Logo

৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

×

Follow Us

বাংলাদেশে উদ্‌যাপন এবং নতুন বাস্তবতার পাঠ

কাভার স্টোরি

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতাবার্ষিকী

বাংলাদেশে উদ্‌যাপন এবং নতুন বাস্তবতার পাঠ

Icon

সিরাজুল ইসলাম আবেদ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

নিউইয়র্কের আকাশে রঙিন আতশবাজি ফুটেছে। ওয়াশিংটনে চলছে স্বাধীনতার ২৫০তম বর্ষ উদ্‌যাপনের নানা আয়োজন। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে উৎসব করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটি রাষ্ট্র তার জন্মদিন উদ্‌যাপন করবে, সেটাই স্বাভাবিক।

শুক্রবার রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প মাউন্ট রাশমোর জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভাষণ দেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের চার কিংবদন্তি প্রেসিডেন্টের বিশাল গ্রানাইট ভাস্কর্যের নিচে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ঐতিহ্যগত স্বাধীনতা দিবসের ঐক্যের ভাষণ থেকে সরে এসে সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। তিনি প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের কমিউনিস্ট আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি। তিনি আরও বলেন, ‘শীতল যুদ্ধে কমিউনিজমকে পরাজিত করার এক প্রজন্ম পর আবারও সেই হুমকি ফিরে এসেছে। এর সঙ্গে এমন নতুন আগন্তুকও যুক্ত হয়েছে, যারা আমাদের জীবনধারা ও সাফল্যের সম্পূর্ণ বিপরীত আদর্শে বিশ্বাস করে।’  নভেম্বরে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের চার মাস আগে ট্রাম্প নিজের অবস্থান জোরালো করতে এমন ভাষণ দিতেই পারেন। ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে এলেও খুব অস্বাভাবিক নয়।

অস্বাভাবিকতা শুরু হয় তখন, যখন সেই উদ্‌যাপনের আলো দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বার্তায় পরিণত হয়। 
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা উদযাপনের আলো ঢাকাতেও জ্বলেছে। জাতীয় সংসদ ভবন চিত্রিত হয়েছে মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর রঙে। ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ এটিকে দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক বলেছেন। কেউ দেখেছেন কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে। বোকামনে প্রশ্ন জাগে—এটি কি নিছক সৌজন্য, নাকি একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সংকেত?

প্রশ্নটি কি খুবই অমূলক? সচেতনদের বিবেচনায় অন্তত নয়। কারণ, বিষয়টি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নয়। এর ঠিক আগেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমঝোতা হয়েছে। দাপ্তরিক ভাষায় বাণিজ্য চুক্তি বলা হলেও শুল্ক, বাজার, জ্বালানি, কৃষিপণ্য, সমরাস্ত্র, এমন কি নিরাপত্তা—সবকিছুই ভুক্ত হয়েছে সেই চুক্তিতে। বিবেচনায় আরও রাখতে হচ্ছে যে, দেশের অভ্যন্তরে চরম সমালোচনার মুখে এখন কেউই এই চুক্তির দায় নিতে চাইছেন না। বর্তমান সরকার বাণিজ্য চুক্তি করেনি, তাই তারা এর দায় তাদের নয়; এমন একটা মনোভাব পোষণ করছেন। আর অন্তবর্তী সরকার চুক্তি করলেও তার কর্তা ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপি-জামায়াতের সম্মতিতেই চুক্তি হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীই সেটা করেছেন।

এমন বাস্তবতায় যে কোনো পদক্ষেপ নতুন অর্থ তৈরি করে। প্রতিটি নতুন নড়াচড়া, নতুন করে প্রশ্ন তোলে এবং সেটা পর্যবেক্ষণেরও দাবী রাখে। সেখানে পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা, যৌথ বিবৃতি কিংবা করমর্দনও কখনো কখনো দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে বেশি কথা বলে। আর কূটনীতিতে এইসব প্রতীক কখনো নিরীহ থাকে না।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে একটি নীতি অনুসরণ করেছে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এই নীতি দেশকে বহু সংকটের মধ্যেও ভারসাম্য ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি রয়েছে চীনের সঙ্গে। ভারতের সঙ্গে রয়েছে ভৌগোলিক বাস্তবতা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার। মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী আয়ের বড় উৎস। এই বহুমাত্রিক সম্পর্কই বাংলাদেশের শক্তি।

কিন্তু বিশ্বরাজনীতি বদলেছে। এখন প্রতিযোগিতা শুধু সামরিক নয়। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, খাদ্য, জ্বালানি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও পরাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ। প্রতিটি রাষ্ট্র এখন বন্ধু খুঁজছে। একই সঙ্গে প্রভাবের ক্ষেত্রও বাড়াতে চাইছে।বাংলাদেশও সেই প্রতিযোগিতার বাইরে নয়।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা—সব আলোচনায় বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। ফলে ঢাকা এখন শুধু বাংলাদেশের রাজধানী নয়। এটি বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত মানচিত্রেরও অংশ।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সরকার সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যা বলছে, এটি বৃহত্তর বাণিজ্যিক সম্পর্কের অংশ। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়বে। একই সময়ে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই গমের দাম উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক বাজারে পাওয়া দামের তুলনায় বেশি। প্রতি টনে প্রায় ২৪ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার বলছে, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র কি কখনো বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে পারে? যদি কিনেও সেই সিদ্ধান্ত কি জনগণকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে? রাষ্ট্র যদি কৌশলগত কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে, তাহলে সেই ব্যয়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যুক্তিও জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত প্রতিটি ডলারের উৎস শেষ পর্যন্ত জনগণ।

বাংলাদেশ এমন এক সময় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যখন মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ রয়েছে। উন্নয়ন ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস চলছে। সাধারণ মানুষ প্রতিটি টাকার হিসাব জানতে চায়। এমন বাস্তবতায় প্রতীকী কূটনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর ঠিক এখানেই জাতীয় সংসদ ভবনের আলোকসজ্জা নতুন অর্থ তৈরি করে।

সংসদ ভবন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়। এটি রাষ্ট্রের আত্মমর্যাদারও প্রতীক। সেই ভবন যখন অন্য একটি রাষ্ট্রের জাতীয় দিবসে আলোকিত হয়, তখন অনেকে হয়তো এটিকে স্রেফ সৌজন্যতার প্রতীক হিসেবে দেখবেন। আবার কেউ যদি এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে পড়তে চান সেটাকেও কি ভুল বলা যাবে?

কূটনীতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, একই ছবির একাধিক পাঠ সম্ভব। বাংলাদেশের সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এটি। বন্ধুত্ব বজায় রাখা। কিন্তু সেই বন্ধুত্ব যেন কখনো নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত না হয়। রাষ্ট্রের কূটনীতি তখনই সফল হয়, যখন বন্ধুরা সম্মান করে; করুণা নয়। সহযোগিতা দেয়; শর্ত চাপিয়ে দেয় না। আর জনগণও বিশ্বাস করে, প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কখনো একদিনে বদলায় না। পরিবর্তন ধীরে ধীরে আসে। কখনো একটি চুক্তিতে বা  সফরে, কখনো কোনো বিশেষ আয়োজনে। পরে ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে বোঝা যায়, কোন ঘটনাটি ছিল মোড় ঘোরানোর সূচনা। বাংলাদেশ কি তেমন কোনো সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে?

প্রশ্নটি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বের বড় শক্তিগুলো শুধু শুধু বন্ধু হয় না। সেই বন্ধুত্বের বিনিময়ে তারা বাণিজ্য চায়, বন্দর চায়, অস্ত্র-জ্বালানী-প্রযুক্তি বিক্রির নিশ্চয়তা চায়। আবার রাজনৈতিক সমর্থনও প্রত্যাশা করে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অভিধানে এটি শক্তির রাজনীতি।

ছোট দেশ হিসেবে বাংলাদেশও সেই বাস্তবতার অংশ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তার উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চায়। অন্যদিকে চীন অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও ঋণের মাধ্যমে প্রভাব বাড়াচ্ছে। ভারত নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবাধিকার, শ্রমমান ও টেকসই বাণিজ্যের প্রশ্ন তুলছে। এই চারটি অক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।

এই অবস্থান দুর্বলতার নয়। এটি একটি বড় কৌশলগত সম্পদ। তবে এই সম্পদ কাজে লাগে তখনই, যখন রাষ্ট্র সমদূরত্ব নয়, সমস্বার্থের নীতি অনুসরণ করে। প্রতিটি সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে দেশের জাতীয় স্বার্থ।

কূটনীতিতে কৃতজ্ঞতা থাকতে পারে। আনুগত্য থাকা প্রয়োজন নেই। ইতিহাস বলছে, ছোট রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ভারসাম্য। সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম কিংবা ইন্দোনেশিয়া—প্রতিটি দেশই একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। কিন্তু তারা খুব কম ক্ষেত্রেই এমন অবস্থান নিয়েছে, যা তাদের পররাষ্ট্রনীতির নিরপেক্ষতা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন তৈরি করে। বাংলাদেশেরও সেই সতর্কতা প্রয়োজন।

একটি সংসদ ভবন কেবল কংক্রিটের স্থাপনা নয়। এটি জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতীক। তাই এমন প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রকে ভাবতে হয়, দেশের মানুষ কী বার্তা গ্রহণ করবে এবং আন্তর্জাতিক মহল কী বার্তা পড়বে। কূটনীতিতে প্রতীক কখনো কখনো নথির চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হয়। 

এখানে আরেকটি প্রশ্নও উঠে আসে—বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দিবসে যে রাষ্ট্রীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ করে দিলো, সেটা কি অন্য কৌশলগত অংশীদারদের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করবে? চীন, ভারত, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগীদের ক্ষেত্রেও কি একই রীতি দেখা যাবে?

যদি উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তাহলে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক নীতি। যদি উত্তর 'না' হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ব্যতিক্রমের কারণ কী? রাষ্ট্রের জন্য এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পররাষ্ট্রনীতি শুধু বিদেশিদের জন্য নয়; নিজের নাগরিকদের কাছেও তা বোধগম্য ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়া প্রয়োজন।

অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদি কোনো বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বড় অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দেয়, তাহলে সেটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু সেই লাভের হিসাবও নাগরিকের গোচরে হওয়া উচিত। জনগণ জানতে চায়, আজ অতিরিক্ত মূল্যে গম কিনা হচ্ছে, তার বিনিময়ে আগামীতে কী পাওয়া যাবে। নতুন বাজার? কম শুল্ক? বিনিয়োগ? নাকি আরও শক্তিশালী কৌশলগত সম্পর্ক?

স্বচ্ছতা থাকলে বিতর্ক কমে। তথ্যের ঘাটতি থাকলে ছোট একটি অনুষ্ঠানও আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ভারসাম্য। স্বাধীনতার পর বহু বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশে কোনো একটি বলয়ের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠেনি। এই অবস্থান সহজে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখা আজ আরও জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রপ্তানি, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের বড় অংশীদার। ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী। জাপান দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার। বাংলাদেশের শক্তি এখানেই। কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনোর সক্ষমতায়।

স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা কেবল পতাকা ও মানচিত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা প্রকাশ পায় সিদ্ধান্তে, দর-কষাকষির সক্ষমতায়, কূটনীতিতে। যেখানে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো হয় মাথা উঁচু রেখেই। নিউইয়র্কের আতশবাজির সঙ্গে ঢাকায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আলো ৪ জুলাই রাতেই নিভে গেছে। কিন্তু রাষ্ট্রের নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ছায়া বহুকাল স্থায়ী হওয়ার শঙ্কা রয়ে গেছে। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণস্থান ভিন্ন কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের উৎসবে আলোকিত হয় না; আলোকিত হয় নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতায়।

মন্তব্য করুন

Logo