বরগুণার পাথরঘাটা সমূদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের মৃত তিমি (ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত)
ভাল নেই বঙ্গোপসাগর, ভাল নেই সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
মুহাম্মদ আবদুর রহমান
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
সুন্দরবন থেকে সোজা দক্ষিণে অবস্থিত পৃথিবীর দ্বিতীয় গভীরতম খাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরের তিমি, ডলফিনের একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত। সেখানে অসংখ্য তিমি, ডলফিন বসবাস করে। সম্প্রতি কুয়াকাটা সমূদ্র সৈকতে মৃত ডলফিন ভেসে আসার আসার ঘটনা ঘটছে পর পর কয়েকটি। এবার বরগুণার পাথরঘাটা সমূদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের মৃত তিমি।
তিমি অগভীর পানিতে থাকেনা। গভীর সমূদ্রে বিচরণ করে যে কারণে এদের নিরাপদ আবাসস্থল সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। পাথরঘাটা সমূদ্র সৈকতের যেখানে এই মৃত তিমি পাওয়া গিয়েছে সেখান থেকে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের দূরত্ব অনধিক ৪৫ কিলোমিটার। সহজেই ধারণা করা যায় সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কিংবা তার আশেপাশে এই তিমিটি মারা গিয়ে জোয়ারের স্রোতের সাথে ভেসে পাথরঘাটা সমূদ্র সৈকতে এসে আটকে গেছে। এই বিশালাকার তিমিটি মারা যাওয়ার কারণ কি?
সচরাচর তিমি মারা যাওয়ার পেছনে খাদ্য সংকট, খাবারের বদলে প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে ফেলা, পানি মারাত্মক রকমের দূষিত হয়ে উঠা, পানিতে অতিরিক্ত শব্দ, বড় জাহাজের সাথে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়াকে দায়ী করা হয়। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এবং তার আশেপাশে জাহাজ চলাচল করার সুনির্দিষ্ট কোন কারণ এবং অনুকূল পরিবেশ নেই। এই গভীর খাত বরাবর সচরাচর জাহাজ চলাচল করেনা। এর বাইরের যে কারণগুলোকে তিমি মারা যাওয়ার জন্য দায়ী ধরা হয় সেগুলো ঘটে থাকলে বঙ্গোপসাগর ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের পরিস্থিতি ভয়াবহ। হয়ত বর্তমান সময়ে বঙ্গোপসাগরে এমন কোন গোপন কর্মকান্ড চলছে যা বঙ্গোপসাগরের গভীরতম স্থানগুলোতে বিপদসংকুল করে তুলেছে। এমনিতেই কিছুদিন যাবত কানাঘুষা চলছে নানা দেশ, নানা পরাশক্তি বঙ্গোপসাগর দখলে নিতে বহুমুখী তৎপরতায় লিপ্ত। এমন হলে সামনে বাংলাদেশ নিশ্চিত একটি ধ্বংসযজ্ঞের কাছাকাছি বাস করছে। এর বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তিমির খাদ্য সংকটের মত ঘটনায় মারা গেলেও তাও আমাদের জন্য শুভ নয়।
বাংলাদেশের উপকূলীয় তটরেখা ধরে বঙ্গোপসাগর যেভাবে দূষিত হয়ে উঠছে তা যদি সোয়াচ অব মো গ্রাউন্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হয় তাহলে এই সাগর অচিরেই বাংলাদেশ নামক জনপদকে ধ্বংস করে ছাড়বে তা অনায়াসে বলা যায়। এখন প্রয়োজন এই ডলফিন, তিমির মৃত্যুর জন্য আসল কারণ কি এবং কারণ চিহ্ণিত করে তা সমাধানে যৌক্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।
মন্তব্য করুন

