ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত
মাদ্রাসা শিক্ষায় শিশুর নিরাপত্তা
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার চেয়ে শিশুর জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা অনেক বড়। নির্যাতনের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করে জবাবদিহি, নজরদারি ও কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অতিজরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু যায় শিখতে, মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে এবং নিরাপদ পরিবেশে সম্মানের সঙ্গে বেড়ে উঠতে। অভিভাবকেরা সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠান ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ের প্রত্যাশায়। বিশেষত আবাসিক মাদ্রাসায় শিশু দিনের বড় অংশ কাটায় পরিবারের সান্নিধ্যের বাইরে। সেখানে তখন আর শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু পাঠদানে সীমাবদ্ধ থাকে না। শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায়। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যখন যৌন নির্যাতন, শারীরিক নিপীড়ন কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে, তখন তাকে কেবল কোনো ব্যক্তির অপরাধের ব্যাপার বলা যায় না। এখানে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।
মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার সাম্প্রতিক তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। Dhaka Stream-এর ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা বিশ্লেষণ করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের অন্তত ৩৭টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব শিক্ষার্থী সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের মধ্যে ২৯ জন ছেলে ও আটজন মেয়ে। ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে ২৫টি ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে মাদ্রাসাশিক্ষকদের নাম এসেছে। অধিকাংশ ভুক্তভোগীর বয়স সাত থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে নথিভুক্ত নারী ও শিশু ধর্ষণের ৪১৫টি ঘটনার অন্তত ২৫টি ঘটেছিল বিভিন্ন মাদ্রাসায়।
Dhaka Stream-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে,
আরও উদ্বেগের সঙ্গে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের নথিভুক্ত ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ২৩টি, অর্থাৎ প্রায় ৫৯ শতাংশ, ঘটেছিল মাদ্রাসায়। একই প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসেরও কম সময়ে দেশের অন্তত ১৮টি জেলায় মাদ্রাসাশিক্ষক, অধ্যক্ষ ও সুপারিনটেনডেন্টদের বিরুদ্ধে শিশুদের ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের অন্তত ৩০টি ঘটনার কথা বলা হয়েছে।
শিশু নির্যাতনের সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে সেখানেও উদ্বেগজনক চিত্র চোখে পড়ে। International Society for Human Rights (ISHR)-এর ‘Bangladesh: Endangered Childhood’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উপাত্ত উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১ হাজার ৮৯০ জন শিশু গুরুতর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ৫৮০টি এবং সরাসরি যৌন নিপীড়নের ৩১৮টি ঘটনা আছে। প্রতিবেদনে ২০ মাসে ধর্ষণ ও গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের পর ৬৪৩ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্যের উৎস ও শ্রেণিবিন্যাস বিবেচনায় রেখে বলা যায়, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা কেবল মাদ্রাসার সমস্যা নয়। এটা জাতীয় শিশু সুরক্ষাব্যবস্থার তীব্র সংকট। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত এসব তথ্য বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে সংকটের গভীরতা বোঝা যাবে না। এখানে শিশুর নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ক্ষমতার অসমতা, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা, সামাজিক নীরবতা এবং বিচারহীনতার আশঙ্কা।
সমস্যার শিকড় কোথায়
প্রথমত, আমাদের দেশে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের মধ্যে ক্ষমতার ব্যাপক অসমতা আছে। আবাসিক প্রতিষ্ঠানে এই অসমতা আরও প্রকট। শিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তি, অপমান কিংবা পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় শিশুকে প্রতিবাদ করা থেকে বিরত রাখে। অপরাধী যখন সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তখন শিশুর পক্ষে তা প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিশু নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রকৃতি বুঝে ওঠার আগেই ভয়, লজ্জা কিংবা অপরাধবোধে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।
দ্বিতীয়ত, অনেক প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। শিক্ষক নিয়োগের সময় শিশুর সঙ্গে আচরণের মানদণ্ড ও পেশাগত নৈতিকতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয় কিনা, সেই ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার যুক্তি আছে। শিক্ষক হওয়ার জন্য বিষয়জ্ঞান ও ধর্মীয় জ্ঞান প্রয়োজন, কিন্তু সেটুকুই যথেষ্ট নয়। শিশুর অধিকার সম্পর্কে জানা, তার ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করা, শাস্তির পরিবর্তে ইতিবাচক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অভিযোগের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার যোগ্যতাও নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার নামে অভিযোগ গোপন করার প্রবণতা সবচেয়ে বিপজ্জনক। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা, ভুক্তভোগী শিশুকে চুপ থাকতে বলা কিংবা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে অপরাধ কমে না, বরং অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চতুর্থত, মাদ্রাসার ধরন ও প্রশাসনিক কাঠামোভেদে তদারকির ব্যবস্থাও ভিন্ন। স্বীকৃত, অনিবন্ধিত, আবাসিক ও অনাবাসিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নজরদারি ও জবাবদিহির বাস্তবতা এক নয়। বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই, সেখানে শিক্ষার্থী কতজন, শিক্ষক কারা, আবাসনের ব্যবস্থা কেমন এবং অভিযোগ জানানোর সুযোগ আছে কিনা- এসব বিষয়ে কার্যকর তদারকি কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় পরিচয়ে পরিচালিত হলেই শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।
আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও অপমানজনক শাস্তি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা আছে। শিশু আইন, ২০১৩ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-সহ বিদ্যমান আইনে শিশুদের সুরক্ষা ও অপরাধের বিচারসংক্রান্ত বিধান আছে। কিন্তু আইন থাকা আর শিশুর জন্য বাস্তবে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হওয়া এক কথা নয়। অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা অকার্যকর হলে, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলে কিংবা প্রভাবশালী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনীহা থাকলে আইন তার প্রত্যাশিত সুরক্ষা দিতে পারে না।
এখানে জবাবদিহির প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে দায় কেবল অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অভিযোগ জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়া, ভুক্তভোগীকে চুপ করিয়ে দেওয়া কিংবা তদন্তে বাধা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অপরাধের সঙ্গে সমানভাবে দায়ী হবে। প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অভিযোগ পাওয়ার পর কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা যাচাইয়ের বাইরে থাকতে পারে না।
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। সেইসাথে রাষ্ট্রীয় তদারকি সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সমাজেরও। অভিযোগের তদন্ত ও বিচার এমন হতে হবে, যাতে ভুক্তভোগী শিশু আবার হয়রানি বা সামাজিক অপমানের শিকার না হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করতে হবে।
করণীয় কী
প্রথমে, সব মাদ্রাসার জন্য বাস্তবসম্মত ও বাধ্যতামূলক শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, শিক্ষক ও কর্মচারীদের পরিচয় যাচাই, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন, তদারকি এবং অভিযোগ ব্যবস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রতিটি মাদ্রাসায় শিশুদের জন্য সহজ, গোপনীয় ও নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। শিশুরা যেন শুধু অভিযুক্ত শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে অভিযোগ জানাতে বাধ্য না হয়। অভিভাবক, স্বাধীন অভিযোগ গ্রহণকারী ব্যক্তি বা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর বিকল্প পথ থাকতে হবে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের একান্তে কথা বলার এবং প্রয়োজন হলে বাইরের সহায়তা চাওয়ার অধিকার থাকতে হবে।
তৃতীয়ত, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগীকে অভিযুক্তের সংস্পর্শ থেকে নিরাপদে সরানো, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আইনগত সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুর পরিচয়, ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য ও বক্তব্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। অভিযোগের তদন্তের নামে শিশুকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ, ভয় দেখানো কিংবা সামাজিকভাবে অপদস্থ করা চলবে না। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করতে হবে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
চতুর্থত, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে শিশু অধিকার, নিরাপদ আচরণ, ইতিবাচক শৃঙ্খলা, যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শুধু শিক্ষক নন, আবাসিক তত্ত্বাবধায়ক, কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিশুদেরও বয়সোপযোগী ভাষায় ব্যক্তিগত সীমারেখা, অনিরাপদ আচরণ চেনা এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। এর অর্থ ধর্মীয় শিক্ষার বিরোধিতা নয়, বরং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে শিশুর মর্যাদা ও অধিকারকে বাস্তব চর্চায় যুক্ত করা।
পঞ্চমত, নিয়মিত ও স্বাধীন পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিদর্শন যেন শুধু কাগজপত্র যাচাই বা অবকাঠামো দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিরাপদ ও গোপনীয়ভাবে কথা বলা, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা পরীক্ষা করা, আবাসিক পরিবেশ মূল্যায়ন করা এবং আগের অভিযোগের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা যাচাই করাও এর অংশ হতে হবে। গুরুতর অভিযোগ গোপন করা বা তদন্তে বাধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
ষষ্ঠত, সরকারকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত, নির্ভরযোগ্য ও শ্রেণিবিন্যস্তভাবে প্রকাশ করতে হবে। কয়টি অভিযোগ এসেছে, কয়টি তদন্তাধীন, কয়টির বিচার হয়েছে এবং কোথায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব তথ্য থেকে নীতিনির্ধারকেরা সমস্যার প্রকৃতি বুঝতে পারবেন। অবশ্যই তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় গোপন রাখতে হবে।
সবশেষে, অভিভাবক ও সমাজকে নীরবতার সংস্কৃতি ভাঙতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা মানেই ধর্মের বিরোধিতা করা- এমন ধারণা পরিহার করা জরুরি। আমাদের বুঝতে হবে যে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ হচ্ছে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিশুর মর্যাদা নিশ্চিত করা। মাদ্রাসার শিক্ষক, আলেম, পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে স্পষ্ট করতে হবে, শিশুর প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার অজুহাতে আড়াল করা যাবে না।
মাদ্রাসাশিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু প্রতিষ্ঠান নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিচ্ছে। তাদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই বাস্তবতা শিশু নির্যাতনের অভিযোগকে ছোট করে দেখার যুক্তি হতে পারে না। সৎ ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থেই স্বচ্ছতা, কার্যকর নজরদারি এবং অপরাধের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অবস্থান প্রয়োজন।
একজন শিশু কোথায় পড়ছে, তার পরিচয় কী, তার পরিবার কতটা প্রভাবশালী- এসবের ভিত্তিতে নিরাপত্তার অধিকার ভিন্ন হতে পারে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শিশুকে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেওয়া নয়, সেখানে তার নিরাপদে থাকা ও শেখার অধিকার নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
মন্তব্য করুন

