রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা। এটা কি সাম্রাজ্যের কর্মফল? উপনিবেশিত বিশ্বের মানুষের কাছে ঘটনাটি নিঃসন্দেহে ইতিহাসের এক তীক্ষ্ণ পরিহাস।
যে ব্রিটেন ভারতবর্ষে বিভাজনের রাজনীতি করেছে, বেঙ্গল ভাগ করেছে, আয়ারল্যান্ড ভাগ করেছে এবং বহু দেশের সীমান্ত জনগণের সম্মতির চেয়ে নিজের সাম্রাজ্যিক স্বার্থ অনুযায়ী এঁকেছে, আজ সেই ব্রিটেন নিজের সীমান্ত ও ঐক্যের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে। তবে শুধু “যেমন কর্ম, তেমন ফল” বললে আনন্দ পাওয়া যায়, পূর্ণ ইতিহাস বোঝা যায় না। স্কটল্যান্ড , ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ড এর ইতিহাস ভিন্ন। বিশেষ করে স্কটল্যান্ড নিজেও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এর সম্পদ, বাণিজ্য ও উপনিবেশিক শাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল। তাই বর্তমান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে সরাসরি ভারত কিংবা আফ্রিকার উপনিবেশমুক্তির সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না।
তারপরও একটি প্রশ্ন লন্ডন এড়িয়ে যেতে পারে না। ব্রিটেন অন্য দেশের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণকে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী কখনও সমর্থন করেছে, কখনও দমন করেছে। এখন নিজের সীমানার ভেতরে একই অধিকার দাবি করা হলে ওয়েস্টমিনস্টার কেন রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার কথা বলে? সাম্রাজ্য চলে গেছে। কিন্তু কেন্দ্রের মানসিকতা কি পুরোপুরি গেছে?
ট্রাম্প এর সমর্থন নিয়ে এত উল্লাস কেন? ডোনাল্ড ট্রাম্প আইরিশ পুন:একত্রিকরনের পক্ষে কথা বলেছেন। অনেকেই একে ঐতিহাসিক সমর্থন হিসেবে দেখছেন। কিন্তু গ্রীনল্যান্ড ও কানাডা নিয়ে দখলদারি ভাষায় কথা বলা একজন নেতা হঠাৎ আত্মনিয়ন্ত্রণের নৈতিক শিক্ষক হয়ে উঠলে সতর্ক হওয়া উচিত। আয়ারল্যান্ড এর ভবিষ্যৎ কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঠিক করবেন না। সেটা নির্ধারণ করবেন আয়ারল্যান্ড দ্বীপের মানুষ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এক সাম্রাজ্যের কাছ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আরেক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়কের অনুমোদন লাগে না।
যুক্তরাজ্য ভাঙলে ইংল্যান্ড কী হবে? এই প্রশ্নটা আলোচনায় সবচেয়ে কম আসে। স্কটল্যান্ড , ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড চলে গেলে ইংল্যান্ড কিছু ভূখণ্ড হারাবে, হারাবে সামরিক অবস্থান, জ্বালানি সক্ষমতা, কূটনৈতিক প্রভাব এবং “গ্লোবাল ব্রিটেন ” নামের সাম্রাজ্যপরবর্তী আত্মকল্পনার একটি বড় অংশ।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে পরিচয়ের। ইংল্যান্ড এর নিজস্ব পার্লামেন্ট নেই। এত দিন ব্রিটিশ পরিচয়ের আড়ালে ইংলিশ ক্ষমতাই প্রায় স্বাভাবিক জাতীয় ক্ষমতা হিসেবে কাজ করেছে। ইউনিয়ন ভেঙে গেলে ইংল্যান্ড কে প্রথমবার স্পষ্টভাবে বলতে হবে, সে আসলে কী একটি জাতি, একটি নতুন রাষ্ট্র, নাকি হারিয়ে যাওয়া সাম্রাজ্যের অবশিষ্ট কেন্দ্র? “গ্রেট ব্রিটেন” একটি ভৌগোলিক নাম হিসেবে থাকবে। কিন্তু “ইউনাইটেড কিংডম” বর্তমান রাজনৈতিক অর্থ হারাতে পারে। আর লন্ডন হারাতে পারে সেই পুরোনো অভ্যাস, যেখানে ইংল্যান্ড এর সংখ্যাগরিষ্ঠ মতকে চার জাতির সম্মতি বলে চালানো যায়।
কার্ডিফের সমঝোতা যুক্তরাজ্যের শেষ অধ্যায় নয়। কিন্তু নিঃসন্দেহে এটা ওয়েস্টমিনস্টারকে একটি কঠিন সত্যের সামনে দাঁড় করিয়েছে। জাতীয়তাবাদী দলগুলোর নির্বাচনী বিজয় স্বাধীনতার পক্ষে গণরায় নয়। তাদের প্রমাণ করতে হবে, তারা শুধু অসন্তোষকে ভোটে পরিণত করতে পারে না, একটা কার্যকর, অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য এবং সংখ্যালঘুবান্ধব ভবিষ্যৎও নির্মাণ করতে পারে।
অন্যদিকে ওয়েস্টমিনস্টারকেও প্রমাণ করতে হবে, তার ইউনিয়ন কোনো সাংবিধানিক বন্দিশালা নয়। কারণ যে ঐক্য রক্ষার জন্য জনগণকে বারবার বলতে হয়, তোমরা চলে যাওয়ার প্রশ্নও তুলতে পারবে না, সেই ঐক্য ইতিমধ্যেই ভেতর থেকে দুর্বল।
একটি সুখী সংসারের সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ নিশ্চয়ই এই নয় যে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করার অনুমতি নেই।
যুক্তরাজ্য ভাঙবে কি না সেটার চেয়েও কঠিন প্রশ্ন হচ্ছে,
লন্ডন কি স্কটল্যান্ড , ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড কে সমান অংশীদার হিসেবে নিয়ে নতুন কোনো ইউনিয়ন গড়তে পারবে? নাকি আইন, অর্থনৈতিক ভয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি দিয়ে পুরোনো কাঠামো ধরে রাখার চেষ্টা করবে?
ইতিহাসে ভাঙনের রাজনীতি সবসময় প্রান্ত থেকে শুরু হয় না। কখনও কেন্দ্রই তা সৃষ্টি করে, যখন সে সম্মতিকে আনুগত্য এবং অংশীদারদের নিজের সম্পত্তি বলে ভুল করে। সাম্রাজ্য প্রথমে মানচিত্র হারায় না। প্রথমে হারায় অন্যদের শাসন করার নৈতিক অধিকার। কার্ডিফ থেকে এবার লন্ডন এর উদ্দেশ্যে সেই কথাটিই বলা হলো, আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনারা আর একা সিদ্ধান্ত নেবেন না।
মন্তব্য করুন

