Logo

১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

২ মাসে গ্রেপ্তার ৮: ভিন্নমত দমন কী চলবেই?

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে নিয়ে কার্টুন পোস্ট করার অভিযোগে ১৭ এপ্রিল কনটেন্ট নির্মাতা এ এম হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়, ছবি: সংগৃহীত

কাভার স্টোরি

২ মাসে গ্রেপ্তার ৮: ভিন্নমত দমন কী চলবেই?

Icon

মনজুরুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০১:১১ এএম

রফিকুল ইসলাম(ছদ্মনাম) একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ। সরকারের ব্যাংকিং খাতের একটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সমাজিক যোগযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েও দ্রুত মুছে ফেলেন—পাছে আবার ‘সরকার বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ‘মামলা-হামলায়’ জড়িয়ে পড়েন…। 

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর অনেকের প্রত্যাশা ছিল—দমন-পীড়নের পুরোনো সংস্কৃতি থেকে রাষ্ট্র বেরিয়ে আসবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য একটি সহনশীল পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সে আশাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, প্রধানমন্ত্রী, সরকার-সমর্থক ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রীয় নীতির সমালোচনা, ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ বা বিতর্কিত কনটেন্ট শেয়ারের অভিযোগে গত দুই মাসে অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) নতুন সরকারের অধীনে এই ধরনের গ্রেপ্তারকে আগের সরকারের দমনমূলক চর্চার উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারও যদি একইভাবে আইন ব্যবহার করে সমালোচকদের দমন করে, তবে তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য বিপজ্জনক ইঙ্গিত বহন করে।

মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে সংঘটিত ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কখনো ‘আপত্তিকর পোস্ট’, কখনো ‘সরকারবিরোধী মন্তব্য’, কখনো ‘ধর্ম অবমাননা’, আবার কখনো ‘বিতর্কিত ছবি শেয়ার’-এর অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি ঘটনায় মামলা হয়েছে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা কিংবা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব আইনের অস্পষ্টতা ও প্রয়োগের ধরন ভিন্নমত দমনের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ঘটনা–১: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে নিশাদ ইসলাম (২০) নামের এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৪ এপ্রিল মধ্যরাতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার হাজিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। ২৫ এপ্রিল সকালে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সালাম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

ঘটনা–২: প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের ছবি নিয়ে পোস্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি নিজের ছবির সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ২২ এপ্রিল পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে শাকিল আহমেদ (২৬) নামে এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে চিলাহাটি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সম্রাট তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। অভিযোগ, ফেসবুকে দেওয়া পোস্টটি ‘অশোভন’ ও ‘মানহানিকর’। 

ঘটনা–৩: চিফ হুইপকে নিয়ে কার্টুন

১৭ এপ্রিল কনটেন্ট নির্মাতা এ এম হাসান নাসিমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ—জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং হোয়াটসঅ্যাপে ব্ল্যাকমেল।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি একটি কার্টুন পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ওই সংসদ সদস্যকে চিত্রিত করা হয়েছিল এবং সংসদে তাঁর দেওয়া একটি রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছিল। 

মামলাটি করেন মো. নজরুল নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে নূরুল ইসলামের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর একটি ধারায় মামলা করা হয়।

ঘটনা–৪: ‘সরকারবিরোধী’ মন্তব্যের অভিযোগ

৫ এপ্রিল ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক সওদা সুমি ওরফে বিবি সওদা বেগমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের আগে তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন—‘আমরা তো চাইলে ইরান থেকে তেল আনতে পারি, তারা তো অনুমতি দিছে, তাহলে দুই-তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে কেন ভারত থেকে তেল আনা লাগবে?’

পুলিশের ভাষ্য, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সরকারবিরোধী’ মন্তব্য করেছিলেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে তখনো কোনো মামলা হয়নি, তবুও তাঁকে ৫৪ ধারায় আটক রাখা হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ৫৪ ধারা অতীতে নির্বিচার গ্রেপ্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই বিধানে কর্তৃপক্ষকে ‘আমলযোগ্য অপরাধের’ ক্ষেত্রে ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ পাওয়ার ভিত্তিতে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অতীতে এটি খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।  

ঘটনা–৫: প্রধানমন্ত্রীকে ‘অপমান’ করার অভিযোগ

২ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘অপমান করা’র অভিযোগে শাওন মাহমুদ নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জুশুরগাঁও এম রহমান কমপ্লেক্স এলাকায় শাওনের মালিকানাধীন রেস্তোরাঁয় ২৫–৩০ জন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মী জড়ো হন। পরে সেখানে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঘটনা–৬: প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত ছবি শেয়ার

২৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জামায়াত সমর্থক আজিজুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, তিনি ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ‘বিতর্কিত’ ছবি শেয়ার করেছিলেন।

ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা অভিযোগ করলে পুলিশ তাঁকে ৫৪ ধারায় আটক করে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ’ ও ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন’-এ মামলা করা হয়।

১ এপ্রিল একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর আটকের আদেশ বহাল রাখেন। বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ঘটনায় আবারো আইনের অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনা–৭: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার

২৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মো. আমিনুর শাহ (৩৮) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ও সুফিবাদ নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করতেন এবং অনুসারীদের কাছে ‘দরদী’ নামে পরিচিত ছিলেন। একটি বিতর্কিত স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে। পরে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চান এবং স্থানীয় এক আলেমের কাছে তওবা করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

উত্তেজনা প্রশমনে ২৮ এপ্রিল দুপুরে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিকেলে শোল্লা ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ মো. আলাউদ্দিন বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

ঘটনা–৮: ‘৭ মার্চের ভাষণ বাজানো’র অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি এবং ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ভিপি পদপ্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে গত ৭ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের আরও দুই সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রথমে অভিযোগ করা হয়, তাঁরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়।


প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর মুক্তি পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি

সমস্যার মূল কোথায়?

এই লেখায় যে আটজনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তাদের কেউ দুই দিন, কেউ দুই মাস কারাবন্দি ছিলেন। তাদের বেশিরভাগই এখন জামিনে মুক্ত। কিন্তু জামিনে মুক্তি পেলেই কি আইনি হয়রানি থেকে তাঁরা মুক্তি পাবেন? এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তাদেরকে এভাবে গ্রেপ্তারে সমস্যাটা কোথায়?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। একইভাবে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তি (আইসিসিপিআর) সরকার সমালোচনার অধিকারকে মৌলিক স্বাধীনতার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটিও বলেছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত মতামতও এই অধিকারের আওতায় পড়ে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মত, ব্যঙ্গ, সমালোচনা কিংবা বিতর্কিত কনটেন্টকে ক্রমশ অপরাধের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার বড় অংশ নিহিত রয়েছে আইনি কাঠামোর ভেতর। ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও এর অনেক ধারা এখনো অস্পষ্ট। কোন বক্তব্য ‘আপত্তিকর’, কোন পোস্ট ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা কোন মন্তব্য ‘উসকানিমূলক’—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব রয়েছে। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ব্যাপক ব্যাখ্যাগত ক্ষমতা থেকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা কিংবা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো বিধান অতীতেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে। এখনো সেই প্রবণতা বন্ধ হয়নি বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় নতুন আইনের সেই বিধানও লঙ্ঘিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল—ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁর প্রতিনিধিই কেবল অভিযোগ করতে পারবেন। সংস্থাটির মতে, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে, তা বাক্‌স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে।

ভিন্নমত কি আবারও অপরাধ হয়ে উঠছে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বহুবার সংকুচিত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারই কখনো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, কখনো ধর্মীয় অনুভূতি, কখনো মানহানির যুক্তি তুলে সমালোচকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করেছে। নতুন সরকারের প্রতি সবার প্রত্যাশা ছিল—তারা হয়তো সেই চক্র থেকে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারগুলো দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলালেও রাষ্ট্রীয় আচরণের ধরনে বড় কোনো পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়।

সমালোচকেরা বলছেন, যদি সরকারবিরোধী মত, ব্যঙ্গচিত্র, কার্টুন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে দমন করার প্রবণতা চলতেই থাকে, তবে তা শুধু নাগরিক স্বাধীনতাই নয়, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকেও দুর্বল করবে। রাষ্ট্রের শক্তি সমালোচনা সহ্য করার সক্ষমতায়—সমালোচককে কারাগারে পাঠানোর ক্ষমতায় নয়।

মন্তব্য করুন

Logo