Logo

১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

×

Follow Us

প্রাকৃতিক প্রজনন, অর্থনীতি ও অস্তিত্বের লড়াই

হালদা থেকে ডিম সংগ্রহ করছেন জেলেরা

কাভার স্টোরি

হালদা নদী

প্রাকৃতিক প্রজনন, অর্থনীতি ও অস্তিত্বের লড়াই

Icon

সিরাজুল ইসলাম আবেদ

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

হালদা থেকে ডিম সংগ্রহ গড়দুয়ারা গ্রামের মানুষের বহু দিনের নেশা ও পেশা। বংশপরম্পরায় অনেকে এই কাজের সঙ্গে জড়িত। এমনকি বিদেশে থাকা অনেক প্রবাসীও ডিম ছাড়ার মৌসুমে বাড়তি আয়ের আশায় দেশে ফিরে আসেন। ডিম থেকে মাছ হওয়া পর্যন্ত কোনো না কোনো ধাপে গ্রামের অধিকাংশ মানুষই সম্পৃক্ত।—বলছিলেন, গড়দুয়ারা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কামাল উদ্দিন সওদাগর। যিনি গত বছর হালদায় মাছের ডিম সংগ্রহের পাশাপাশি মা মাছ ও নদীর পরিবেশ রক্ষায় অবদানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে রৌপ্য পদক পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশের নদীব্যবস্থায় ব্যতিক্রম এক নদী হালদা। দেশের শত শত নদীর মধ্যে এটি শুধু আরেকটি নদী নয়; এটি একটি জীবন্ত প্রজননক্ষেত্র, একটি অর্থনৈতিক উৎস, একটি পরিবেশগত পরীক্ষাগার এবং একই সঙ্গে একটি সংকটাপন্ন প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন ধরে এই নদীকে ঘিরে নানা ধরনের আবেগ, কিংবদন্তি ও গর্বের গল্প প্রচলিত থাকলেও বাস্তবতা হলো—হালদার গুরুত্ব বোঝার জন্য আবেগ নয়, দরকার তথ্য, গবেষণা এবং বাস্তব বিশ্লেষণ।

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পূর্ব দিকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার গেলেই চোখে পড়বে হাটহাজারীর অত্যন্ত পরিচিত গড়দুয়ারা গ্রাম। গ্রামের পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে লক্ষ্মীমন্ত নদী হালদা। 

ছবি: হালদা নদী

প্রতি বছর অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জো-তিথিতে ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে হালদায় কার্পজাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ে। স্থানীয় তালুকদার হ্যাচারির স্বত্তাধিকারী শফিউল আলম তালুকদার জানালেন, সেই ডিম সংগ্রহ করে রেণু ফোটানো হয়, পরে তা পোনায় পরিণত করে পুকুরে চাষ করা হয়। এভাবেই বছরজুড়ে চলে শতকোটি টাকার মাছের ব্যবসা। 

এ বছরও ৩০ এপ্রিল প্রথম জো-তিথিতে তিন দফায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং দিন শেষে রাত ২টায় হলাদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে—হাটহাজারীর গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট, রাউজানের পশ্চিম গুজরার আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাটসহ কয়েকটি স্থানে কার্পজাতীয় মাছ—রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ ডিম ছাড়ে।মৎস্য বিভাগ ও সংগ্রহকারীদের তথ্যমতে, প্রায় আড়াইশ’ নৌকায় পাঁচ শতাধিক সংগ্রহকারী প্রায় ছয় হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন। গড়দুয়ারা গ্রামের লোকজনও তখন ডিম সংগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন। সাধারণত হালদার ডিম থেকে উৎপাদিত প্রতি কেজি রেণু বিক্রি হয় প্রায় দেড় লাখ টাকায়। গত ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হালদার রেণু বিক্রির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

ভৌগোলিক পরিচিতি ও প্রবাহপথ

হালদা নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে। খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা থেকে এর সূচনা। সেখানকার পাহাড়ি ঝর্ণা ও ছড়ার পানি মিলেই নদীটির প্রাথমিক ধারা তৈরি হয়।

এরপর নদীটি ফটিকছড়ি, হাটহাজারী এবং রাউজান উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষ পর্যন্ত কর্ণফুলী নদী-তে পতিত হয়। পুরো নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৬ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ প্রায় ১৩০-১৩৫ মিটার।

ছবি: হালদা নদী প্রকল্প অঞ্চল

নদীটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর সর্পিল বা বাঁকানো গঠন। এই ধরনের বাঁকগুলোকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় “অক্সবো” (oxbow) বলা হয়। এই গঠনই নদীর জলের গতি, স্রোতের প্রকৃতি এবং গভীরতার ভিন্নতা তৈরি করে—যা পরবর্তীতে মাছের প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কেন হালদা আলাদা: বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

বিশ্বের বিভিন্ন নদীতেই মাছ প্রজনন করে—এটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু হালদার বিশেষত্ব হলো, এখানে প্রাকৃতিকভাবে নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এই বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর অন্য কোনো নদীতে এই মাত্রায় ও ধারাবাহিকতায় দেখা যায় না।

বিশেষ করে কার্পজাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ মাছগুলো হালদায় প্রজননের জন্য আসে এবং তাদের নিষিক্ত ডিম সরাসরি সংগ্রহ করা হয়। এই ডিম থেকেই উৎপন্ন হয় উন্নতমানের পোনা, যা বাংলাদেশের মাছ চাষ শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

প্রজননের বৈজ্ঞানিক রহস্য

হালদা নদীর প্রজনন প্রক্রিয়াকে ঘিরে বহু গবেষণা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এখানে একাধিক ভৌত ও রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয় মাছকে প্রজননে উদ্দীপিত করে। নদীর বাঁকগুলোতে সৃষ্ট ঘূর্ণন (vortex) এবং গভীর খাদ বা “কুম” এলাকায় পানি স্থির ও পুষ্টিসমৃদ্ধ থাকে। এই কুমগুলোতে পাহাড়ি ঢল থেকে আসা জৈব পদার্থ জমা হয়, যা মাছের খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং তাদের প্রজননের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।

পানির তাপমাত্রা তুলনামূলক কম, দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা সহনীয় এবং পানির ঘোলাভাব বেশি—এই সবগুলো উপাদান একসঙ্গে মিলে একটি আদর্শ প্রজনন পরিবেশ তৈরি করে।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের সমন্বিত পরিবেশ পৃথিবীর অন্য কোনো নদীতে এত সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না। জানা গেল, গড়দুয়ারা ছাড়াও হাটহাজারী ও রাউজানের আজিমের ঘাট, পোড়া কপালীর ঘাট, কাগতিয়া মোড়, সিপাহীঘাট, কেমরতলীর বাঁক, কামন্দর আলী চৌধুরী ঘাট, অংকুরি ঘোনা, রামদাস মুন্সি হাট ও কুমিরখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট মৌসুমে মা মাছ ডিম ছাড়ে।

‘জো’ ও তিথি: প্রজননের সময়চক্র

হালদা নদীতে মাছের ডিম ছাড়ার সময়কে স্থানীয়ভাবে ‘জো’ বলা হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক সময়চক্রের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে, বিশেষ করে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের সম্মিলনে এই জো তৈরি হয়। তখন নদীর পানি ঘোলা, খরস্রোতা এবং ফেনিল হয়ে ওঠে।

পূর্ণ জোয়ার বা ভাটার শেষে যখন পানি কিছুটা স্থির হয়, তখনই মা মাছ ডিম ছাড়ে। এর আগে তারা অল্প পরিমাণ নমুনা ডিম ছাড়ে—যা একটি প্রাথমিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।

ছবি: হালদায় একযোগে চলছে ডিম সংগ্রহ

ডিম সংগ্রহের প্রথাগত পদ্ধতি

হালদা নদীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এখানে এখনো প্রাচীন পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহ করা হয়। নদীতে ছোট নৌকা নিয়ে জেলেরা মিহি জাল ব্যবহার করে ডিম সংগ্রহ করেন। এরপর সেই ডিম নদীর পাড়ে তৈরি করা মাটির কুয়ায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে তা ফোটানো হয়। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে এই ডিম থেকে রেণু (লার্ভা) তৈরি হয়, যা পরে পোনা হিসেবে বিভিন্ন হ্যাচারি ও খামারে সরবরাহ করা হয়। এই পদ্ধতি আধুনিক প্রযুক্তির বাইরে হলেও, এর কার্যকারিতা এবং টেকসই চরিত্র এখনো বজায় আছে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

হালদা নদী বাংলাদেশের মৎস্য অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর এখানে হাজার হাজার কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়। কিছু বছর আগে যেখানে ২৫ হাজার কেজি পর্যন্ত ডিম পাওয়া গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তা কমে প্রায় ১৪ হাজার কেজিতে নেমে আসে।

তবে, এ বছর আবার মানুষের মনে আশা জেগেছে। হালদা গবেষক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া জানালেন, এবার পূর্ণিমার প্রথম জো-তে তিন দফায় প্রায় ছয় হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও তিনটি জো বাকি রয়েছে। অনুকূল পরিবেশ থাকলে অমাবস্যার জো-তেও মা মাছ ডিম ছাড়বে। আগের বছর প্রায় ১৪ হাজার কেজি কার্পজাতীয় মাছের ডিম পাওয়া গিয়েছিল এবং হালদার ডিমকে কেন্দ্র করে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। 

ডিম থেকে উৎপাদিত পোনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ চাষে ব্যবহৃত হয়, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে। এছাড়া নদীটির দুই তীরের হাজারো পরিবার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই ডিম সংগ্রহ ও পোনা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত।

পানিসম্পদ হিসেবে হালদা

হালদা নদী শুধু মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; এটি চট্টগ্রাম শহরের একটি প্রধান পানির উৎস।চট্টগ্রাম ওয়াসা এই নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে শোধন করে শহরের মানুষের কাছে সরবরাহ করে। মোহরা পানি শোধনাগারের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই নদীর পানিতে ভারী ধাতুর পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানের মধ্যে রয়েছে, যা এটিকে একটি নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব

হালদা নদী শুধু কার্পজাতীয় মাছের জন্য নয়, আরও অনেক প্রজাতির জলজ প্রাণীর আবাসস্থল। এখানে গলদা চিংড়ি, বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ, জলজ উদ্ভিদ এবং অণুজীবের একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে। এই বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হলে শুধু মাছের প্রজনন নয়, পুরো নদী ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাব

হালদা নদীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি গড়ে উঠেছে।এই নদী নিয়ে তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র—যেমন হালদা, যেখানে নদী ও জেলেদের জীবনচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসা অর্জন করে। নদীটি নিয়ে গবেষণা, সাহিত্য, গণমাধ্যম—সব জায়গায় আগ্রহ রয়েছে, যা এটিকে একটি সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত করেছে।

সংরক্ষণ ও স্বীকৃতির প্রশ্ন

হালদা নদী সংরক্ষণ এখন শুধু সময়ে দাবি নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ জীববৈচিত্র রক্ষায়ও জরুরি। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সরকার হালদাকে দেশের প্রথম ‘মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হালদা নদী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ইউনেস্কো-র বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই স্বীকৃতি পেতে হলে নদীটির পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমান সংকট ও চ্যালেঞ্জ

হালদা নদী এখন নানা ধরনের সংকটের মুখে। পানির স্বল্পতা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, শিল্পবর্জ্য, কৃষিজ রাসায়নিক, বালু উত্তোলন, নৌযান চলাচল—সব মিলিয়ে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে। এর ফলে মাছের ডিম উৎপাদন কমে যেতে শুরু করে ছিল এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে, ভবিষ্যতে হালদার প্রজনন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ছবি: নদী পাড়ে বেড়েছে কলকারখানা, বাড়ছে দূষণ

হালদা টিকে থাক অনন্তকাল

হালদা নদীকে শুধু “বিস্ময়” বলে আখ্যা দিলে এর গুরুত্ব বোঝানো যায় না। এটি একটি জটিল প্রাকৃতিক ব্যবস্থা, যা বিজ্ঞান, অর্থনীতি, পরিবেশ এবং মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই নদী টিকে থাকলে শুধু একটি নদীই টিকে থাকবে না—টিকে থাকবে একটি প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা, একটি অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং একটি জীবন্ত ঐতিহ্য। তাই হালদাকে রক্ষা করা মানে শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য, অর্থনীতি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

মন্তব্য করুন

Logo